অরণ্যের শিক্ষাঙ্গন: আলীকদম কলেজের স্বপ্ন ও সাধনা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ন /
অরণ্যের শিক্ষাঙ্গন: আলীকদম কলেজের স্বপ্ন ও সাধনা

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।


পাহাড়ের কোলে এক নিরবধি প্রশ্ন:

বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ আলীকদম। সবুজ অরণ্যে আচ্ছাদিত এই অঞ্চলের নাম শোনা যায় ইতিহাসের পাতায়—১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে শাহ সুজার হত্যাকাণ্ডের পর মোঘল বাহিনীর পদচিহ্নে। কিন্তু আলীকদমের প্রকৃত পরিচয় নিহিত নেই শুধু ইতিহাসের ধুলোয়, বরং এর রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্য—জ্ঞানের অন্বেষণ এবং শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বালানোর অদম্য প্রচেষ্টা।

এই পাহাড়ি জনপদে, যেখানে প্রকৃতি তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে, সেখানেও মানুষের হৃদয়ে ছিল এক চিরন্তন প্রশ্ন: শিক্ষা কোথায়? জ্ঞানের আলো কোথায়? আমাদের সন্তানরা কোথায় পাবে সেই মূল্যবান রত্ন যা তাদের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করবে?

কুরআন শরীফে আল্লাহ বলেছেন:

“পড়ুন, আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন, আর আপনার প্রভু অত্যন্ত মহান, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।” (আল-কুরআন, ৯৬:১-৪)

এই আয়াতটি শুধু একটি নির্দেশ নয়, এটি মানবতার জন্য একটি চিরন্তন আহ্বান। শিক্ষা হলো মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম, জ্ঞান হলো অন্ধকার থেকে আলোতে আসার পথ। আর এই সত্যটি আলীকদমের মানুষ বুঝত, কিন্তু তাদের সন্তানরা পায়নি সেই সুযোগ।

দীর্ঘ অপেক্ষার যুগ:

পূর্ব পাকিস্তান আমলে―১৯৬৫ সালে যখন আলীকদম মৌলিক ইউনিয়ন গঠিত হয়, তখন এই অঞ্চলে শিক্ষার প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা যখন মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তাদের সামনে খোলে এক অনিশ্চয়তার দরজা।

১৯৭৬ সালে মুহাম্মদ আবু জাফর চৌধুরী এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিদের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আলীকদম উচ্চ বিদ্যালয়। এরপর ১৯৭৮ সালে আসে আলীকদম ইসলামিয়া মাদরাসা। তাঁদের সাথে যুক্ত হন তৎকালীন সমাজের নেতৃস্থানীয়রাও। এই দুটি প্রতিষ্ঠান পার্বত্য এই জনপদে মাধ্যমিক শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর? তখন আলীকদমের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয় অন্যত্র যেতে, অন্য জেলায় যেতে, তাদের পরিবার থেকে দূরে যেতে। এই বেদনা, এই অপূর্ণতা, এই বঞ্চনা—এটি ছিল আলীকদমের মানুষের হৃদয়ের চিরন্তন ক্ষত।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন:

“শিক্ষা হলো সর্বোচ্চ মানের জীবন। এটি শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং চরিত্র গঠন এবং মন বিকাশের প্রক্রিয়া।”

আর এই চরিত্র গঠন এবং মন বিকাশের প্রক্রিয়া যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন সমগ্র সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলীকদমের মানুষ এটি বুঝত, কিন্তু তাদের হাত ছিল বাঁধা, তাদের সম্পদ ছিল সীমিত, তাদের নেতৃত্ব ছিল দুর্বল। শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ছিলো তাদের চোখে বিষতুল্য।

২০০৮-২০১৮ সালে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা:

২০০৮ সালে একটি নতুন আলো ছড়িয়ে পড়ে আলীকদমে। নিবন্ধের লেখকসহ স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-যুবকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়। সে উদ্যোগে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে শামিল হয় স্থানীয় সেনা জোন ও উপজেলা প্রশাসন। ২০১৫ সালে এই নিবন্ধের লেখক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়ে আরও স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী এবং একজন শিক্ষিকার উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয় ‘আলীকদম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ’। এটি ছিল একটি সাহসী পদক্ষেপ, একটি স্বপ্নের প্রথম পদার্পণ। এরপর ২০১৬ সালে অন্বেষা স্কুল ও চৈক্ষ্যং পাবলিক স্কুল, ২০১৮ সালে ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল ও সেন্ট মেরিস স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এইসব প্রতিষ্ঠান অত্র অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করে। এখানে শিক্ষার্থীরা পায় মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ।

কিন্তু এটি ছিল অপূর্ণ। আলীকদমের স্বতন্ত্র একটি কলেজ—এই স্বপ্ন তখনও অধরা ছিল। এই স্বপ্ন ছিল ‘অমাবস্যার চাঁদ’—দৃশ্যমান, কিন্তু অস্পৃশ্য।

হাদীস শরীফে নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:

“জ্ঞান অর্জন প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ (বাধ্যতামূলক)।” (ইবন মাজা)

এই হাদীসটি শুধু ব্যক্তিগত জ্ঞান অর্জনের কথা বলে না, বরং সমাজের দায়িত্বও নির্দেশ করে। একটি সমাজ যখন তার সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দিতে পারে না, তখন সেই সমাজ তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করছে না।

নেতৃত্বের আলোকবর্তিকা:

২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র একটি উদ্দীপনাময় বক্তব্য আলীকদমের শিক্ষাঙ্গনে আনে এক অভূতপূর্ব জাগরণ। মন্ত্রী আক্ষেপের সাথে উল্লেখ করেন: “বান্দরবানের ছয়টি উপজেলায় কলেজ থাকলেও শুধুমাত্র আলীকদম পিছিয়ে আছে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সরকার কলেজ নির্মাণে ফান্ড দিবে।”

এই বক্তব্য ছিল একটি আয়না—যা আলীকদমের মানুষকে দেখিয়ে দেয় তাদের অবস্থান, তাদের বঞ্চনা, তাদের অধিকার। এটি ছিল একটি জাগরণের ডাক।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষানুরাগী মহলে সৃষ্টি হয় প্রবল আলোড়ন। শুরু হয় কলেজ প্রতিষ্ঠার জোরদার উদ্যোগ।

কনফিউশিয়াস বলেছেন:

“নেতৃত্ব হলো অনুপ্রেরণা দেওয়ার শিল্প। একজন প্রকৃত নেতা তার মানুষকে দেখায় তারা কী হতে পারে।”

বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ঠিক এটাই করেছেন। তিনি আলীকদমের মানুষকে দেখিয়েছেন যে তারাও পারে, তারাও পাবে সেই অধিকার যা তাদের প্রাপ্য।

স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা:

আলীকদম থানা/উপজেলা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪০ বছর ৮ মাস ৩ দিন পর, ২০২৩ সালের ৭ জুলাই ‘আলীকদম কলেজ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সমাজসেবক। এবং এই মহান উদ্যোগে একজন সদস্য হিসেবে, জনসংযোগ উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে এবং চারজন উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পান লেখক নিজেই। তৎকালীন ইউএনও জাবের মো: সোয়াইব, জামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, অংশেথোয়াই মার্মা এবং প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদনপত্র জমা করা হয়।

১৯ সদস্য নিয়ে গঠিত কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হয় এক অসাধারণ যাত্রা। সাতটি দলিলে মোট ৭ একর ৮৪ শতাংশ জমি দানপত্র মূলে সংগ্রহ করা হয়। এই জমি সংগ্রহ ছিল শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি জমির মালিক যখন তাদের জমি দান করেছেন, তখন তারা দান করেছেন তাদের স্বপ্নও, তাদের আশাও, তাদের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের বিশ্বাসও।

সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এবং ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর কলেজের নিজস্ব জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এই মুহূর্তটি ছিল আলীকদমের মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় আনন্দঘন মুহূর্ত।

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলেছেন:

“শিক্ষা হলো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি কখনো চুরি হয় না, কখনো হারিয়ে যায় না, এবং কখনো ধ্বংস হয় না।”

আর এই মূল্যবান সম্পদ এখন আলীকদমের মানুষ পাবে তাদের নিজস্ব কলেজে।

সহযোগিতার হাত:

এই স্বপ্নযাত্রায় আলীকদমের পাশে এসে দাঁড়িয়ে যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও এবং জেলা প্রশাসন। পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘উপানুষ্ঠানিক পত্র’ প্রেরণ করা হয় এবং কলেজ নির্মাণের জন্য পাঁচ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই পাঁচ কোটি টাকা শুধু একটি সংখ্যা নয়। এটি একটি প্রতিশ্রুতি, একটি প্রতিজ্ঞা, একটি স্বপ্নের মূর্ত প্রতীক। এই অর্থ দিয়ে নির্মিত হবে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ—যেখানে আলীকদমের শিক্ষার্থীরা পাবে সম্পূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ।

সকলের এই সম্মিলিত যাত্রা এবং সহযোগিতায় চারজন উদ্যোক্তা নিয়মিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাথে কলেজ স্থাপন অনুমতি পেতে জোর তৎপরতা শুরু করে। তারা আলীকদমের শিক্ষাদারিদ্র্য দূরীকরণে হয়ে উঠেন এক শক্তিশালী অনুঘটক। এটি প্রমাণ করে যে যখন নেতৃত্ব থাকে, যখন সংকল্প থাকে, যখন সমাজের মানুষ একসাথে কাজ করে, তখন কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

ভবিষ্যতের সূর্যোদয়

আলীকদম কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষালাভ করা শুরু করেছে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আর বেশি দূরে নয়, যেদিন ‘আলীকদম কলেজ’ নামক এই বটবৃক্ষ তার স্নিগ্ধ ছায়া বিস্তার করবে এবং আলীকদমসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের সুধা পান করবে। পাহাড়ের নির্মল পরিবেশে শিক্ষার্থীরা আলোকিত ভবিষ্যতের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এই কলেজ শুধু একটি ভৌত স্থাপনা হবে না। এটি হবে জ্ঞানের মন্দির, আশার আলোকবর্তিকা, স্বপ্নের সাকার রূপ। এখানে শিক্ষার্থীরা শিখবে শুধু বই থেকে নয়, শিখবে প্রকৃতি থেকে, শিখবে জীবন থেকে।

কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন:

“এবার মহা-নিশার শেষে আসবে ঊষা অরুণ হেসে করুণ বেশে! দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু-চাঁদের কর! আলো তার ভরবে এবার ঘর। তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!”

আলীকদমের জন্য এই মুহূর্তটি ঠিক এটাই—মহা-নিশার শেষে ঊষা অরুণের আগমন। শিক্ষার আলো এখন ভরবে আলীকদমের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে।

কৃতজ্ঞতা এবং প্রতিশ্রুতি:

এই শুভ উদ্যোগে যারা দূর থেকে কাছে থেকে স্বপ্নসারথী হয়েছেন, তাদের প্রতি রইল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। তারা বুঝেছেন যে শিক্ষা হলো সমাজের মেরুদণ্ড, এবং এই মেরুদণ্ড শক্তিশালী করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

আর যারা সমালোচনা এবং কটাক্ষ করেছেন, তাদের নিস্ফল ধিক্কার আজ তপোবনের দ্বারে আবর্জনার মতো পড়ে আছে। কারণ সত্যের পথ সবসময় বাধাবহুল, কিন্তু সত্য সবসময় বিজয়ী। সমাজে যারা অগ্রগামী তাদের পেছনে লেগে থাকার অসৎ মানসিকতার মানুষই বরং সমাজে বেশী দেখা যায়। আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামীদের বেলায়ও তাই ঘটেছে। তবে ‘সত্য সমাগত, মিথ্য অপসৃত, মিথ্যার পতন অবশ্যম্ভাবী’।

আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে এই কলেজটি হবে শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্র, চরিত্র গঠনের আঁতুড়, এবং জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। এখানে শিক্ষার্থীরা শিখবে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, শিখবে জীবনের সত্যিকারের পাঠ। শিখবে সততা, সাহস, এবং সেবার মূল্যবোধ।

জ্ঞানবৃক্ষের সুঘ্রাণ:

অবশেষে, কন্ঠ ভরে বলতে চাই, ‘আলীকদম কলেজ’-এর জ্ঞানবৃক্ষের সুঘ্রাণ সকলের জন্য উন্মুক্ত। এটি শুধু আলীকদমের সন্তানদের জন্য নয়, এটি হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল শিক্ষার্থীর জন্য এক আশ্রয়স্থল।

এই কলেজ প্রতিষ্ঠার যাত্রা আমাদের শেখায় যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন তিনটি জিনিস: প্রথমত, একটি স্পষ্ট লক্ষ্য এবং অটুট সংকল্প; দ্বিতীয়ত, সমাজের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ত্যাগ; এবং তৃতীয়ত, একটি দূরদর্শী নেতৃত্ব যা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

আলীকদম কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে না, এটি হবে একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক—যা প্রমাণ করবে যে অসম্ভব বলে কিছু নেই, যখন মানুষ একসাথে কাজ করে।

আমরা বিশ্বাস করি যে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা হবে আগামীর নেতা, আগামীর পথপ্রদর্শক। তারা নিয়ে আসবে পরিবর্তন, নিয়ে আসবে উন্নয়ন, নিয়ে আসবে আশা এবং আলো।

কারণ শিক্ষাই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার যা মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে, অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে, এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে।

“শিক্ষা হলো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। এবং আলীকদম কলেজ হবে সেই উপহার বিতরণের কেন্দ্র।” “এবার মহা-নিশার শেষে আসবে ঊষা অরুণ। আলীকদমের আকাশে উদিত হবে জ্ঞানের সূর্য।”


লেখক: সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

মোবাইল: 01556-560126 / 01645-950296

ইমেইল: momtaj.news@gmail.com

তারিখ: 08/05/2026 খিষ্টাব্দ।