আলীকদমের আত্মায় জিয়াবুলের কলম: নিসর্গ, দ্রোহ ও মাতামুহুরীর গান


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৫, ৩:৪০ অপরাহ্ন /
আলীকদমের আত্মায় জিয়াবুলের কলম: নিসর্গ, দ্রোহ ও মাতামুহুরীর গান

মমতাজ উদ্দিন আহমদ


কবি এম.ডি জিয়াবুল আলীকদমের সবুজ উপত্যকায় বেড়ে উঠেছেন। তাঁর ‘হিমশীতল’ ও ‘মাতামুহুরী’ কবিতায় বিশেষ অনুভূতি আছে। সেখানে নিবিড় প্রশান্তি ও গভীর একাত্মতার কথা বলা হয়েছে। এটি প্রকৃতির সাথে আমাদের আত্মিক বন্ধনের এক অসাধারণ চিত্র। এই কবিতাগুলো মাতামুহুরী বা তার আশপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য শুধু দেখায় না। বরং, প্রকৃতির বিশালতায় মানুষ কীভাবে শান্তি ও পূর্ণতা পায়, সেই সত্যও তুলে ধরে। এই লেখায় আমরা কবির দুটি কবিতার অর্থ জানব। আমরা দেখব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের কবিতার সাথে এর কেমন যোগসূত্র আছে। প্রকৃতির রহস্য, অস্থির মনের শান্তি আর স্বপ্নের মতো বিচরণ – সবই জিয়াবুলের কবিতায় স্পষ্ট।

কবি এম.ডি জিয়াবুল: নিসর্গ, দ্রোহ ও স্বপ্ন

‘হিমশীতল’ ও ‘মাতামুহুরী’ কবিতার লেখক হলেন কবি এম.ডি জিয়াবুল। তিনি আলীকদমের সবুজ উপত্যকায় বড় হয়েছেন। তিনি একজন ব্যতিক্রমী শিল্পী। তাঁর হৃদয় প্রকৃতির রঙে রাঙানো। তাঁর কলম দ্রোহের আগুনে শাণিত। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার সুর তাঁর কবিতায় মিশে আছে। আলীকদমের সুবিস্তীর্ণ বনের সবুজ তাঁর শব্দে ফুটে ওঠে। প্রকৃতির এই নীরব উপস্থিতি জিয়াবুলের কবিতায় স্নিগ্ধতা এনেছে। পাঠককে মুহূর্তেই প্রকৃতির শান্ত আশ্রয়ে টেনে নেয় তাঁর কবিতা।

তবে তাঁর কবিতা শুধু প্রকৃতির প্রশংসা করে না। তিনি বিদ্রোহী নজরুলকে অনুসরণ করেন। সমাজের অন্যায় আর নিপীড়িত মানুষের কষ্টের কথা তিনি লেখেন। তাঁর কলম যেন এক উজ্জ্বল আলো। এটি সব অন্ধকার দূর করে। তিনি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেন। যেখানে অন্যায়-অবিচার থাকবে না। মানুষের মন ভালোবাসায় ভরে উঠবে। সেই স্বপ্ন তাঁর কবিতার প্রতিটি লাইনে ঢেউ তোলে। প্রকৃতি যেমন তাঁর কবিতায় সুর দেয়, সমাজের ভুলগুলোও তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে। প্রেম আর প্রকৃতির স্নিগ্ধতা তাঁর লেখায় যেমন আসে, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেন। এই দুটি ধারার এক অসাধারণ মিশ্রণ দেখা যায় কবি জিয়াবুলের কবিতায়।

জিয়াবুল আলীকদমের একটি ছোট গ্রামে জন্মেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল কঠিন। দারিদ্র্যের কারণে শৈশবেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। অনেক কষ্টের মাঝেও তাঁর ভেতরের কবিসত্তা হারায়নি। কাজের ক্লান্তি থেকে অবসর পেলেই তিনি লিখতেন। একের পর এক কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর লেখা বইগুলোর মধ্যে আছে ‘প্রতিবাদী কলম’, ‘রূপ লাবণ্যে আলীকদম’ আর ‘ছোটদের ছন্দে ছন্দে মজার ছড়া’। এছাড়া, অনেক যৌথ কাব্যগ্রন্থেও তিনি লিখেছেন। তিনি শুধু লিখে থেমে থাকেননি। জ্ঞানের আলো ছড়াতে ‘বর্ণ সাজ পাঠক ফোরাম ও পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সাহিত্য ভালোবাসেন বলেই ‘এপার বাংলা ওপার বাংলার কবিদল’-এর সাথে যুক্ত হয়েছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি দেশে-বিদেশে অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। কবি জিয়াবুল যেন এক অদম্য পাখি। সব বাধা পেরিয়ে তিনি ডানা মেলে উড়তে চান।

‘হিমশীতল’ কবিতা: প্রকৃতির সাথে আত্মিক মিলন

কবি এম.ডি জিয়াবুলের ‘হিমশীতল’ কবিতাটি প্রকৃতির সাথে মানুষের গভীর বন্ধন দেখায়। বিশেষ করে মাতামুহুরী নদী ও তার আশপাশের পাহাড়ের প্রতি কবির মুগ্ধতা এখানে আছে। এই কবিতা গভীর প্রশান্তি দেয়। এর প্রতিটি লাইন প্রকৃতির ছবি আঁকে। মানবমনের গভীর অনুভূতিগুলোকে ছুঁয়ে যায়।

  • “হিমশীতল পাহাড়ের চূড়োটায় লাল গোল টিপয়ের মতো সূর্যটা কুয়াশা আবৃত, ধূসর পাহাড়ের কোলঘেঁষে বেয়ে চলে মাতামুহুরীর পাড় ভাঙ্গা নদীর শান্ত-চঞ্চলা স্বপ্নীল প্রবাহ গতি।”

এই লাইন শীতের সকালে পাহাড়ে সূর্য ওঠার এক সুন্দর ছবি দেখায়। এটি রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতির বর্ণনা মনে করিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথের লেখায় প্রকৃতির প্রতিটি অংশ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁর ‘আকাশ ভরা সূর্য-তারা’ বা ‘আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ’ – এমন লাইনগুলো প্রকৃতির এই অবাধ গতির সাথে মিলে যায়। সূর্য, কুয়াশা আর নদীর এই তিনটি জিনিস মিলে এক শান্ত অথচ গতিময় জীবনের ইঙ্গিত দেয়।

  • “উৎকন্ঠিত নয়নের তীরে মৃদু মৃদু শৈবালিনীর মনোরম চুম্বকীয় নিদর্শন, তটিণী-র লহরী ও সবুজেই গুঞ্জন তুলে শুভ্র-স্নিগ্ধ অনুরাগে, কমনীয় তনুর শীতল আলিঙ্গনে।”

শৈবালের ছোট্ট আকর্ষণ আর নদীর ঢেউয়ের শব্দ মানুষের মনের এক নীরব চাওয়া প্রকাশ করে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় প্রকৃতির ছোট ছোট জিনিসের প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখা যায়। যেমন ‘ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে’ – তেমনই একটি ছবি এখানে পাওয়া যায়। প্রকৃতির শীতল ছোঁয়া মনকে এক গভীর শান্তি দেয়। এটি মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে।

  • “ছায়া মাত্রিক অন্ধকারে অপেক্ষামান অস্থির সময়ের ভিড়ে সকলের প্রাণে প্রাণে জন্ম নেওয়া ছায়াছন্ন পাহাড়, ভাসিয়ে নিয়ে যায় মন-পবনের গিরিধারী অববাহিকায়।”

এই অংশে অস্থির সময়ের মাঝেও ছায়াছন্ন পাহাড়ের শান্ত রূপ দেখা যায়। এটি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অস্থির মনের অন্য এক প্রকাশ। নজরুলের মন জাগতিক বিদ্রোহে ব্যস্ত। কিন্তু এই পাহাড় যেন আত্মিক শান্তির আশ্রয়। পাহাড়ের বিশালতা মনের অস্থিরতা দূর করে। এটি মনকে গভীর শান্তির দিকে নিয়ে যায়।

  • “ভালো লাগে ধূসর পাহাড়ের পাদদেশে নৈস্বর্গিক মনোলোভা অচিনপুরে হারিয়ে যেতে, শুভ্র সববজের ঝিকিমিকি মায়ামোহের চন্দন মেখে আকাশ ছুঁতে।”

অচিনপুরে হারিয়ে যাওয়ার এই ইচ্ছে রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার মতো। তিনি ‘অসীমের পানে’ যেতে চেয়েছেন। তাঁর অনেক কবিতায় এই অজানাকে জানা, অসীমকে ছোঁয়ার আকুতি আছে। প্রকৃতির এই মায়ায় মুগ্ধ হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে মানুষ। এটি মানবাত্মার চিরন্তন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।

  • “অধরা পুলকিত-শিহরিত স্বপ্নীল পাহাড়ের নিশিকায়ার বুকে। যে পাহাড়ে হেলান দিয়ে ঘুমাতে যাই, আবার কখনো তাহার বক্ষে মিশে যাই, আহা- সে যে কি প্রশান্তি।”

এই লাইন প্রকৃতির সাথে মানুষের গভীর মিল দেখায়। এটি আত্মিক বন্ধনের প্রকাশ। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ বা তাঁর অন্য কবিতায় প্রকৃতির সাথে গভীর সম্পর্ক আছে। এই লাইনগুলো তারই এক সফল কাব্যিক রূপ। পাহাড়ের বুকে শুয়ে থাকা বা তার গভীরে মিশে যাওয়ার অনুভূতি শুধু শারীরিক নয়। এটি এক গভীর আত্মিক শান্তি দেয়। এটি মানুষের সব দুঃখ দূর করে।

‘মাতামুহুরী’ কবিতা: নদীর বহুমাত্রিক রূপ ও জীবনের প্রতিচ্ছবি

কবি এম.ডি জিয়াবুলের ‘মাতামুহুরী’ কবিতাটি শুধু একটি নদীর বর্ণনা নয়। এটি জীবনের এক বহু ধরনের ছবি। এই কবিতা নদীর গতি, তার দুটি দিক এবং তার পাড়ের মানুষের জীবনকে তুলে ধরে।

  • “স্রোতস্বিনী মাতামুহুরী ধেয়ে এঁকেবেঁকে, / মোহনার পানে ছুটো কোন গিরি থেকে? / বয়ে যাও নিরবধি থামো না তো তুমি, / অবিরাম রূপে সাজে দুই ধারে ভূমি।”

এই লাইনগুলো মাতামুহুরী নদীর অবিরাম বয়ে চলার ছবি। এটি জীবনের একটানা চলার প্রতীক। রবীন্দ্রনাথের অনেক গান ও কবিতায় নদী জীবনের প্রতীক। যেমন – ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। সেখানে তিনি জীবনের অনন্ত যাত্রাকে নদীর চলার সাথে মিলিয়েছেন। নদী এখানে শুধু একটি জায়গা নয়। এটি এক জীবন্ত সত্তা।

  • “অকাতরে বুকে ধরো রাশি রাশি জল, / বৈশাখে হাঁটু সমান আষাঢ়ে তে ঢল। / তোমার ঐ বুকে চলে কতো কল যান, / গাই মাঝি কতো সুরে ভাটিয়ালি গান।”

নদীর ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তন এবং এর বুকে মানুষের জীবন এখানে স্পষ্ট। বৈশাখের খরা থেকে আষাঢ়ের ঢল – এ যেন জীবনেরই ওঠানামার ছবি। নদীর বুকে মাঝির ভাটিয়ালি গান লোকজীবন ও সংস্কৃতির অংশ। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় যেমন সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রাম এসেছে, তেমনই এই লাইনগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ছবি স্পষ্ট।

  • “চলে তরী তুলে পাল গতিসীমা ধরে, / দেখে ঐ রূপ ঝলক আঁখি যায় ভরে। / কতো নামে এ জগতে যাও তুমি বয়ে, / দুষণের যতো জ্বালা যাও তাহা সয়ে।”

নদীর সুন্দর রূপ এখানে আছে। একই সাথে আছে মানুষের দেওয়া দূষণ সহ্য করে চলার বাস্তব চিত্র। প্রকৃতির প্রতি মানুষের অন্যায় আর নদীর নীরব সহ্যশক্তি এখানে দেখা যায়।

  • “কোথা’হতে এসে তুমি কোন দেশে যাও, / কেঁড়ে নাও কতো ভূমি ভিটেমাটি খাও। / জলে ভাসো শৈবলিনী নাহি দাও ডুব, / একূলে ভূ ঐকূলে’তে কেন এত ক্ষোভ?”

নদীর বিধ্বংসী রূপ এখানে স্পষ্ট। এটি ভূমি ক্ষয় করে, মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নেয়। নদীর এই দুটি দিক – জীবনদাতা ও ধ্বংসকারী – জীবনানন্দ দাশের কবিতায় প্রকৃতির যে শক্তি দেখা যায়, তার সাথে মেলে। প্রকৃতি এখানে শুধু সুন্দর নয়, এটি এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। একই সাথে, নদীর দুই পাড়ের বৈষম্য নিয়ে কবি প্রশ্ন করেছেন।

  • “বর্ষার প্লাবন এনে নিয়ে যাও তলি, / করো ভূমি উর্বরতা দিয়ে কাঁদা পলি। / দুই তীরে তরুরাজি কূলে ভরে চাষ, / করো তুমি জল দ্বারা কারো সর্বনাশ।”

নদী একদিকে উর্বরতা এনে নতুন জীবন দেয়। অন্যদিকে, এটি ক্ষতির কারণও হয়। জীবনের সুখ-দুঃখের চক্রাকার রূপ নদীর এই দুটি কাজে দেখা যায়।

জিয়াবুলের কাব্যে প্রকৃতির দ্বিমাত্রিকতা

কবি এম.ডি জিয়াবুলের ‘হিমশীতল’ ও ‘মাতামুহুরী’ দুটি কবিতাতেই প্রকৃতির দুটি দিক দেখা যায়। এটি অসাধারণ শিল্প। ‘হিমশীতল’ কবিতায় তিনি প্রকৃতির শান্ত, স্বপ্নময় ও গভীর দিক তুলে ধরেছেন। সেখানে সূর্যোদয় থেকে শ্যাওলা, আর রাতের পাহাড়ের সাথে মিশে যাওয়া – এই সবকিছুর মধ্যে এক গভীর শান্তি ও আধ্যাত্মিক যোগের ছবি আছে। এই কবিতা যেন প্রকৃতির নীরব, ধ্যানমগ্ন রূপের প্রশংসা করে।

অন্যদিকে, ‘মাতামুহুরী’ কবিতায় নদী আরও গতিশীল ও কর্মচঞ্চল। একই সাথে এটি শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর। এখানে নদীর বয়ে যাওয়া, নৌকা চালানো, মাঝির গান, উর্বরতা দেওয়া, এবং ভাঙন ও ক্ষতির চিত্র আছে। এই কবিতা প্রকৃতির সেই সক্রিয়, জীবন্ত অথচ কঠোর রূপ দেখায়। এটি মানবজীবনেরই এক প্রতিচ্ছবি। জিয়াবুলের এই দুটি কবিতায় প্রকৃতির এই দুটি ভিন্ন দিক (শান্ত ও গতিশীল, জীবনদায়ী ও ধ্বংসকারী) এক সাথে এসেছে। এটি তাঁর কবিতার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

উপসংহার: অনন্ত প্রবাহে আত্মিক বন্ধন

কবি এম.ডি জিয়াবুলের ‘হিমশীতল’ ও ‘মাতামুহুরী’ কবিতা দুটি মাতামুহুরী নদী ও তার চারপাশের প্রকৃতির সাথে গভীর আত্মিক যোগ দেখায়। তাঁর চোখে মাতামুহুরী কেবল একটি নদী নয়। এটি মন ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রকৃতি তার শাশ্বত সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের পাশে থাকে।

এই কবিতাগুলো শুধু একটি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখায় না। বরং, প্রকৃতি কীভাবে মানুষের অস্থির মনকে শান্ত করে, কীভাবে এটি স্বপ্ন, প্রেম ও বিরহের নীরব সাক্ষী হয়, সেই গভীর সত্যও প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দ দাশের মতো বড় কবিদের প্রকৃতি বিষয়ক দর্শনের সাথে জিয়াবুলের কবিতার লাইনগুলো মিলে যায়। কবি জিয়াবুলের প্রকৃতি প্রেম, বিদ্রোহের ইচ্ছা এবং জ্ঞানের আলো ছড়ানোর চেষ্টা তাঁর কবিতাকে বিশেষ করেছে।

প্রকৃতির এই নিরন্তর প্রবাহ, তার পরিবর্তন এবং তার ছোঁয়ায় মানুষের যে অনন্ত শান্তি, তা যুগ যুগ ধরে কবি ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর কলম যেন আপন মহিমায় চলতে থাকে। আলীকদমের প্রকৃতি আর মানুষের মনের না বলা কথা যেন আরও গভীর ভাবে তাঁর কবিতায় আসে – এটাই আমাদের একান্ত চাওয়া। তাঁর কবিতা শুধু শব্দ নয়। এটি যেন হৃদয়ের গভীর থেকে আসা অনুভূতি, যা পাঠকের আত্মাকে স্পর্শ করে যায়।

লেখক: সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

তারিখ: ১২ জুন ২০২৫ খ্রি.