আলীকদম কলেজের আধুনিক গেইট নির্মাণ শীঘ্রই শুরু: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৫, ১:০০ অপরাহ্ন /
আলীকদম কলেজের আধুনিক গেইট নির্মাণ শীঘ্রই শুরু: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

মমতাজ উদ্দিন আহমদ:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আলীকদম কলেজ শুধু শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নেই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এরই ধারাবাহিকতায়কলেজের প্রবেশমুখে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন গেইট এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিজ্যুয়ালে আলীকদম কলেজের প্রস্তাবিত গেইটের আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও স্থানীয়ঐতিহ্যের সুন্দর সমন্বয়দেখা যায়। প্রশস্ত তোরণে শোভা পাচ্ছে কলেজের নাম (‘আলীকদম কলেজ’), যা সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। দুপাশে সুদৃঢ় স্তম্ভ ও আধুনিক রেলিং এটিকে দিয়েছে এক আভিজাত্যপূর্ণ রূপ। পরিকল্পিত সবুজায়ন গেইটের চারপাশের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলবে।

জেলা পরিষদের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ: শীঘ্রই শুরু হচ্ছে নির্মাণ কাজ

আলীকদম কলেজের ৭.৫৮ একর জমির দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীর ও গেইট নির্মাণের জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন জানিয়েছেন, আগামী ২৭ মে প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য লে-আউট প্রদান করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে আলীকদম কলেজের নান্দনিকতা বৃদ্ধি পাবে এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের এই শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।

আলীকদমবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উদ্যোক্তাদের

আলীকদম প্রেসক্লাব সভাপতি ও কলেজের উদ্যোক্তা-সদস্য মমতাজ উদ্দিন আহমদ পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আলীকদমবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ও স্বপ্ন ছিল আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠা। পার্বত্য জেলা পরিষদ এগিয়ে এসে সেই স্বপ্ন পূরণ করায়এ জনপদের মানুষ কৃতজ্ঞ। আমরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ পথ:

উল্লেখ্য যে, ১৮৮২ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচীর আওতায়তৎকালীন সরকার ৮৮৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পাহাড়ি জনপদ আলীকদমকে উপজেলায়উন্নীত করে। তবে, একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলীকদমবাসীকে দীর্ঘ ৪১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে, ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তৎকালীন ইউএনও জাবের মোঃ সোয়াইবের সভাপতিত্বে আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠাকল্পে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির চারজন উদ্যোক্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদন করা হলে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বোর্ড কর্তৃপক্ষ কলেজ স্থাপনের অনুমতি প্রদান করে।

পাঠদান অনুমতির পথে:

কলেজের কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে নিতে গত ২৪ মে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক কলেজের নির্মাণাধীন স্থাপনা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি শীঘ্রই পাঠদান অনুমতি প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, যা আলীকদমবাসীর জন্য আরও একটি সুখবর। আলীকদম কলেজের এই আধুনিক গেইট নির্মাণ এবং পাঠদান অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, এটি নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায়এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।