ছাত্রীর ভাইকে হুমকীর জেরে আসামী, আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিনে মুক্তি


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৪, ২:৪২ অপরাহ্ন /
ছাত্রীর ভাইকে হুমকীর জেরে আসামী, আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিনে মুক্তি

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম

আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মু. বদিউল আলম গত বুধবার থেকে কারাগারে রয়েছেন।

একই মামলার ২নং আসামী সহকারি শিক্ষক বাবলুর রহমান ওরফে জোবাইর (৩৩) বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন লাভ করেছেন। অভিযোগকারী ছাত্রীর ভাইকে হুমকী দেওয়ার অভিযোগে এ সহকারি শিক্ষককে মামলায় আসামী করা হয়েছিল।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বদিউল আলমকে ১ নাম্বার আসামী করে আলীকদম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র পাওয়া নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। শ্লীলতাহানির চেষ্টায় বাধা দিলে ছাত্রীটিকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগে দাবী করা হয়। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের হলে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১০ তৎসহ ৫০৬ পেনাল কোড রুজু হয়।

এ মামলায় ২ নাম্বার বিবাদী করা হয়েছে বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষক সহকারি শিক্ষক মো. বাবলুর রহমান ওরফে জোবাইরকে। এজাহারে তার বিষয়ে বলা হয়, ‘গত ১১ জুন ৭ টায় (এজাহারে বেলা উল্লেখ নেই) বিবাদী সহকারি শিক্ষক জুবাইরকে ছাত্রীর ভাই পথে দেখতে পেয়ে তার বোনকে টিসি কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপবাদ, কটু কথা বলতে থাকেন। টিসির বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম ভাল হবে না মর্মে ভয়ভীতি দেখায়।’ এজাহারে শুধুমাত্র এই ধরণের দেওয়া তথ্যে সহকারি শিক্ষককে আসামী করা হয়েছে। হুমকী দেওয়ার বিষয়ে কোন সাক্ষীর নামও উল্লেখ নেই।

এজাহারে বর্ণি ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১০ এ উল্লেখ আছে, “যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন তিন বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।”

৫০৬ পেনাল কোডে বলা হয় “কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।”

বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পন করেন এজাহার নামীয় আসামী সহকারি শিক্ষক মো. বাবলুর রহমান ওরফে জোবাইর। তার পক্ষে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুনানী শেষে বুধবার (৩ জুলাই) বিচারক এ.এস.এম এমরান জামিন তাকে জামিন দেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বান্দরবান আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) বিশ্বজিৎ সিংহ এর কাছে জানতে চাইলে বলেন, মামলার ২নং আসামী বাবলুর রহমান ওরফে জোবাইর আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।