পাহাড়ের আকাশে নীল বিষের ছায়া: তারুণ্য রক্ষায় আলীকদমের সম্মিলিত লড়াই


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ন /
পাহাড়ের আকাশে নীল বিষের ছায়া: তারুণ্য রক্ষায় আলীকদমের সম্মিলিত লড়াই
 

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।


মেঘের ভেলায় ভেসে থাকা পাহাড়, সবুজের স্তব্ধ সুর, আর মাতামুহুরীর স্বচ্ছ নীল জলের কলতানে যে আলীকদম প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে—সেই জনপদ আজ এক নীরব আতঙ্কে আচ্ছন্ন। প্রকৃতি যেখানে অপার দান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে মানুষের অদৃশ্য এক অন্ধকার ছায়া ক্রমশ লতিয়ে উঠছে পাহাড়ের বুক বেয়ে। যেন সৌন্দর্যের অরুণোদয়ের আড়ালেই জমাট বেঁধে উঠছে বিষণ্ন এক গোধূলি।

মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই দুর্গম ভূখণ্ড, যার প্রতিটি ঢালু পথ ইতিহাস আর প্রকৃতির মেলবন্ধনে অনন্য, ভৌগোলিক বাস্তবতার নির্মমতায় এখন মাদকের অশুভ স্রোতের মুখোমুখি। নেশার নীল বিষ নিঃশব্দে ঢুকে পড়ছে পাহাড়ি জনপদের রক্তধারায়—ম্রো, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বাঙালি—সব তরুণ প্রাণের স্বপ্নে যেন অদৃশ্য ছুরির আঁচড় কাটছে। যে চোখে থাকার কথা ছিল ভবিষ্যতের দীপ্তি, সেখানে আজ অনিশ্চয়তার কুয়াশা ঘনীভূত।

আলীকদম—পার্বত্য চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের এক অপূর্ব লীলাভূমি—যেখানে পাহাড়ের উচ্চতা কেবল ভূগোল নয়, এক আত্মমর্যাদার প্রতীক; যেখানে মাতামুহুরীর জলধারা কেবল নদী নয়, এক জনপদের প্রাণস্পন্দন। এই জনপদের শক্তি তার পরিশ্রমী তরুণ প্রজন্ম, যারা ঘামে ভেজা মাটিকে স্বপ্নে রাঙিয়ে তুলতে জানে। অথচ বৈশ্বিক অগ্রগতির যুগে, যখন তরুণ মেধাই সভ্যতার চালিকাশক্তি, তখন সেই সম্ভাবনাময় প্রাণগুলোর ওপর ধীরে ধীরে নেমে আসছে এক বিষাক্ত ছায়া—অদৃশ্য অথচ গভীর, নিঃশব্দ অথচ বিধ্বংসী।

প্রকৃতি যেন প্রতিদিন আলীকদমকে ডাকে—“জেগে ওঠো, তুমি তো আলোয়ের জনপদ।” কিন্তু মানুষের সৃষ্ট এই অন্ধকার যদি পাহাড়ের কোলেই বাসা বাঁধে, তবে সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যও একসময় ম্লান হয়ে যায়। তাই আজ প্রয়োজন শুধু প্রশাসনিক কঠোরতা নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতার এক জাগরণ—যেন মেঘ-পাহাড়ের এই মিতালী ভেঙে না পড়ে, বরং আগামী প্রজন্মের হাসিতে আরও দীপ্ত হয়ে ওঠে।

১. দোরগোড়ায় মরণনেশা: বিপন্ন তারুণ্য

মাদক কেবল কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়—এ এক নীরব মহামারি, সমাজের শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়া এক অদৃশ্য ক্যানসার। আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে, যেখানে একসময় সন্ধ্যার নরম আলো নেমে আসত বাঁশবনের ফাঁক গলে, সেখানে আজ নিঃশব্দে ঢুকে পড়ছে নেশার বিষাক্ত ছায়া। ইয়াবা থেকে শুরু করে নানা সিন্থেটিক মাদক—সবই যেন অচেনা এক সহজলভ্যতায় তরুণদের হাতের মুঠোয় এসে ঠেকছে। বেকারত্বের দীর্ঘ ছায়া আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করে একদল কুচক্রী মহল পাহাড়ের সরল তরুণদের হাতে তুলে দিচ্ছে ধ্বংসের এই চকচকে ফাঁদ—যার মোড়ক রঙিন, কিন্তু ভেতরটা নিঃশেষ অন্ধকার।

মেধা যেখানে দীপশিখার মতো জ্বলে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এখন ধুঁকছে অবসাদ আর বিভ্রম। সৃজনশীলতার ডানাগুলো কেটে যাচ্ছে অদৃশ্য ছুরির আঘাতে। একটি তরুণ যখন নেশার কুয়াশায় হারিয়ে যায়, তখন শুধু একজন মানুষ নয়—একটি পরিবার, একটি সম্ভাবনা, একটি আগামী ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। পরিবারের একজনের অপকর্মের দায় তোলে দেয়া হয় অন্যের ঘাড়ে খুবই সচেতনভাবে নির্মম কায়দায়। পারিবারিক বন্ধনের সুতো আলগা হয়ে যায়, আস্থার দেয়ালে ফাটল ধরে; আর সেই শূন্যতার ভেতর থেকে জন্ম নেয় চুরি, ছিনতাই, সহিংসতার মতো অন্ধকার আচরণ—যেন নেশা শুধু শরীর নয়, সমাজের আত্মাকেও গ্রাস করছে।

আলীকদম—আয়তনে দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা—প্রকৃতির এক মহিমান্বিত ভূগোল। কিন্তু এই ভূগোলের আরেক নির্মম বাস্তবতা তার সীমান্তঘেঁষা অবস্থান। দুর্গম পাহাড়ি পথ, নিভৃত গিরিপথ, অনাবিষ্কৃত আঁকাবাঁকা ট্রেইল—যেগুলো একসময় ছিল প্রকৃতির নিঃশ্বাসের পথ, সেগুলোই কখনো কখনো হয়ে উঠছে মাদক চোরাচালানের গোপন সেতু। মরণনেশার ছোট ছোট ট্যাবলেট কিংবা সাদা গুঁড়োর প্যাকেট পাহাড়ি জনপদের দোরগোড়ায় এসে ঠেকছে—নিঃশব্দে, লজ্জাহীনভাবে।

নেশার এই কামড় কেবল কয়েকজন তরুণকে বিবর্ণ করছে না; এটি ধীরে ধীরে সবুজ এক প্রজন্মের শিরায় বিষ ঢালছে। যে পাহাড় একসময় স্বপ্ন শেখাত, আজ সেখানেই স্বপ্নগুলো কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। অথচ এই তারুণ্যই ছিল আলীকদমের প্রকৃত শক্তি—যাদের চোখে ছিল পাহাড় ছাপিয়ে ওঠার সাহস, নদী পেরোনোর জেদ, আর জীবনের প্রতি অদম্য ভালোবাসা।

তাই আজ প্রয়োজন শুধু আইন বা অভিযানের কঠোরতা নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত জাগরণ—পরিবারের মমতা, সমাজের দায়বদ্ধতা, আর সচেতনতার দীপ্ত আলো। কারণ পাহাড়ের প্রকৃতি যেমন নিজে নিজে সবুজ থাকে না, তেমনি তারুণ্যও আপনাতেই আলোকিত হয় না; তাকে রক্ষা করতে হয়, জাগিয়ে রাখতে হয়, ভালোবাসার উষ্ণতায় আগলে রাখতে হয়। নচেৎ একদিন দেখা যাবে—মেঘ, পাহাড়, নদী সবই আছে, শুধু নেই সেই দীপ্ত তরুণ চোখগুলো, যাদের স্বপ্নে একদিন আলীকদম নিজের ভবিষ্যৎ দেখত।

২. প্রশাসনের অভিযান: খণ্ডচিত্র ও বাস্তবতা

পাহাড়ের নীরবতা ভেঙে কখনো কখনো শোনা যায় বুটের দৃঢ় শব্দ—সে শব্দ ভয়ের নয়, বরং আশ্বাসের। আলীকদমের দুর্গম জনপদে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আজ অনেকটা সেই প্রহরীর মতো, যে অন্ধকার নামার আগেই প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। সীমান্তঘেঁষা আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে আলীকদম জোন (৩১ বীর) এবং থানা পুলিশের নিয়মিত টহল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমেত অতর্কিত অভিযান—সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধরেখা তৈরি করেছে। পাহাড়ের গিরিপথে যেখানে একসময় নিঃশব্দে নেশার বিষ ঢুকত, সেখানে এখন সতর্ক দৃষ্টি, কঠোর নজরদারি এবং প্রতিনিয়ত দায়িত্বের পদচারণা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু ইয়াবা সেবী ও কারবারি আইনের আওতায় এসেছে। বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ার প্রতিটি সংবাদ যেন অন্ধকারে একফোঁটা আলোর রেখা—ক্ষুদ্র হলেও তা আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয় মানুষের মনে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর প্রয়োগ, মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, চোরাচালান রোধে সীমান্তপথে নজরদারি বৃদ্ধি—এসব পদক্ষেপ মরণনেশার অবাধ স্রোতে অন্তত কিছুটা হলেও বাঁধ তৈরি করেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের এই যৌথ তৎপরতা পাহাড়ি জনপদের মানুষের মনে ফিরিয়ে আনছে একধরনের নিরাপদ নিঃশ্বাস—যেন দীর্ঘ রাতের শেষে ভোরের আভাস।

আরও পড়ুন:
* আলীকদমে মাদকের আগ্রাসন: সীমান্ত থেকে সমাজে বিস্তার, বাড়ছে উদ্বেগ

তবে এই লড়াই কেবল গ্রেপ্তার বা জব্দের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আরেকটি নীরব, গভীর ও স্থায়ী রূপ রয়েছে—মানবিক উদ্যোগ। সম্প্রতি আলীকদম জোন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় শিক্ষা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা মাদকবিরোধী সংগ্রামকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর মতো উদ্যোগ প্রমাণ করে—যেখানে বই খুলে যায়, সেখানে নেশার দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে। শিক্ষার আলো যখন পাহাড়ের কুঁড়েঘরে পৌঁছায়, তখন অন্ধকার নিজেই পথ হারায়।

তবু সত্য এই যে, কোনো অভিযান একা সমাজকে মুক্ত করতে পারে না। প্রশাসনের কঠোরতা প্রয়োজন, কিন্তু তার সঙ্গে চাই পরিবারের সজাগ দৃষ্টি, সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা। সন্তানের চলার পথ, বন্ধুবৃত্ত, নীরব পরিবর্তন—এসব খেয়াল রাখার দায়িত্ব আজ প্রতিটি অভিভাবকের কাঁধে। কারণ পাহাড় যেমন কেবল পাহাড় নয়—তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে ঝর্ণা, বন, জীবন; তেমনি একটি শিশুর ভেতরেও লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনার এক বিশাল আকাশ। সেই আকাশকে অন্ধকার থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়।

৩. মাদকমুক্ত আলীকদম গড়তে করণীয়:

পাহাড়ের ঢালে যেমন একটি গাছ একা বন হয়ে ওঠে না, তেমনি মাদকবিরোধী লড়াইও কেবল প্রশাসনের কাঁধে চাপিয়ে দিলে পূর্ণতা পায় না। আইন শৃঙ্খলার কঠোরতা প্রয়োজন, কিন্তু তার সঙ্গে চাই মানুষের অন্তরের জাগরণ—একটি সম্মিলিত সামাজিক চেতনা, যেখানে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে হয়ে ওঠে প্রহরী। মাদক নির্মূলের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে জনতার ভেতরেই; পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুস্থ পরিসর—সব মিলিয়েই তৈরি হয় প্রতিরোধের অদৃশ্য কিন্তু অটুট প্রাচীর। তাই আলীকদমের তারুণ্যকে রক্ষা করতে হলে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন।

অভিভাবকের সচেতন দৃষ্টি এখানে প্রথম ও প্রধান। একটি শিশুর পদচারণা, বন্ধুবৃত্ত, আচরণের হঠাৎ পরিবর্তন—এসবই অনেক সময় নীরব সংকেত হয়ে ধরা দেয়। সন্তানের প্রতি নজর রাখা মানে কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং তার স্বপ্নের পাহাড়টিকে ধসে পড়া থেকে রক্ষা করা। পরিবার যদি হয় প্রথম বিদ্যালয়, তবে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকও বাবা–মা—যাঁদের স্নেহময় কঠোরতাই অনেক অন্ধকারের পথ রুদ্ধ করতে পারে।


আরও পড়ুন: সীমান্তে আরাকান আর্মির ‘মাদক সন্ত্রাস’

ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনও পাহাড়ি সমাজে এক গভীর প্রভাববাহী শক্তি। মসজিদের আজান, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, গির্জার প্রার্থনা কিংবা কেয়াংয়ের শান্ত বাণী—এসব কেবল আচার নয়; এগুলো মানুষের অন্তর্গত নৈতিক বোধকে জাগিয়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। যদি এই সব পবিত্র প্রাঙ্গণ থেকে মাদকের কুফল নিয়ে ধারাবাহিক সচেতনতার বাণী উচ্চারিত হয়, তবে তা পাহাড়ের প্রতিটি কুটিরে পৌঁছে যাবে আত্মার ভাষায়, আইন নয়—বিবেকের আহ্বানে।

তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল পরিসর সৃষ্টি করাও অপরিহার্য। খেলাধুলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র, সাহিত্য-সংগীতের আসর—এসবই তরুণ মনের উর্বর ভূমি। অলস সময় যেখানে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে একটি ফুটবল, একটি গিটার বা একটি বই হয়ে উঠতে পারে জীবন বদলের আলোকবর্তিকা। পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নৃত্য-গান ও উৎসবগুলোকে যদি মাদকবিরোধী বার্তার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে সংস্কৃতিই হয়ে উঠবে প্রতিরোধের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অস্ত্র।

অবশ্যই আইনের কঠোর প্রয়োগও এই সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সীমান্তপথে নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং আড়ালের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা—এসব পদক্ষেপ সমাজকে দেয় নিরাপত্তার অনুভব। তবে শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হয়, আইন ভয় সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু পরিবর্তন আনে সচেতনতা ও মূল্যবোধ।

মাদকমুক্ত আলীকদম গড়ার স্বপ্ন তাই কেবল একটি প্রশাসনিক প্রকল্প নয়; এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, একটি নৈতিক যাত্রা। পাহাড়ের কুয়াশা যেমন সূর্যের আলোয় মিলিয়ে যায়, তেমনি সম্মিলিত সচেতনতা ও মানবিক উদ্যোগই পারে এই জনপদের তারুণ্যকে অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে এনে সম্ভাবনার নীল আকাশের নিচে দাঁড় করাতে।

উপসংহার:

আলীকদম আমাদের গৌরবের নাম, পাহাড়–নদী–মানুষের এক অনুপম সম্মিলন। এই জনপদের প্রতিটি তরুণই ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বীজ, যাদের স্বপ্নে ভর করেই আগামী দিনের আলোকিত সমাজ নির্মিত হতে পারে। তাই মাদকের করাল গ্রাস থেকে তাদের রক্ষা করা কেবল সামাজিক কর্তব্য নয়—এটি এক গভীর নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব। সীমান্তসংলগ্ন এই ভূখণ্ডকে যদি আমরা সচেতনতার প্রাচীর ও সম্মিলিত উদ্যোগের শক্তিতে একটি নিশ্ছিদ্র দুর্গে রূপান্তর করতে না পারি, তবে পাহাড়ের উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও শান্তির পথ অনিবার্যভাবেই বিপন্ন হবে।

এই লড়াই কারও একার নয়—এটি প্রশাসন, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত যাত্রা। দল-মত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে যদি আমরা তারুণ্যের পাশে দাঁড়াই, তবে অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো নিভে যাবে না। মনে রাখতে হবে, আলীকদমের তারুণ্য আমাদের সম্পদ—কখনোই বোঝা নয়। তাদের স্বপ্ন রক্ষা মানেই জনপদের ভবিষ্যৎ রক্ষা।

আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে একটুখানি আলো জ্বালাই, একটুখানি সাহস জোগাই, একটুখানি সতর্কতা ছড়িয়ে দিই। সম্মিলিত কণ্ঠে উচ্চারণ করি—
“মাদকমুক্ত সমাজই হোক আলীকদমের তারুণ্যের অহংকার।”
এই প্রতিশ্রুতিই হোক পাহাড়ের আকাশে নতুন ভোরের সূচনা।


লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান।

alikadampressclub@gmail.com