
মমতাজ উদ্দিন আহমদ:
পার্বত্য চট্টগ্রামের আলীকদম উপজেলার মিরিঞ্জা পর্বতশ্রেণীর ১৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মারাইংতং পাহাড় বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে এক গভীর ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। ১৯৯২ সালে এখানে মহামতি গৌতম বুদ্ধের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের পর থেকে এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের শ্রদ্ধা ও পূজার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে সম্প্রতি এই পবিত্র স্থানটিকে ঘিরে বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বৌদ্ধ ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে, মারাইংতং পাহাড়ের নির্জন ও শান্ত পরিবেশ ধ্যান ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ১৯৯২ সালে ভিক্ষু সংঘের উদ্যোগে বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন এই স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ‘মহইদই বৌদ্ধ ধাম্মা জেদী’ নামে আরও একটি বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিতভাবে বৌদ্ধ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এই পাহাড়ের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তবে সম্প্রতি একটি মহল মারাইংতং জেদীকে ঘিরে ব্যবসায়িক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ‘জুমঘর’ নাম দিয়ে কিছু স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে, যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন ওই স্থাপনাগুলো ভেঙে দিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। লামার সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চম্পট ম্রো বাদী হয়ে জেদীর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম উ উইচারা ভিক্ষুকে প্রধান আসামী এবং অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মীয় ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে লামা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মারাইংতং জাদীর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম উ উইচারা ভিক্ষু এই প্রসঙ্গে বলেন, “বৌদ্ধ ধর্মের নীতি আদর্শ ও দায়ক-দায়িকাদের আবেগ-অনুভূতিকে উপেক্ষা করে কতিপয় ব্যক্তি সেখানে বাণিজ্যিক ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করছে। সেখানে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে জুম ঘর নাম দিয়ে কটেজ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ করেছে। প্রশাসনিক নোটিশ ও নানা ধরণের তদন্তে আমরা এখন নিরূপায়।”
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে মারাইংতং কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে স্থাপিত বুদ্ধ মূর্তি যুগ যুগ ধরে শান্তির বার্তা বহন করে চলবে এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের হৃদয়ে এক গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করবে – যা কেবল পূজা-অর্চনার মাধ্যমেই সম্ভব। এই পবিত্র স্থানটির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বজায় রাখার জন্য স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায় কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :