আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট কবে কাটবে?


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০২৩, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন /
<strong>আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট কবে কাটবে?</strong>

চাইমং মার্মা, বান্দরবান  || রাইজিংবিডি.কম

বান্দরবান আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে বহু বছর ধরে। বিদ্যালয়টিতে ১৩ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন শিক্ষক দিয়েই শিক্ষার্থীদের চলছে পাঠদানের কার্যক্রম।

ফলে বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করা ৫০০ শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে-বারান্দায় দাঁড়িয়ে একে অন্যের সঙ্গে গল্প করছেন। আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত।

বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ধারিত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দমত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারছেন না।

অনেক বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় এসএসসি’র মতো বোর্ড পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফল করতে পারছেন না এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে তারা। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শূণ্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিদ্যালয়ে ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৩টি পদের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। শূন্য রয়েছে ৭টি পদ। শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে তাই তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদানের কার্যক্রম ।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ৪র্থ শ্রেণির চারজন কর্মচারীর স্থলে আছেন ২ জন। এরমধ্যে একজন কয়েকমাস পর অবসরে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টিতে ইংরেজী, ব্যবসায় শিক্ষা, জীববিজ্ঞান, কৃষি বিষয়ের কোন শিক্ষক নেই।

গতবছর এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের দাবীতে মানববন্ধন পর্যন্ত করেছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সে আশ্বাস আলোর মুখ দেখেনি।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নয়ন  বলেন, ‘স্যার নাই। তাই রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে না।’

বিদ্যালয়টিতে সারাদিনে দুই থেকে তিনটি ক্লাস হয় বলে জানান ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের অপর এক শিক্ষার্থী। জেনিপ্রু মার্মা নামের ১০ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বলেন, বিষয় ভিত্তক শিক্ষক না থাকায় ক্লাস হয় না।

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘এ উপজেলায় একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেশি এখানে। কিন্তু শিক্ষক নেই। খুব কষ্ট হয় তারপরও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। যারা শিক্ষক আছেন তাঁরা সবাই অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে কোনো রকমে বিদ্যালয়টিকে চালিয়ে নিচ্ছেন।’ 

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান চালাতে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষকদের। কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের শূণ্য পদে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক পদায়ন করার আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। বাধ্য হয়ে তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম ফারুক বলেন, আমি বিষয়টি জানি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষক সঙ্কটের কথা জানিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো. সোয়াইব বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে অবহিত করেছি। তারপরও বিদ্যালয়টির শূন্য পদে যাতে শিক্ষক দ্রুত নিয়োগ করা যায় তার জন্য যতটুকু করা সম্ভব তা করবো।