মৃত্যু : জীবনে ও অনুভবে


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১:০৭ অপরাহ্ন /
মৃত্যু : জীবনে ও অনুভবে

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।


মৃত্যু— মাত্র একটি শব্দ। কিন্তু এই ক্ষুদ্র শব্দটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস, শোকের দীর্ঘ ছায়া আর মানুষের অসহায়তার চূড়ান্ত প্রকাশ। শব্দটি ছোট, অথচ তার অভিঘাত বিশাল; ব্যক্তিগত জীবনে, সামাজিক বাস্তবতায় এবং মানবসভ্যতার সামষ্টিক চেতনায় মৃত্যু এক অবধারিত সত্য—এক অনিবার্য পরিণতি।

পবিত্র কুরআন সেই চূড়ান্ত সত্যটিকেই ঘোষণা করেছে সুস্পষ্ট ভাষায়— “কুল্লু নাফসিন যাঈকাতুল মাউত”—প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

এই ঘোষণায় কোনো শর্ত নেই, কোনো ব্যতিক্রম নেই। ইসলাম ধর্ম এখানে মানুষের অহংকার ভেঙে দিয়ে তাকে তার প্রকৃত সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ যত বড়ই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক—মৃত্যুর কাছে সবাই সমান। এই আয়াত মৃত্যু সম্পর্কে কোনো শোকগাথা নয়, বরং এক অবধারিত সত্যের ঘোষণা দিয়েছে। মানুষ চাইলেও এই সত্য এড়িয়ে যেতে পারে না। অথচ জীবনের চলার পথে আমরা এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠি যে, মৃত্যুকে দূরের কোনো ঘটনা বলে ভাবি—যতক্ষণ না তা আমাদের নিকটতম মানুষদের স্পর্শ করে।

‘মৃত্যু’ শব্দটি আমার চেতনাজুড়ে বারবার ফিরে আসে। বিশেষ করে প্রিয় মানুষের মৃত্যু যখন জীবনের খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়, তখন শোক আর দর্শন একাকার হয়ে যায়। সম্পর্কের গভীরতায় যতটা নিবিড়তা, মৃত্যুর বেদনাও ততটাই গভীর। শোক তখন ব্যক্তিগত থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক ধরণের অস্তিত্ববাদী প্রশ্ন। কিছু শোক নিঃশব্দ, কিছু শোক অশ্রুসিক্ত—আর কিছু শোক ভাষার অতীত।

আমার জীবনে মৃত্যুর প্রথম গভীর অভিঘাত এসেছিল ছাত্রাবস্থায়, ১৯৯৫ সালের ৫ মে। আমার শিক্ষাগুরু ধর্মজ্ঞানশিক্ষানুরাগী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুসংবাদ যখন শুনি তখনও বুঝতে পারিনি, মৃত্যু মানে কী। ক’দিন আগেও যাঁকে খাটিয়ায় শুয়ে শান্ত দেহে দেখেছিলাম, তিনি যে আর নেই—এই সত্য মন মানতে চায়নি। সারারাত মরহুমের মৃত দেহের পাশে কুরআনখানি, তেলাওয়াত আর প্রিয়জনদের আহাজারি দেখে মনে হয়েছিল মৃত্যুর আসল রূপ।

তাঁর জানাজার দিনে, কবরস্থানের পথে মানুষের আহাজারি, স্বজনদের আত্মবিলাপ—সেদিন আমার ভেতরে এক অচেনা হাহাকার জন্ম নিয়েছিল। বুঝেছিলাম, প্রিয়জনের মৃত্যু কেবল একটি ঘটনা নয়—এটি এক ধরনের মানসিক ভূমিকম্প। আরও অনেক পরে আমার নানীসহ নিকটজনদের মৃত্যুও ঠিক একই অনুভূতি জাগ্রত হয়েছিল।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস—আমার জীবনে যেন আরেক শোকাবহ অধ্যায় হয়ে এলো। পরপর তিনটি মৃত্যু আমাকে দাঁড় করিয়ে দিল জীবনের সেই ফাঁকের সামনে, যেখানে থাকা আর না-থাকার মাঝখানে মানুষ অসহায়ভাবে ঝুলে থাকে। এর মধ্যে একটি মৃত্যুর বিয়োগ ব্যথা অশ্রুপাতের সীমা অতিক্রম করেছিল। কারণ, সেখানে যুক্ত ছিল হৃদয়ের নিরেট সম্পর্ক।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’-তে লিখেছিলেন ‘মৃত্যুশোক’ নামের একটি গভীর অনুভবের নিবন্ধ। সেখানে কবি লিখেছেন—

“নিকটের মানুষ যখন এক সহজে এক নিমিষে স্বপ্নের মতো মিলাইয়া গেল তখন সমস্ত জগতের দিকে চাহিয়া মনে হইতে লাগিল—একি আত্মখণ্ডন!”

এই “আত্মখণ্ডন” শব্দটি মৃত্যুর দর্শনকে এক কথায় উন্মোচিত করে দেয়। মৃত্যুর আঘাতে কেবল প্রিয় মানুষটি হারিয়ে যায় না—আমাদের নিজের ভেতরও একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এই “আত্মখণ্ডন”-এর অনুভব আমি যেন হাড়ে হাড়ে টের পেলাম ২০২৪ এর ২০ ডিসেম্বরের সেই সকালে। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে আমার প্রিয়জন সাতুল বড়ুয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন—প্রেশার বেড়েছে, ডাক্তারের কাছে যাবেন চিকিৎসা নিতে। কথা শেষ হলো। মাত্র পনেরো মিনিট পর খবর এলো—সাতুল দা আর নেই!

খানিক আগে যিনি ছিলেন, পরক্ষণেই তিনি নেই—এই দুই অবস্থার মাঝখানে মিল খুঁজতে গিয়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—“যাহা আছে এবং যাহা রহিল না”—এই দুইয়ের মাঝখানে কোনো সেতু যেন নেই।

এই “ছিল” আর “নেই”-এর মধ্যকার ব্যবধানই মৃত্যুর সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ। দার্শনিক হাইডেগার যাকে বলেছেন Being-towards-death—মানুষ আসলে সারাজীবন মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যায়, কিন্তু তা টের পায় না।

দর্শনের ভাষায়, মৃত্যু মানুষকে তার অস্তিত্বের ভঙ্গুরতা স্মরণ করিয়ে দেয়। হাইডেগারের মতে, মৃত্যুচেতনা মানুষকে প্রকৃত অর্থে ‘সচেতন’ করে তোলে। আর সমাজবিজ্ঞানের চোখে, মৃত্যু সামাজিক বন্ধনকে দৃশ্যমান করে—কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা শূন্যতার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়।

তবু মৃত্যুর এই দার্শনিক উচ্চতা মানুষকে শোকহীন করে না। বরং শোকই প্রমাণ করে মানুষ কতটা মানবিক। সমাজবিজ্ঞান বলে—শোক হলো সম্পর্কের সামাজিক স্মৃতি। যে শোক করে না, সে আসলে সম্পর্ককেও অস্বীকার করে।

ইসলামি দর্শনেও মৃত্যু কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; এটি পূর্বনির্ধারিত সময়ের বাস্তবায়ন। হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন—
“তোমরা মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, কারণ তা দুনিয়ার মোহ ভেঙে দেয়।” (তিরমিজি)।

এই স্মরণ মানুষকে নিরাসক্ত করে, অহংকার ভাঙে, ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম নিশ্চয়তা ধূলিসাৎ করে দেয়। সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইম বলেছেন, মৃত্যু সমাজকে একদিকে ভেঙে দেয়, আবার অন্যদিকে নৈতিক সংহতির নতুন উপলব্ধি তৈরি করে।

সাংবাদিকতা জীবনে দীর্ঘ পথচলায় সহকর্মীদের মৃত্যু আমাকে বারবার এই সত্যের সামনে দাঁড় করিয়েছে। বান্দরবানের সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মাসুদ, চকরিয়ার অগ্রজ সাংবাদিক জাকের উল্লাহ চকোরী—তাঁদের মৃত্যু যেন ঘোষণা করেছে, মানুষের পরিকল্পনা আর নিয়তির লেখার মধ্যে কোনো সমতা নেই। কুরআনের ভাষায়— “যখন সময় এসে যায়, তখন এক মুহূর্তও বিলম্ব হয় না।” (সূরা আন-নাহল: ৬১)।

সাংবাদিকতায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে যাঁরা আমার সহযাত্রী ছিলেন—সেই সাংবাদিক মাসুদ ও সাংবাদিক জাকের উল্লাহ চকোরী—তাঁরাও নীরবে জীবনের পরিক্রমা শেষ করে চলে গেলেন সে বছর। মৃত্যুর আগের দিন মাসুদ বলেছিলেন, পরদিন আলীকদমে আসবেন। কিন্তু নিয়তি তাকে আর সেই অবসর দিল না। রবিন্দ্রনাথ বোধহয় একেই ‘আত্মখন্ডন’ বলেছিলেন!

জাকের উল্লাহ চকোরী যেন মৃত্যুর প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন— “রিজিক নির্ধারিত, মৃত্যু অবধারিত।” দু’দিন পরই তিনি মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেলেন। ধর্ম এখানে মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখায়।

মৃত্যু নিয়ে বিশ্বকবির রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান’। এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ থেকে নেওয়া হয়েছে। যার অর্থ হলো ‘হে মরণ, তুমি আমার কাছে শ্যাম (কৃষ্ণের) মতোই প্রিয়। যিনি রাধার কাছে পরম আরাধ্য এবং প্রিয়। ‘শ্যামসমান’ মানে ‘কৃষ্ণের মতো’, অর্থাৎ অত্যন্ত প্রিয়, আরাধ্য বা কাঙ্ক্ষিত।’ এই উক্তিটির মাধ্যমে কবি মরণকে এক গভীর ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন, যা জীবনের সকল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে, ঠিক যেমন রাধা কৃষ্ণকে চেয়েছিলেন। এটি মৃত্যুচিন্তা ও জীবনবোধের এক নান্দনিক প্রকাশ, যেখানে মরণকে ভয়ের বদলে বন্ধু হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে, যেন সে শ্যামের মতোই সব দুঃখ দূর করবে। ভানুসিংহের পদাবলিতে রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব-পদাবলির ভাষা ও রসকে আশ্রয় করে মৃত্যু সম্পর্কে এক অভূতপূর্ব প্রেমিক-ভাবনা নির্মাণ করেছেন। এখানে মৃত্যু—ভয়ংকর নয়, অশুভ নয়, বিচ্ছেদ নয়।

কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুকে দেখেছেন বিদ্রোহ ও অমরতার আলোয়। তিনি মৃত্যুকে ভয় পাননি; বরং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েন। নজরুলের কাছে মৃত্যু নিঃশেষ নয়, বরং রূপান্তর—এক বিদ্রোহী আত্মার অন্যতর যাত্রা। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে দেখেছেন সৌন্দর্য ও চিরন্তনতায় উত্তরণের পথ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, মৃত্যু মানে সীমা পেরোনো—অমর্ত্যের দিকে যাত্রা।

‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ সেই দর্শনকেই কাব্যিক রূপ দিয়েছেন। এ কবিতায় অকালপ্রয়াত কবির প্রতি এক গভীর দার্শনিকভাবে মৃত্যুর উপলব্ধি ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে জীবনের বিনাশ নয়, বরং সীমাবদ্ধ মর্ত্যলোক থেকে অনন্ত ও মহাজাগতিক চেতনায় উত্তরণ হিসেবে দেখেছেন। অকালপ্রয়াণের মাধ্যমে সত্যেন্দ্রনাথ সময়ের আগেই সেই অমর্ত্যলোকে পৌঁছে কবির ‘অগ্রজ’ বা বড় হয়ে উঠেছেন। মৃত্যুর ফলে তিনি পৌঁছে গেছেন সেই বিশ্বচিত্তলোকে—যেখানে “অনন্তের বীণা নিঃশব্দে বাজে।’ যেখানে রূপের বন্যা ছুটে চলে গ্রহ, সূর্য ও নক্ষত্রের ভেতর দিয়ে। অর্থাৎ, মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি সীমাবদ্ধ মানবজীবন অতিক্রম করে মহাজাগতিক চেতনার অংশ হয়ে গেছেন।

কবির মতে সত্যেন্দ্রনাথের মৃত্যুতে সৃজনশীলতা ও কাব্যের ঐশ্বর্য তাঁকে নশ্বর পৃথিবী থেকে বিশ্বচিত্তলোকে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে তিনি গ্রহ-নক্ষত্রের অনন্ত ছন্দের অংশ হয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথের প্রার্থনা—অমরত্বের বিশালতায় গিয়েও যেন তিনি পৃথিবীর এই মানবিক সৌন্দর্যটুকু ভুলে না যান। এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ জীবন ও মৃত্যুকে একই মালার দুটি সুতো হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রিয় মানুষের দৈহিক অবসান ঘটলেও তাঁদের সৃজনশীল আত্মা ও চারিত্রিক দীপ্তি অনন্ত সৌন্দর্যের মাঝে চিরকাল অম্লান থাকে। তাই মৃত্যু শুধু বিয়োগব্যথা নয়, বরং মানুষের সৃজনশীলতা ও নৈতিক সৌন্দর্যের অবিনশ্বরতার এক অনন্য স্বীকৃতি। রবীন্দ্রনাথ এখানে মৃত্যুকে শেষ বলে দেখেন না; বরং এক উচ্চতর স্তরে উত্তরণের রূপ দেন।

রবীন্দ্রনাথের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্লেটোর আত্মাতত্ত্বের সঙ্গেও সাযুজ্যপূর্ণ। প্লেটো বলেছিলেন, দেহ নশ্বর হলেও আত্মা চিরন্তন সত্যের দিকে যাত্রা করে। ইবন আরাবি কিংবা আল-গাজালির চিন্তায়ও মৃত্যু হলো আত্মার মুক্তি—এক খাঁচা ভাঙার নাম।

এই উপলব্ধিই আমাকে শান্ত করে। মনে হয়—প্রিয় মানুষরা হারিয়ে যান না। তাঁরা আমাদের চোখের আড়ালে চলে যান মাত্র। মানবিক গুণাবলি, স্মৃতি আর ভালোবাসার ভেতর দিয়ে তাঁরা আমাদের সঙ্গেই থাকেন।

যাঁরা কখনো প্রিয়জন হারাননি, তাঁদের পক্ষে মৃত্যুর ভয়াবহতা বোঝা কঠিন। তাঁদের কাছে জীবন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ। কিন্তু যাঁরা এই বিচ্ছেদের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁরা জানেন—জীবনের মাঝখানে এক অদৃশ্য ফাঁক তৈরি হয়।

এই ফাঁকের মাঝেই আবির্ভাব ঘটে মৃত্যুদূত আজরাইলের। তখন আলো, বাতাস, গাছপালা—সবই একই থাকে; শুধু মানুষটি থাকে না। এই অনুপস্থিতিই মৃত্যুর সবচেয়ে নির্মম দিক।

এইসব অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমার কাছে ক্রমে স্পষ্ট হয়েছে—জীবন কোনো স্থির সত্য নয়। আমরা যাদের চিরস্থায়ী মনে করি, তারাই একদিন জীবনের ফাঁক হয়ে দাঁড়ায়। মৃত্যুই আমাদের শেখায় বিনয়, সংযম ও সহমর্মিতা।

মৃত্যু তাই কেবল শেষ নয়; মৃত্যু আয়নার মতো—যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের জীবনের প্রকৃত মূল্য বোঝে। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, অমরত্বের মাঝেও মানবিক স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায়। নজরুল যেমন চেয়েছেন, মৃত্যুর পরেও যেন বিদ্রোহী চেতনা জাগ্রত থাকে।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সুষ্পষ্ট আয়াত, দার্শনিক ও কবিদের উপলব্ধির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এটুকুই বুঝি— মৃত্যু আমাদের থামিয়ে দেয় না; মৃত্যু আমাদের সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

মৃত্যু তাই শুধু শোক নয়—মৃত্যু মানুষকে মানুষ করে তোলে। অহংকার ভাঙে, হৃদয় নরম করে, জীবনের মূল্য শেখায়। আর এই শেখাটাই হয়তো মৃত্যুর সবচেয়ে বড় দান।


লেখক: মমতাজ উদ্দিন আহমদ, সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

তারিখ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি.।