ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন আজ


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৩, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন /
ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন আজ

প্রেসক্লাব ডেস্ক:

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়—‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্ত…।’ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন আজ। ফুল ফোটানোর পুলকিত সময় আজ। মাতাল হাওয়া, উড়াল মৌমাছিদের গুঞ্জরন, গাছের কচি পাতা আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন আজ।

মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। স্বাগত বসন্ত। প্রাণ খুলে তাই যেন কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে এতো ফুল ফোটে/এতো বাঁশি বাজে/এতো পাখি গায়…’।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি অনাদিকাল থেকেই। কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় আছে বসন্তের বন্দনা। ষড়ঋতুর দেশে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিতেই মূলত বসন্ত জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর পাড়, গাছ, মাঠভরা ফসলের ক্ষেত বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। চোখ বুজলেও টের পাওয়া যায় এসব দৃশ্যপট। তবে নগর জীবনেও বসন্ত ছন্দ তোলে মৃদু হিল্লোলে। কংক্রিটের নগরীতে কোকিলের কুহুস্বর ধ্বনিত হয় ফাগুনের আগমন সামনে রেখে। যানজট, কোলাহল ছাপিয়েও যেটুক প্রকৃতি খুঁজে পাওয়া যায় নগরে, একেই অতি আপন করে নেন নগরের কর্মব্যস্ত মানুষ।

ফাগুন হাওয়ার দোল লেগেছে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতেও। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির সবুজ অঙ্গন। মাঘের শেষ দিক থেকেই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। শীতে খোলসে ঠুকে থাকা কৃষ্ণচুড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।

বসন্ত শুধুু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়। বায়ান্ন সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। অন্যবারের মতো ফাগুনের প্রথম দিনে আজ তারা মিলিত হবেন মনকে বসন্তের রঙে রাঙিয়ে। প্রীতির বন্ধনে আপন মহিমায় খুঁজে নেবেন বসন্তকে।