আলীকদমে চৈক্ষ্যং ইউপিতে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন / ০
আলীকদমে চৈক্ষ্যং ইউপিতে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১৫ জনের বেশি তালিকাভুক্তির দাবি, তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন

এপিসি ডেস্ক:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ১৫ জনের বেশি রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।

১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদসহ ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নথি তৈরির ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এর আগে একাধিকবার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে ২০২৫ সালের ভোটার হালনাগাদে তাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে জানান ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক আমির সাদেকী। তাঁর দাবী, ভোটার হওয়ার আবেদন ও সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই করা হলে জন্মনিবন্ধন কার্যালয়, নিবন্ধনের তারিখ, পিতা-মাতার পরিচয় এবং ঠিকানাসংক্রান্ত অসংগতি পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগের সঙ্গে সন্দেহভাজন ১৫ জনের একটি তালিকা এবং দুজনের জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত অনলাইন যাচাইয়ের নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করছেন, ভোটার তালিকার হালনাগাদ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র পরীক্ষা করলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে সংযুক্ত নথি থেকেই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের রোহিঙ্গা পরিচয় কিংবা ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিশ্চিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, অভিযোগের তথ্য প্রকাশ পেলে তাঁরা হয়রানি বা হামলার শিকার হতে পারেন। এ কারণে তাঁরা গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আবেদনে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ওয়ার্ড মেম্বারদের শনাক্তের ভিত্তিতে তাদেরকে জাতীয়তা সনদ ও জন্ম নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আমি অভিযোগের বিষয়টি দেখছি; প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাহিদ শাহরিয়ার বলেন, ‘ভোটার তালিকা করার সময় জাতীয়তা সনদ ও জন্ম নিবন্ধন দেয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সুতরাং কে রোহিঙ্গা এটা শনাক্তের প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁর। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এনআইডি লক করে দেওয়া হবে। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন স্থানীয় সরকার। ’

          এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিবার অভিযোগটি পত্রটি পেয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘এই অভিযোগের ভিত্তিতে মৎস কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্তটিম গঠনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা নিয়ে তদন্তে সত্যতা মিলেছে। নির্বাচন অফিস কর্তৃক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। যা তারা করেনি। ছোট খাটো শাস্তি দেয়ার কারণে এতে কাজ হচ্ছেনা।’