
আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদাদাতা:
বান্দরবানের নৈসর্গিক পাহাড় দেখতে এসে প্রাণ হারালেন কক্সবাজারের চকরিয়ার দুই বাসিন্দা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালু সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকবাহী একটি ‘চাঁদের গাড়ি’ (খোলা জিপ) গভীর খাদে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে থানচি উপজেলার ডিমপাহাড়-টেন্ডুমুখ সড়কের টেন্ডুমুখ বিজিবি নৌ-চেকপোস্টের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও পাঁচ পর্যটক।
নিহতরা হলেন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সামছু মিয়ার ছেলে মো. জিয়াবুল (৩৫) এবং মোজাহের হোসেনের ছেলে মো. জসিম ওরফে পালিশ (৩৭)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন শীষ মো. রাসেল (৩৮), লিটন সিকদার (৩৭), লিটন ড্রাইভার (৪০), কাদের হোসেন খলিফা কাদির (৪১) এবং শাহজালাল হোসেন (৩৫)।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, খুটাখালী থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ে সাতজনের দলটি পাহাড়ি সড়ক বেয়ে তিন্দু ও টেন্ডুমুখ এলাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। গাড়িটি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ডিমপাহাড় থেকে টেন্ডুমুখ নৌ ঘাটের দিকে নামার সময় টেন্ডুমুখ নৌ চেকপোস্টের প্রায় ৬০০ মিটার আগে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তে গাড়িটি সড়কের পাশের এক গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নির্দেশে টেন্ডুমুখ ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খাদ থেকে দুইজনের লাশ এবং আহতদের উদ্ধার করা হয়।
আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিয়েল চাকমা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিজিবির সহায়তায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিহতদের বিষয়টি থানচি থানা পুলিশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :