প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ নিয়ে আইনি জটিলতা, চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রিতা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৫, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন /
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ নিয়ে আইনি জটিলতা, চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রিতা

আলীকদম প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন দীর্ঘ আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামকে বাদ দেওয়ার চেষ্টার জের ধরে সৃষ্ট মামলা এবং প্রধান শিক্ষকের একের পর এক আপিলের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন কর্তৃক ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির চেষ্টার ফলে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়। নিজের অধিকার ফিরে পেতে মঞ্জুরুল ইসলাম বান্দরবান জর্জ কোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি মামলার আদেশ নং- ১৩ মোতাবেক মঞ্জুরুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ থেকে বাদ না দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই আদেশে নিয়মিত কমিটি নির্বাচনে কোনো বাধা না থাকার পরও প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষকের আপিলের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। তবে প্রধান শিক্ষক এখানেই থেমে না থেকে পুনরায় হাইকোর্টে আপিল করেন, যার সিভিল রিভিশন নম্বর: সাবজেক্ট ৩৮৯-২০২২। হাইকোর্ট এই আপিলের শুনানিতে মামলাটি যেখান থেকে শুরু হয়েছে (যুগ্ম জেলা জজ কোর্ট, বান্দরবান) সেখান থেকে পরবর্তী 9০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেন।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বারবার সময় চেয়ে এই মামলাটিকে নিজের স্বার্থে দীর্ঘায়িত করছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন কার্যক্রম এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রিতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত এই আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রত্যাশা করছেন, যাতে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

মামলার বাদী ও বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য মামলার আশ্রয় নিয়েছিলাম। বিজ্ঞ আদালত আদেশ নং- ১৩, তারিখঃ ১৪/০১/২০১৩ মোতাবেক আমাকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে বাদ না দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিজের স্বার্থে মামলাটির আপীল করে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরী করে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠন ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন। তাছাড়া মামলার অজুহাতে বিদ্যালয়ের বিশাল অংকের অর্থ তছরূপ করে চলেছেন।

প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজে মামলা দায়ের করেছেন। এটি কোন ব্যক্তিগত মামলা নয়। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমার কোন গাফিলতি ছিল না।