কবির চোখে ঈদ-উল-আযহা: আত্মত্যাগ, ঐক্য ও মানবসেবার মহিমা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৫, ৩:০৬ পূর্বাহ্ন /
কবির চোখে ঈদ-উল-আযহা: আত্মত্যাগ, ঐক্য ও মানবসেবার মহিমা

মমতাজ উদ্দিন আহমদ


কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ। তাঁর অসামান্য প্রতিভা ইসলামী গানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাঁর রচিত কালজয়ী গানটি হলো “ঈদজ্জোহার তকবির শোন ঈদগাহে!“। এই গান শুধু ঈদ-উল-আযহার পবিত্র মর্মবাণী বহন করে না। এটি সমাজের বঞ্চিত ও আর্ত-পীড়িত মানুষের প্রতি গভীর মানবিক সংবেদনশীলতার বার্তা ছড়ায়। গানটি আত্মোৎসর্গ, ভ্রাতৃত্বের সুদৃঢ় বন্ধন এবং স্রষ্টার প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। নজরুলের ঈদগাহের এই আহ্বানে ত্যাগের গভীরে মানবপ্রেম ফুটে উঠেছে। কবির এই গানে কোরবানি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তা দেওয়া হয়েছে। “তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে” পঙক্তিটি নজরুলের ঈদভাবনায় মানবিকতার সুর তুলে ধরে। একইসাথে এই গান আধ্যাত্মিকতা থেকে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেয়।

গানের মূলভাব ও প্রেক্ষাপট:

এই গানটি রচিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার মহিমা কীর্তন করে। তকবির, যা একটি ইসলামিক পারিভাষিক শব্দ, তা হলো ‘আল্লাহু আকবর’ (আল্লাহ সবচেয়ে মহান) ধ্বনিটি উচ্চস্বরে উচ্চারণ করা। ঈদগাহের পথে পথে এই ধ্বনি সমস্বরে উচ্চারিত হতে থাকে। গানের স্থায়ী অংশে কবি তাই আহ্বান জানাচ্ছেন: “ঈদজ্জোহার তকবির শোন ঈদগাহে!”। উল্লেখ্য, ‘ঈদজ্জোহার তকবির’ নামে কোনো স্বতন্ত্র তকবির নেই, তবে মুসলমানরা বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণায় উচ্চকণ্ঠে এই ধ্বনি উচ্চারণ করেন।

স্থায়ী অংশের পরের পঙক্তিগুলোতে কবি এই ঈদের মূল লক্ষ্য, কোরবানির গভীরে প্রবেশ করতে বলেছেন। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, কোরবানির ‘সামান’ বা সরঞ্জাম নিয়ে যেন ত্যাগের পথে যাত্রা শুরু করা হয়। কোরবানি কেবল একটি পশুবলি নয়, এটি আত্মোৎসর্গের এক মহিমান্বিত প্রতীক—লোভ, লালসা ও পাপের বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর নামে নিজেকে সমর্পণ করা। এই আত্মদানের মাধ্যমেই আত্মা পবিত্র ও বর্ণিল হয়ে ওঠে। কবি তাই আকাঙ্ক্ষা করেন, মুসলমানরা যেন কোরবানির এই ত্যাগের রঙে নিজেদের পোশাককে রঞ্জিত করে, আর ত্যাগের গোলাপসম সৌরভে তাদের মনকে সুগন্ধিত করে তোলে। তিনি আহ্বান জানান, উচ্চ-নীচ, হিংসা-বিদ্বেষের সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলে যেন মহামিলনের আনন্দে ঈদগাহের পথে যাত্রা করে। এই যাত্রাপথে যেন ‘দ্বীনের বাদ্‌শাহ’ অর্থাৎ আল্লাহকে মোবারকবাদ জানানো হয়।

কবি তাঁর গানে এই ঈদের ‘মাজেরা’ বা ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি ইব্রাহিম (আঃ) এবং হাজেরা (আঃ)-এর সেই অনন্য আত্মোৎসর্গের কথা বলেছেন, যেখানে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের প্রিয়তম সন্তান ইসমাইল (আঃ)-কেও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। কবি প্রত্যাশা করেন, এই মহিমাকে অনুসরণ করে মুসলমানরাও যেন সত্যিকার কোরবানি করে। কোনো কৃপণতা না করে, তারা যেন আল্লাহর পথে নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়।

গানের শেষাংশে কবি এক তীব্র সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরেন। তাঁর ভাবনায় আসে, যার পাশের ঘরে গরীব কাঙাল দারিদ্র্যের কশাঘাতে কাঁদছে, তাকে অবহেলা করে কীভাবে একজন মুসলমান ‘সঙ সেজে’ ঈদগাহে যেতে পারে? ঈদ তো মহামিলন ও আনন্দের দিন! যদি এই মহামিলন না ঘটে, যদি সমাজের দুর্বল অংশের প্রতি দায়িত্ববোধ না থাকে, তাহলে শুধু ঈদের চাঁদ উঠলেই প্রকৃত ঈদ আসে না। ত্যাগের সাহস বা ‘হিম্মৎ’ না থাকলে, বেহেশতের আশাও (‘উম্মিদ’) থাকে না। কবি অনুভব করেন, বেহেশত হতে মহানবী (সা.) আজ বিষাদিত চোখে তাকিয়ে আছেন। তিনি চেয়েছেন তাঁর উম্মত যেন ত্যাগের মধ্য দিয়ে মহীয়ান হয়ে ওঠে, কিন্তু যখন তা ঘটে না, তখন কবির কল্পনায় নবীর ক্রন্দসী চোখের চাহনি ভেসে ওঠে।

পঙক্তিভিত্তিক আলোচনা ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য:

গানটির প্রতিটি পঙক্তি গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি কবির আবেগ ও আধ্যাত্মিক যাত্রাকে তুলে ধরে:

  • “ঈদজ্জোহার তকবির শোন ঈদগাহে! (তোর) কোরবানিরই সামান নিয়ে চল্ রাহে॥”

এই পঙক্তিগুলো ঈদ-উল-আযহার উৎসবের মূল আহ্বান। ঈদগাহের পবিত্র প্রাঙ্গণে তখন ধ্বনিত হচ্ছে ‘আল্লাহু আকবর’—আল্লাহর মহিমা ঘোষণার এই ধ্বনি বা তকবির। কবি এখানে ভক্তদের আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তারা কোরবানির সরঞ্জাম নিয়ে ত্যাগের পথে যাত্রা করে। কোরবানি কেবল পশুবলি নয়, এটি আত্মোৎসর্গেরও এক গভীর প্রতীক। এর মাধ্যমে নিজের লোভ, মোহ ও অহংকার বিসর্জন দিতে হয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“আর যেন তোমরা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করো যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন।” (সূরা বাকারা ২:১৮৫)। এই আয়াত তকবিরের আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।

  • “কোরবানির রঙে রঙিন পর লেবাস্ পিরহানে মাখ্‌রে ত্যাগের গুল্-সুবাস,”

কবি এখানে বাহ্যিক পোশাকের রঙ নয়, বরং অন্তরকে কোরবানির ত্যাগের রঙে রাঙিয়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘পিরহান’ বলতে এখানে পরিধেয় বস্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। ত্যাগের গোলাপসম সৌরভে যেন আত্মা সুগন্ধিত হয়—এটাই কবির প্রত্যাশা। এটি আত্মিক পরিশুদ্ধির এক নিগূঢ় ইঙ্গিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“আর তাকওয়ার পোশাকই শ্রেষ্ঠ।” (সূরা আল-আ’রাফ ৭:২৬)। এখানে তাকওয়ার পোশাককে ত্যাগের সুবাসিত আবরণের সাথে তুলনা করা যায়।

  • “হিংসা ভুলে প্রেমে মেতে ঈদগাহেরই পথে যেতে দে মোবারকবাদ দ্বীনের বাদ্‌শাহে॥”

এই পঙক্তিগুলো ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে। কবি সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সকলকে প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে ঈদের পবিত্র পথে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন। ঈদগাহে যাওয়ার পথে ‘দ্বীনের বাদ্‌শাহ’ অর্থাৎ মহান আল্লাহকে মোবারকবাদ জানাতে বলেছেন। কুরআন আমাদের নির্দেশ দেয়:

“তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩)।

হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন:

“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।

নজরুলের “মানুষ” কবিতার এই অমর পঙক্তিটিও এখানে প্রাসঙ্গিক: “গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” তাঁর “মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান” গানটিও সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়।

  • “খোদারে দে প্রাণের প্রিয়, শোন্ এ ঈদের মাজেরা যেমন পুত্র বিলিয়ে দিলেন খোদার নামে হাজেরা, ওরে কৃপণ, দিস্‌নে ফাঁকি আল্লাহে॥”

এখানে কবি আল্লাহকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঈদ-উল-আযহার মূল ঘটনা বা ‘মাজেরা’ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। হাজেরা (আঃ) কীভাবে আল্লাহর নির্দেশে তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আঃ)-কে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন, সেই মহিমান্বিত ত্যাগের কথা বলা হয়েছে। কুরআনের সূরা আস-সাফফাত (৩৭:১০২-১০৭) এ এই আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে। কবি কঠোর ভাষায় কৃপণতা করে আল্লাহকে ফাঁকি না দেওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন। এটি প্রকৃত ত্যাগের অপরিহার্যতাকে তুলে ধরে। নজরুলের “মহরম” কবিতার গভীর পঙক্তি: “কোরবানি, কোরবানি! কিশলয় আজ কঙ্কালসার, ছিন্ন-শিরের শিরস্ত্রাণি! কোরবানির অর্থ বুঝি আত্মত্যাগ!” – এটিও কোরবানির গভীর তাৎপর্যকে আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করে।

  • “তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে তুই তারে ফেলে ঈদ্‌গাহে যাস্ সঙ সেজে,”

এই পঙক্তিগুলো গানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক বার্তা বহন করে। কবি এখানে সমাজের ধনী অংশকে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। পাশের বাড়ির দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষকে অবহেলা করে লোকদেখানোভাবে ‘সঙ সেজে’ ঈদগাহে যাওয়ার কী অর্থ? এটি লোকদেখানো ইবাদতের তীব্র সমালোচনা। হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন: “সে মুমিন নয় যে পেট ভরে খায়, আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।” (আল-আদাব আল-মুফরাদ, হাদিস ১১২)। কুরআনে সূরা মাউন (১০৭:১-৭) এ এতিম ও মিসকিনদের প্রতি অবহেলার কঠোর নিন্দা করা হয়েছে: “তুমি কি তাকে দেখেছ, যে দীনকে অস্বীকার করে? সেই তো ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করে না।”

  • “তাই চাঁদ উঠ্‌ল, এলো না ঈদ্ নাই হিম্মৎ, নাই উম্মিদ, শোন্ কেঁদে কেঁদে বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত আজ কি চাহে॥”

কবি এখানে ঈদের প্রকৃত চেতনার কথা বলছেন। যদি সামাজিক সুবিচার ও ত্যাগের মনোভাব না থাকে, তাহলে শুধু ঈদের চাঁদ উঠলেই প্রকৃত আনন্দময় ঈদ আসে না। আত্মত্যাগের সাহস বা ‘হিম্মৎ’ না থাকলে, বেহেশতে যাওয়ার আশাও (‘উম্মিদ’) থাকে না। কবি তাঁর কল্পনায় অনুভব করেন, বেহেশত থেকে মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতের এই লোকদেখানো অবস্থা দেখে কাঁদছেন। তিনি উম্মতের মধ্যে সত্যিকারের ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ব দেখতে চেয়েছেন। হাদিসে এসেছে: “ঈদ তাদের জন্য নয় যারা নতুন পোশাক পরে, বরং ঈদ তাদের জন্য যাদের আনুগত্য (আল্লাহর প্রতি) বৃদ্ধি পায়।” (হাসান বসরীর একটি উক্তি)। এটি ঈদের প্রকৃত আধ্যাত্মিক ও নৈতিক তাৎপর্যকে তুলে ধরে। নজরুলের “ফজরের আজান শুনিতে যে দিল জাগে” গানটিও আত্মিক জাগরণের কথা বলে, যা এই অংশে বর্ণিত ঈদের প্রকৃত চেতনার সাথে সম্পর্কিত।

ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য:

নজরুলের এই গানটি ঈদ-উল-আযহার ধর্মীয় তাৎপর্যকে এক গভীরতর মাত্রায় উন্নীত করে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং আল্লাহর প্রতি চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ ও আত্মবিলোপের এক মহিমান্বিত উদযাপন। কোরবানি এখানে নিছক পশুবলি নয়, তা আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার প্রস্তুতিকে প্রতীকায়িত করে। তকবির ধ্বনি মুসলিমদের আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা ঘোষণায় এক কাতারে দাঁড় করায়, যা ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই গানটি সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের মহিমা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ) আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় প্রদর্শন করেছিলেন।

তবে এই গানটির মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর শক্তিশালী সামাজিক বার্তায়। এটি প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের প্রতি মানুষের গভীর দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দানের অপরিহার্যতার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি লোকদেখানো ইবাদতের সমালোচনা করে দেখিয়েছেন, প্রকৃত ধর্ম কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং মানবসেবায় নিহিত। এই গানটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ভেদাভেদহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখায়। নজরুলের মতে, প্রকৃত ঈদ তখনই আসে যখন সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ঘুচে যায় এবং সকলে একে অপরের প্রতি যত্নশীল হয়।

রচনাকাল, প্রকাশনা ও পর্যায় তথ্য:

  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না।
  • প্রথম রেকর্ড প্রকাশ: ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি (মাঘ-ফাল্গুন্ ১৩৪৪) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে এর প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বছর ৮ মাস।
  • পাণ্ডুলিপি: গানের মূল পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
  • গ্রন্থভুক্তকরণ: গানটি নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত আছে।
    • গান নম্বর: ১১৪৯ সংখ্যক গান।
    • পৃষ্ঠা নম্বর: ৩৫০।
  • রেকর্ড তথ্য:
    • প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯৩৮।
    • রেকর্ড নম্বর: এন ১৭০৪৬।
    • শিল্পী: মহম্মদ কাসেম ও সঙ্গীরা।
  • বেতার প্রচারের বিস্তারিত:
    • এটি কলকাতা বেতারকেন্দ্র থেকে ‘ঈদজ্জোহা’ নামক গীতিআলেখ্যে প্রচারিত হয়।
    • প্রচারকারী সংস্থা: কলকাতা বেতারকেন্দ্র।
    • তারিখ: ৯ জানুয়ারি ১৯৪১ (বৃহস্পতিবার ২৫ পৌষ ১৩৪৭)।
    • সময়: রাত ৮.০৫ – ৮.৩৯ মিনিট।
    • তথ্যসূত্র: বেতার জগৎ। ১২বর্ষ ১ম সংখ্যা। ১ জানুয়ারি, ১৯৪১। পৃষ্ঠা: ৪২।
  • পর্যায়: গানটির বিষয়াঙ্গ হলো ধর্মসঙ্গীত, ইসলামী গান, মহিমা, ঈদ, এবং ঈদজ্জাহা বিষয়ক গান।

লেখক: সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। তারিখ: ৭ জুন ২০২৫ খ্রি.।