আলীকদম কলেজের নামে জমি দানকারী আনছার আলীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজনেরা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩, ৩:৪২ অপরাহ্ন /
আলীকদম কলেজের নামে জমি দানকারী আনছার আলীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজনেরা

এপিসি ডেস্ক:

আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠায় জমি দানকারী মোঃ আনছার আলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন। এক সময়ের দিনমজুর খেটেখাওয়া এ মানুষটি ২ একর জমির দানপত্র দলিল দেওয়ার আগে ষোষণা করেছিলেন ‘শিক্ষা অমূল্য ধন, আমি বকলম, আমি কলেজের জন্য জমি দিমু’।

খেটেখাওয়া আনছার আলী ছবি সম্বলিত একটি কার্ড তৈরী করে ফেসবুকে গত ২২ নভেম্বর পোস্ট করা হলে শতাধিক কমেন্ট পড়ে লিঙ্কে। নিচে বাঁচাইকৃত কমেন্টগুলো তুলে ধরা হলো।

হোসাইন আকতার রাফি’ নামে একজন ব্যাংকার লিখেছেন-

‘কালের বিবর্তনে আনছার আলীকে হয়ত কেউ মনে রাখবে না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে যা কেউ মুছতে পারবেনা।’

সাকিব খান নামের একজন লিখেন-

‘উনার নামে কলেজের যেকোন একটা হলের নামকরণ করা হউক, ভবিষ্যতে। কলেজ পূর্ণরূপ নিলে, পাঠদান শুরু হলে- অফিস কক্ষে উনার ছবি থাকলে মনটা ভরে যাবে। আল্লাহ্ উনার দান’কে কবুল করুন।’

জ্যোৎস্না ইকবাল নামের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন,

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আনসার ভাইকে নিজে লেখা পড়া না করেও শিক্ষার মর্ম অনুধাবন করতে পেরেছেন স্যালুট আপনাকে। মানবতার জয় হোক। এই মহৎ কাজের জন্য আপনি স্বরনীয় হয়ে থাকবেন।

নয়ন কান্তি দে লিখেন-

‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি আনচার আলী মামা সহ ভূমি দাতাদের।আলীকদমে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র নির্মাণে ভূমি দাতাদের এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

মনজুর এ এলাহী শওকত নামে একজন কলেজ শিক্ষক লিখেন-

আনছার আলীরা একেকটা মোম, যার থেকে লাখো মোম জ্বলবে। তা°রা অনন্তকাল মানুষের মাঝে বে°চে থাকবেন। স্যালুট আপনাদের প্রতি।

ট্রাভেলার ইসমত ইলাহী লিখেন-

জনাব আনছার আলী’র প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। উনার এই দান এবং অনুধাবন ই প্রকৃত শিক্ষা।

আলীকদম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন লিখেন-

আলহামদুলিল্লাহ।

আনছার ভাই খুবই ভাল মনের মানুষ।

স্কুল শিক্ষক এএসএম মুকুল লিখেন-

অশিক্ষিতের কাছে শিক্ষিতদের অনেক কিছুই শিখার আছে, স্যালুট চাচা আপনাকে আর আপনার উদার ও শিক্ষিত মন-মানসিকতাকে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মমতাজ শাহানা লিখেন-

শুধু টাকা থাকলে হয় না, প্রয়োজন উদার মন মানসিকতা। উনি নিরক্ষর হয়েও এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। স্যালুট জানাই উনাকে।

প্রথম আলো’র বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা লিখেন-

‘উনারর নামে করেন কলেজ। আলীকদম বকলম আনসার আলী কলেজ।’

একে এমডি নোমান চৌধুরী লিখেন-

শুধু টাকা থাকলে হয় না, প্রয়োজন উদার মন মানসিকতা। উনি নিরক্ষর হয়েও এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। স্যালুট জানাই উনাকে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপ্লব চৌধুরী লিখেন-

মানবতার জয় হোক।আপনি অনেক মহৎ মনের মানুষ।

নির্বাচন অফিসের কর্মচারী মোঃ মাসুদ পারভেজ লিখেন-

আপনার কলেজের জমি দানের কথা আলীকদমের মানুষ সারা জিবন মনে রাখবে।

তাহসিন নামের একজন ফেসবুকার লিখেন-

আলহামদুলিল্লাহ।তার উদার মন মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

সাবেক ইউপি মেম্বার শফিউল আলম বলেন-

তিনি সব জমি দান করে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। উনার দান ইতিহাসে লেখা থাকবে। তাদের দান কখনো ভুলা যাবে না। আনছার আলীর জন্য শুভ কামনা রইল।

কিয়ামুল হুদা নামের একজন লিখেন-

আজীবন দাতা সদস্য এবং ওনার নামে একটি পাঠাগার স্হাপন করা উচিত। আল্লাহ ওনাকে হায়াতে তৈয়বা দান করুন।

গাড়ি চালক মোঃ মিজানুল ইসলাম লিখেন-

খেজুর গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করা আনছার আলী কলেজের জন্য জমি দান করলেন। উনার এই দানকে কলেজে স্মরণীয় করে রাখা দরকার।

খুলনার কলরোয়া থেকে আক্তার জামান লিখেন-

স্যালুট এই মহান মানুষটাকে। আমার একটা সালাম পৌছে দিবেন। আর যদি ইহকালে কখনো সুযোগ পাই তাহলে উনার পদধূলি নিয়ে আসবো।

চট্টগ্রাম বিজিসে ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এমডি রেজাউল করিম খোকন লিখেন-

সাদা মনের সরল মানুষ…!

এরা আছে বলেই পৃথিবীটা এখনো এতো সুন্দর,

এখনো এতো সবুজ…!

মোহাম্মদ শফিক লিখেন-

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই,

ওদের নাম যেন আমাদের সকলের হৃদয়ে স্মরণাক্ষরে লিখা থাকে।

সালাম মোঃ সাদ্দাম হোসেন লিখেন-

আলহামদুলিল্লাহ্‌। নিরক্ষর একজন ব্যক্তি অক্ষরের অবদানে ইতিহাস রচনা গড়লেন।মুরুব্বির দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করছি।

আসহাব বিন রফিক লিখেন-

ভালোবাসা নিরন্তর। যারা নিজেদের তিলে তিলে জমানো সঞ্চয় মানবতার জন্য বিলিয়ে দিয়েছে। অফুরান দোয়া তাদের জন্য, যারা সুবোধ জাতি গড়ার কারখানা তৈরি করে দিচ্ছেন।

জুবাইর মাহমুদ নামের একজন লিখেন-

পৃথিবীতে এমন মহৎপ্রাণ মানুষের সংখ্যা খুবই কমই আছে ।

স্থানীয় মিডিয়াকর্মী রাসেল মজুমদার লিখেন-

শ্রদ্ধেয় জনাব আনসার আলীর নামে কলেজের কোন একটা স্থাপথ্যের নামকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

স্থানীয় আমির হোসাইন মুন্না লিখেন-

শিশুকাল থেকেই দেখে আসছি লোকটাকে, খুব সহজ সরল একটা মানুষ।

এই সরল মানুষটাকে ইতিহাসে অমর করে রাখতে আনসার আলী নামানুসারে কলেজের একটা বভন এর নাম দেওয়া হউক।

এমডি আবুল কালাম আজাদ লিখেন-

অবশেষ এই গরীব মানুষটাই কলেজের জন্য জমি দিল। অনেক ধনী লোকে জমি দিতে দ্বিধাবোধ করেছে। অভিনন্দন জানাই আনছার আলী মামাকে।

সরকারি চাকুরীজীবি চাথুই মার্মা লিখেন-

আনছার আলী একজন খুব সহজ সরল ও ভাল মানুষ।

আমরা সেই ছোট্ট বেলায় একসাথে মাতামুহুরি নদীতে বন্যার সময় গাছ (লাকড়ি ) ধরতাম।

সে সত্যিই ভাগ্যবান, আলীকদম কলেজের সাথে তার নামটা জুড়িয়ে দিতে পেরেছে।

আনছার আলী সহ সকল ভূমি দাতা কে অন্তর থেকে স্যালুট জানাই।

নাঈম তোয়াহা লিখেন-

রাইট ডিসিশন। আমার জানামতে উনি একজন সমাজের অসহায় দরিদ্র লেভেলের মানুষ। ওনাকে সরকারিভাবে সম্মাননা দেওয়া হোক। মানুষ ছোট হলেও কলিজা অনেক বড়। শিক্ষার প্রতি অবিরাম সম্মান শ্রদ্ধা দেখিয়ে তা প্রমান করে দিয়েছেন। জয় হোক মেহনতি মানুষের। স্যালুট দাদা ভাই। may allah bless you.

এমডি আরাফাত লিখেন-

হে আল্লাহ! তুমি আনসার আলী ভাইকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ে সম্মানি ব্যাক্তি বানিয়ে দাও। পরিবারের সবধরনের বালা-মুসিবত এবং অভাব দুর করে দিও। আমিন!

আলীকদম উপজেলার সাবেক পিআইও সুজন দাশ লিখেন-

মহান ব্যক্তিত্ব বিকাশের মানুষ, মানবিক মানুষ।

অনেকের সম্পদ থাকে কিন্তু মন থাকেনা।

কথায় আছে “কীর্তিমানের মৃত্যু নাই”।

আনছার আলীর জন্য শুভকামনা রইলো।

এমডি সাকিব খান লিখেন-

উদার মন মানষিকতার মানুষ।

উনি এত বেশি টাকা-পয়সাওয়লা ব্যাপারটা এরকমটা না। আমি উনাকে অনেক ভালো করে চিনি। খুব সহজ সরল খেটে খাওয়া একজন মানুষ। আল্লাহর কাছে আপনার নেক হায়াত এবং আপনার সুস্থতা কাম্য করছি।

এছাড়াও ছোট ছোট অসংখ্যা পজেটিভ কমেন্টে মানুষের দোয়ায় সিক্ত হয়েছেন মোঃ আনছার আলী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আনছার আলী হাস্যোজ্জ্বল ভাবে বলেন, আমি তো লেখাপড়া করতে পারলাম না। টাকার অভাবে ছেলে-মেয়েদেরও তেমন শিক্ষিত করতে পারি নি। আমি চাই আমার জমিতে কলেজ হয়ে সবার ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত হোক। এতে আমার শান্তি হবে।