আলীকদমে এসএসসি-দাখিলের ফল: পাসের হার ৫৪.৮৯%, শীর্ষে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১০, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন /
আলীকদমে এসএসসি-দাখিলের ফল: পাসের হার ৫৪.৮৯%, শীর্ষে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল

এসএসসির সাত বিদ্যালয়ে গড়ে পাস ৫৬.৭৭%; দাখিলে ইসলামিয়া মাদরাসায় পাস ৪০.৫৪%

বিশেষ প্রতিনিধি, আলীকদম (বান্দরবান): ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদরাসায় মোট ৩৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯১ জন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪.৮৯ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

তবে ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে—৯৭.৬২ শতাংশ। উপজেলার ৮টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে ৬টিই পেয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে, মাত্র ১৫.৫২ শতাংশ।

অপরদিকে আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৪০.৫৪ শতাংশ। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং উত্তীর্ণ হয় ১৫ জন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

এসএসসিতে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে সর্বোচ্চ সাফল্য

উপজেলার সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৭.৬২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।

আলীকদম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮০.৯৬ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে এবং ২৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৬৫.০৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

আলীকদম সেন্ট মেরী স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১.৭৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্বেষা কলেজিয়েট স্কুলের ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩.৩৩ শতাংশ।

আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৫.৬১ শতাংশ।

সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন পাস করেছে এবং ৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৫.৫২ শতাংশে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর গড় পাস ৫৬.৭৭%

শুধু সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফল বিবেচনায় মোট ৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ হিসাবে পাসের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ। এ সাতটি বিদ্যালয় থেকে মোট ৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

এর সঙ্গে আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ৩৮ জন পরীক্ষার্থীকে যুক্ত করলে মোট পরীক্ষার্থী দাঁড়ায় ৩৪৮ জন এবং উত্তীর্ণের সংখ্যা হয় ১৯১। সে হিসাবে উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক ও দাখিল মিলিয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়ায় ৫৪.৮৯ শতাংশ।

ফলাফলে বড় ব্যবধান, উদ্বেগ শিক্ষানুরাগীদের

ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি কম ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের মতে, আলীকদমের মতো দুর্গম পার্বত্য উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফলাফলের এমন বড় ব্যবধানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক সংকট, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের নানা সীমাবদ্ধতা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের অভাব এবং পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

তাদের মতে, শুধু ফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই হবে না; যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পাঠদানের মানও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিভাবকেরা প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদরাসায় পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক ক্লাস চালু এবং শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আলীকদমের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে আলীকদমের শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে।