
এপিসি ডেস্ক | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন আলীকদম জোনের (৩১ বীর) উদ্যোগে মায়ানমার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন, শীতবস্ত্র বিতরণ ও দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই প্রথম শিক্ষার আলো পৌঁছাল মায়ানমার সীমান্তের মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত এই দুর্গম জনপদে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়টির শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম, মেজর মোঃ পাভেল মাহমুদ রাসেল (বিএসপি), জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী তাওহীদ এবং লামা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাসুম সরদার। এছাড়াও স্থানীয় পাড়া কারবারী, অভিভাবক এবং অত্র জোনের পদস্থ সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার আলো ও মানবিক সহায়তা:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ, পাঠ্যবই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন। এছাড়াও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চ ও আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ১১৩টি অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং বেশ কিছু অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা:
উদ্বোধন শেষে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম স্থানীয়দের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে। দুর্গম এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সংকটের কথা বিবেচনা করে আয়োজিত এই ক্যাম্পে মোট ৩১৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন নারী ও ৪৫ জন শিশু রয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য:
প্রধান অতিথি লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর। আলীকদম থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরবর্তী এই দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ার মানুষ দীর্ঘকাল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আজ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই জনপদে শিক্ষার যে নতুন যাত্রা শুরু হলো, তা শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় সহায়ক হবে।”
সেনাবাহিনীর এই অনন্য মানবিক উদ্যোগের ফলে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের অন্ধকারের অবসান ঘটে শিক্ষার শুভ সূচনা হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :