‘আলীকদম কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে’ -বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩, ১:১৮ অপরাহ্ন /
‘আলীকদম কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে’ -বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি

॥মমতাজ উদ্দিন আহমদ॥

      ‘আলীকদম কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে প্রকল্প নিতে বলা হয়েছে। এ উপজেলায় অতীতে যোগ্য কোন নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি, তাই এতদিন কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়নি। আমি আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠায় যেকোন সহযোগিতায় প্রস্তুত আছি।’ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ৩০০নং পার্বত্য বান্দরবান আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি’র সাথে এ প্রতিবেদকের একান্ত আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

     গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় আলীকদমে অবস্থান করছিলেন ৩০০নং পার্বত্য বান্দরবান আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। বুধবার সকালে তিনি আলীকদম উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে স্থানীয় নেতাকর্মীর সাথে নির্বাচন এবং আলীকদম উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন-পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছিলেন।

     এ সময় সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের মধ্যস্ততায় এ প্রতিবেদকের সাথে পার্বতমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি’র সাথে আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট নিয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

     এতে  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য দুংড়িমং মার্মা, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি উইলিয়াম মার্মা, সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শুভরঞ্জন বড়–য়া, শফিউল আলম মেম্বার, আব্দুল মুবিন মেম্বার ও নাছির উদ্দিন সওদাগর।

     পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এ সময় বলেন, আমি শুনে খুশী হয়েছি, আলীকদমবাসী স্বেচ্ছায় জমি দান করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছেন। এখন কলেজ প্রতিষ্ঠায় আর কোন বাধা নেই। যেকোনো মূল্যে আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠা হবেই। আমার দীর্ঘদিনের কামনা ছিল আলীকদমে কলেজ প্রতিষ্ঠায় সচেতন লোকজন আসুক।

   তিনি আরো বলেন, আমি গত ৩০ বছর ধরে বান্দরবান আসনের এমপি। এরমধ্যে ১০ বছর বিরোধী দলে ছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের ২০ বছরে সম্প্রীতির বান্দরবানে আমি অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি। আমার উদ্যোগে বান্দরবানবাসী বিশ^বিদ্যালয় পেয়েছে। বান্দরবানের বাকী ছয়টি উপজেলায় কলেজ নির্মাণে যারা এগিয়ে এসেছে তাদেরকে আমি সর্বাত্মক করেছি। এমনিক অনেক সময় নিজে টাকা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিয়েছি।

    আলীকদম উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক কলেজ প্রতিষ্ঠাতা কমিটির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বক্তব্য রাখার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তার বক্তব্যে কিচ্ছু আসে যায় না, কলেজ হবে। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলে দেওয়া হয়েছে যাতে৩বহুতল বিশিষ্ট আলীকদম কলেজের একাডেমিক ভবনের প্রকল্প গ্রহণ করেন।

   তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আলীকদমবাসীর দুর্ভাগ্য, তারা উপজেলা পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারেনি। আমার সাথে অতীতে উপজেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আলীকদমের সামগ্রীক উন্নয়নের জন্য দেখা করেনি। কখনো কোনো প্রকল্প উপস্থাপন করেনি। তাই বলে আমি বসেও থাকিনি। আমি আলীকদমের উন্নয়নে রাস্তাঘাট, শিক্ষা, চিকিৎসা, মসজিদ, মন্দির, কেয়াংসহ জনমানুষের কল্যাণে গত ৩০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে বিদ্যুৎ যায়নি, সেখানে সোলার প্যানেলের বিদ্যুতে পাহাড় আলাকিত করেছি।

   মন্ত্রী মহোদয়ে জ্ঞাতার্থে আলীকদম প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইতোমধ্য আমরা ৭টি দানপত্র দলিল মূল্যে আলীকদম কলেজের জন্য ৭ একর ৮৪ শতক জমি পেয়েছি। এরমধ্যে দানপত্রের ৭০ শতক জমি নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ালেও নিষ্কক আরো ৭ একর ১৪ শতক জমি রয়েছে। ইতোমধ্যে সদ্য বিদায়ী ইউএনও জাবের মোঃ সোয়াইব এর মাধ্যমে আমরা আলীকদম কলেজ এর অনুকুলে দানপত্র মূলে পাওয়া জমির সুষম ব্যবহারের লক্ষ্যে ‘অল স্কয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনসালটেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা ২০ বছর মেয়াদী একটি থ্রিডি প্ল্যান করে নিচ্ছি।’

   এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মন্ত্রী মহোদয়ের প্রেরণায় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ বহুদূর এগিয়েছে বলে জানান। তারা যেকোনো বিনিময়ে আলীকদমবাসীর আগামীর ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে কলেজ প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।       

   উল্লেখ্য, আলীকদম উপজেলা সৃষ্টির ৪১ বছর পরও আলীকদমে কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়নি। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে পার্বত্যমন্ত্রীর প্রেরণায় কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষানুরাগী মহল। দীর্ঘদিন পর হলেও আলীকদম কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসায় বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন।

     দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার উপলক্ষ্যে ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর আলীকদম, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নে পৃথক পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিয়েছেন ৩০০নং আসনে নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর বাহাদুর। এ তিনটি জনসভায় প্রচুর লোক সমাগম ঘটে।