আলীকদম কলেজ ক্যাম্পাসে অবকাঠামো নির্মাণে লে-আউট ও কিছু কথা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩১, ২০২৫, ১২:৫৪ অপরাহ্ন /
আলীকদম কলেজ ক্যাম্পাসে অবকাঠামো নির্মাণে লে-আউট ও কিছু কথা

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।

তিন পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলার মধ্যে আলীকদম উপজেলার অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে। এটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জনপদ হিসেবেও আলীকদম সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালের আগে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে একমাত্র উপজেলা ছিলো আলীকদম যে উপজেলায় স্বতন্ত্র কোনো কলেজ ছিল না। সারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এ ধরণের কলেজবিহীন উপজেলা বিরল।

আলীকদম উপজেলা গঠিত হয় ১৯৮২ সালের 0৭ নভেম্বর। ১৯৬৫ সাল থেকে এ উপজেলায় একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ১৯৭৬ সাল থেকে মাধ্যমিক স্থরের যথেষ্ট বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজে ছিলো উদ্যম-উদ্যোগের অভাব।

অবশেষে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯ সদস্যের একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটিতে আমি ছিলাম একজন নগণ্য সদস্য। তৎকালীন ইউএনওর অনুপ্রেরণা দিকনির্দেশনায় আমরা তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে জমি দানপত্র গ্রহণে অনেকদূর অগ্রসর হতে সক্ষম হই। একে একে ৮টি দলিলের মাধ্যমে ৭.৮৪ একর ১ম ও ৩য় শ্রেণি জমি দানপত্রসূত্রের পাওয়া যায় আলীকদম কলেজের নামে। জমি অধিগ্রহণ, দানপত্র দলিল সৃজন থেকে শুরু করে কলেজের ক্যাম্পাসের পুরো রূপরেখা তৈরীতে আলীকদম উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো জনাব ম্রাগ্য মার্মার অবদান অবিস্মরণীয়।

কলেজের সাংগঠনিক কমিটির মাধ্যমে জমি দানপত্র গ্রহণের সময় আমাদের এ কাজে শুরু থেকে অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব জামাল উদ্দিন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব অংশেথোাই মার্মা, ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, শফিউল আলম মেম্বার সহযোগিতার হাত বাড়ান। এ ধারাবাহিকতায় দাতা সদস্য জনাব আব্দুল মন্নান তফাদার, জনাব এরশাদ মিয়া, জনাব হাসান আতায়ী, জনাব মোঃ হোসেন, জনাব মোহাং হাছান, জনাব মোহাং হোছাইন, জনাব মোহাং শফিকুর রহমান, জনাব মুশতাক আহাং, জনাব মোহাং মামুনুর রশিদ, জনাব মোঃ আনছার আলী, জনাব আবুল খাইর মানিক ও জনাব নূর হোসেন তাঁদের জমি থেকে আলীকদম কলেজকে সাধ্যমতো জমি দান করেন।

আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ যখন পুরোদমে চলছে তখন শুরু হয় স্থানীয় চাড়ালদের চন্ডালীপনা। তারা কলেজের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় ছালেহা বেগম নামের এক মহিলাকে দিয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২, বান্দরবান-এ জমি দানপত্র দাতা এরশাদ মিয়া, সাংগঠনিক কমিটির সদস্য ও উদ্যোক্ত জামাল উদ্দিন, মমতাজ উদ্দিন আহমদ, অংশেথোয়াই মার্মা এবং সাবেক ইউপি মেম্বার শফিউল আলমের নামে সি.আর মামলা নং- ০২/২০২৪ ধারা: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪/৫/৭/১০/১৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে জমির বিরোধ নিরসনে স্থানীয় ছালেহা বেগম থেকে আরও ০.৭০ শতক জমি ৩ লক্ষ টাকার অঙ্গীকারে ১ লক্ষ টাকা প্রদান করে কলেজের নামে কেনা হয়। তখন কলেজের নামে দানপত্র ও ক্রয়সূত্রে জমির পরিমাণ হয় ৮.৫৪ একর ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণির জমি।

আলীকদম উপজেলার ২৮৯নং চৈক্ষ্যং মৌজার তারাবুনিয়া এলাকায় একইখন্ডের আওতাভূক্ত আলীকদম কলেজের নামে নেওয়া এসব জমি।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর আলীকদম কলেজ এর এসব জমি পরিদর্শন করেন আলীকদম সেনা জোনের তৎকালীন কমাণ্ডার লে. কর্নেল মোঃ সাব্বির হাসান, পিএসসি, তৎকালীন উপ-অধিনায়ক বর্তমানে জোন কমাণ্ডার লে. কর্নেল মোঃ শওকাতুল মোনায়েম, পিএসসি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাবের মোঃ সোয়াইব। এ সময় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আমরা ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন ইউএনও ও কলেজ প্রতিষ্ঠার সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি জনাব জাবের মোঃ সোয়াইব এর নেতৃত্বে ‘আলীকদম কলেজ’ এর নিজস্ব জমিতে সাইনবোর্ড তোলেছিলাম। সেদিন নবমেঘগর্জনপুলকিত ময়ূরের মত আমার হৃদয় নৃত্য করেছিল!

এ জনপদের শিক্ষাদারিদ্র্য দূরিকরণে সেদিন আলীকদম কলেজের নিজস্ব জমিতে সাইনবোর্ড উত্তোলন ছিলো একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা একটি পার্বত্য উপজেলায় এমন প্রবল তেজে শিক্ষাদারিদ্র্যকে জয়ী করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা সেই ক্ষমতা বোধহয় আমাদেরকে সে সময় দিয়েছিলেন!

কলেজের জমিতে সাইনবোর্ড উত্তোলনের দিন গড়িয়েছে অনেক। এরপর ২০২৪-2025 শিক্ষা সেশন থেকে আলীকদম কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা ছাড়াও এ কাজে হাত বাড়ান স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দলমতের যুবসমাজ। আলীকদম প্রেসক্লাবের একটি কক্ষকে আলীকদম কলেজের অস্থায়ী কার্যালয় বানানো হয়।

অপরদিকে, পানবাজারস্থ জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত টাউনহলকে প্রচুর অর্থ খরচ করে কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরী করা হয়। ২০২৪-2025 সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার জন্য লামা কলেজের প্রিন্সিপাল মোনায়েম স্যার ও হেফাজতুর রহমান কলেজের প্রিন্সপাল জনাব নুরুন্নবী স্যারের শরনাপন্ন হই। তাঁরা আলীকদম কলেজকে সহযোগিতা করতে রাজী হলেন।

গত ৭ জুন ২০২৪ তারিখে উপজেলা সদরের পানবাজার টাউনহলে অস্থায়ী ক্যাম্পাস করে আলীকদম কলেজ এর পুনরায় সাইন বোর্ড উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার জনগণ, রাজনৈতিক দল ও সহযোগি সংগঠনের নেতারা কলেজ প্রতিষ্ঠায় এককাতারে শামিল হয়েছিল।

এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো- বেসরকারি কলেজ কিংবা অন্যবিধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারি কিছু বিধি-বিধান ফলো করতে হয়। বিশেষতঃ শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা ছাড়া গত্যান্তর নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে অনুসরণ করতে হয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃত প্রদান নীতিমালা-২০২২’।

আমরা এ নীতিমালা অনুসরণ করে স্থানীয় সাংগঠনিক কমিটি থেকে ৪ জন উদ্যোক্তা মিলে চট্টগ্রাম ৮ জুলাই শিক্ষাবোর্ড আবেদন করি। গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে আলীকদম কলেজের জমি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব রেজাউল করিম ও কলেজ পরিদর্শক জনাব প্রফেসর জাহেদুল ইসলাম। আমরা যথাসাধ্য এ দু’জন কর্মকর্তাকে আলীকদম কলেজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় কথা তুলে ধরতে সক্ষম হয়। এর ফলস্বরূপ ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর ‘আলীকদম কলেজ স্থাপনের অনুমতি’ প্রদান করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।

৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ২০২৪-২০২৫ সেশনে আলীকদম কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে বড় ধরণের ধাক্কা লাগে। অবশেষে আলীকদম কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর জন্য আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে শিক্ষানুরাগী একজন ইউএনও এবং এসিল্যান্ড পেলাম আমরা। যাঁদের ঋণ শোধ করার মতো নয়।

আলীকদম উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও জনাব মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী ও এসিল্যান্ড রূপায়ন দেব কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর জন্য সর্বোতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ান। আমাকে আগস্টের ৩০ তারিখ তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কলেজের শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরামর্শ দিলেন ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী।

একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর জন্য যা যা লাগে তা এ ক’দিনের মধ্যে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সেটআপ করা হলো। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ আলীকদম কলেজের ইতিহাসে একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। এ দিন সংক্ষিপ্ত একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাত্র ৪ জন বক্তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ‘আলীকদম কলেজ’ এর শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে আমরা সক্ষম হই। এটি দয়াময়ের অপার করুণা ছাড়া সম্ভবপর নয়। সেদিন সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে আমি আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরি।

বর্তমানে আলীকদম সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব মুজিবুর রহমান (মানিক স্যার)। তারুণ্যদীপ্ত ইউএনও গত ক’মাস আগে আলীকদম যোগদান করলে তাঁকে কলেজ সম্পর্কীত তথ্য-উপাত্ত জানানো হয়। উনি কলেজের পরবর্তী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষানুরাগী এ কর্মকর্তার হাত ধরে বর্তমানে আলীকদম কলেজ পরিচালনায় নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে। অচিরেই কলেজের প্রশাসনিক জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ইউএনও’র দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণা নিয়ে আমরা ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ জুমার নামাজের পর আলীকদম কলেজের নিজস্ব জমিতে অবকাঠামো তৈরীর কাজে হাত দিয়েছি। এদিন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব জুলফিকার আলী ভূট্টো, প্রেসক্লাব সভাপতি জনাব মমতাজ উদ্দিন আহমদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব শরীফুল ইসলাম, জমি দাতা আনছার আলী, নুর আহাম্মদ-সহ সাংগঠনিক কমিটি, প্রকৌশলী ও স্থানীয় লোকজন।

সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন স্নিগ্ধ পবিত্র প্রভাতে ‘আলীকদম কলেজ’ নামের এই বটবৃক্ষ ছায়াদান শুরু করবে! বিপুলচ্ছায়া এই বটবৃক্ষের তলে বসে জগতের তাবৎ জ্ঞান আহরণ করবে আলীকদমসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার শিক্ষার্থীরা! পাহাড়ের চূড়ায় পুণ্য সমীরণে এবং নির্মল সূর্য্যালোকের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আলোরপ্রভায় আলোকিত হবে। তখন স্বার্থক হবে আমাদের শ্রম।

আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠায় শ্রম বিনিয়োগ করেও ইতোমধ্যে চাড়ালের চন্ডালীপনার শিকার হয়েছি আমরা ক’জন। মিথ্যা মামলার জালে জড়িয়েছে কুচক্রীরা আমরা ক’জনকে। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি, আলীকদম উপজেলার সাবেক ইউএনও জাবের মোঃ সোয়াইব ও ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে। কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অবদান থাকবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এ জনপদের জনগণের দোয়ায় ধন্য হবেন তাঁরা। দরাজদিল্ এই ইউএনওদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা না পেলে হয়তো আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিলো সুদূর পরাহত।

গত ২ জুন ২০২৪ তারিখে আলীকদম উপজেলা পরিষদ হলরূমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বান্দরবানের তৎকালীন সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে সে বরাদ্দ থেকে ৩ কোটি টাকার প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই ও সদস্য জনাব সাইফুল ইসলাম রিমনের বদান্যতায় আলীকদম কলেজ গেই ও পুরো জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই ‘আলীকদম কলেজ’-এর পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবনসমুহ, সীমানা প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

দরাজদিল এসব মানুষের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আশ্বাসে পাহাড়ি উপজেলা আলীকদমের সমস্ত শূন্য প্রান্তর এবং উদার আকাশ তৃষিত বক্ষের ন্যায়, ব্যাকুল প্রসারিত বাহুর ন্যায় সেইদিনের জন্য অপেক্ষা করে আছে। আমার ক্ষুদ্র শক্তি অনুসারে আমিও সেইদিনের প্রতীক্ষায় প্রার্থনা করছি।

গিরিনন্দিনী আলীকদম উপজেলায় কেউ কি আদৌ আর আমাদের সেই উদার আকাশ, আমাদের ওই দিগন্তবিস্তীর্ণ মাঠ কেড়ে নিতে পারবে? যেখানে সৃষ্টি হবে জ্ঞানকাননের সব অবকাঠামো! যেখানে থাকবে আমাদর সকলের জন্য জ্ঞানের অবকাশ, আমাদের ধ্যানের অবকাশ। কোনো বর্ণচোরা কি আমাদেরকে আর বঞ্চিত করতে পারবে?

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে অবস্থিত প্রিয় জন্মস্থান আলীকদমে যে পরমা মুক্তির অচলপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, তাহা স্তব্ধ, তা নির্বাক, তা দীন, তা দিগম্বর, তা শাশ্বত! ২০২৩ এর জুলাইয়ের পর থেকে অদ্যাবধি কলেজ প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় সৃষ্টিতে বহু বলীর বাহু ও ক্ষমতাশালীর স্পর্দ্ধা স্পর্শ করতে পারেনি।

কলেজের জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির জন্য অবিরতভাবে চাড়ালদের চণ্ডালীপণা আর নিষ্ঠুরতার কটাক্ষে আমরা ভ্রূক্ষেপ করিনি। তাদের উষ্মা আর নিষ্ফল ধিক্কারে কর্ণপাত করিনি। তাদের সেসব কৌশল আজ নির্বাক-নিথর হয়ে তপোবনের দ্বারে আবর্জনার মত পড়ে রয়েছে।

সৃষ্টির চিরায়ত সুষমায় ‘আলীকদম কলেজ’ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারীরা দিনশেষে কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরলভূষণ বিশালতার মধ্যে আত্মসমর্পন করবে। সেদিন বেশী দূরে নয়। যেদিন হবে পার্বত্য জনপদ আলীকদমে নির্বোধ-কুপমণ্ডুক নেতৃত্বের অবসান। জাগবে পুরো আলীকদমবাসীর মধ্যে আলোর দিশা! আশা করা যায়, ইতিহাস তার সরল গতিপথ নির্ধারণ করে সাক্ষ্য দিবে।

অবশেষে দরাজকণ্ঠে উচ্চারণ করছি, ‘আলীকদম কলেজ’এর আশ্রমবৃক্ষ হতে শিরীষ পুষ্পের সুঘ্রাণ সবার জন্য  উন্মুক্ত। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলি-

“এবার মহা-নিশার শেষে

আসবে ঊষা অরুণ হেসে

করুণ্‌ বেশে!

দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু-চাঁদের কর!

আলো তার ভরবে এবার ঘর।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!”

লেখক: মমতাজ উদ্দিন আহমদ, সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও আহ্বায়ক, জনসংযোগ উপ-কমিটি, আলীকদম কলেজ।