মাতামুহুরী নদীর উৎসমুখের পথে: এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণকাহিনী


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৫, ৬:০৯ অপরাহ্ন /
মাতামুহুরী নদীর উৎসমুখের পথে: এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণকাহিনী

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।

মাতামুহুরী! নামটি যেন মায়ের ডাকের মতোই হৃদয়ে মিশে আছে। এই নদীর তীরেই আমার জন্ম, শৈশব আর তারুণ্যের দুরন্ত সময় কেটেছে এর স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে সাঁতরে। তাই এই নদীর প্রতি আমার অনুভূতি কেবল স্মৃতি আর ভালোবাসার। বহু বছর পর, জীবনের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে ফের ইচ্ছে জাগলো সেই মাতামুহুরীর উৎসস্থলে যাওয়ার।

অনেকের কাছে অজানা হলেও, শঙ্খ বা একলার মতো মাতামুহুরীও বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব নদী। বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের অদ্রিশৃঙ্গ থেকে শুরু হয়ে এই নদী এঁকেবেঁকে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। এর চলার পথে প্রকৃতির রূপ মুহূর্তে মুহূর্তে বদলায়।

বর্ষার যে কোনো সময়ে মাতামুহুরীর বুকে ভ্রমণ করলে দু’পাশের সবুজ পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য মনকে শান্ত করে তোলে। এর ভেতরের প্রাকৃতিক শোভা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, কেবল অনুভব করা যায়। সবুজ অরণ্য আর নদীর কুলকুল ধ্বনি এক ভিন্ন জগতের সৃষ্টি করে, যা ভ্রমণকারীদের মন ও প্রাণে আনন্দের ঢেউ তোলে।

এই মাতামুহুরী নদী যুগ যুগ ধরে এখানকার পরিবেশ, সম্পদ আর অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এর সাথে আমাদের সম্পর্ক চিরকালের, জীবন্ত ও অবিচ্ছেদ্য। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবারও সেই উৎসমুখের পানে যাত্রা করার আকাঙ্ক্ষা জাগা স্বাভাবিক।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী এই মাতামুহুরী। লামা ও আলীকদম উপজেলার অসংখ্য ঝর্ণা থেকে এর জলধারা সমৃদ্ধ হয়েছে। লোকশ্রুতি আছে, মাতামুহুরী কোনো একক উৎস থেকে সৃষ্টি হয়নি, বরং অসংখ্য পাহাড়ের বুক চুইয়ে আসা জলের ধারা বিভিন্ন খাল ও ঝিরির মাধ্যমে মিলিত হয়ে এই নদীর জন্ম দিয়েছে। ‘মুহুরী’ শব্দের অর্থই হলো অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে জল পড়ার ঝর্ণা, অনেকটা ইংরেজি ‘Shower’-এর মতো। তাই মনে করা হয়, বহু শাখা-প্রশাখার জল ঝর্ণার আকারে এসে মেশে বলেই এই নদীর নাম মাতামুহুরী।

তবে, মাতামুহুরীর একেবারে উজানে, উৎসমুখের এলাকাটি সাধারণভাবে ভ্রমণ prohibited। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমাদের এই যাত্রা সম্ভব হয়েছিল, দীর্ঘ ১১ বছর পর।

আলীকদম সদর অথবা পোয়ামুহুরী বাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাতামুহুরীর উৎসমুখে যাওয়া যায়। আমরা পোয়ামুহুরী বাজার ঘাট থেকেই নৌকায় রওনা হলাম। একটা তথ্য না বললেই নয়, ২০২১-’২২ সালের আগেও পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সরাসরি সড়ক ছিল না। সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়নে আলীকদম-পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ করে। তবে, এখনও এই সড়কটি পর্যটনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সড়কপথে পোয়ামুহুরী বাজারে গিয়ে, সেখান থেকে নৌকায় করে মাতামুহুরীর উৎসমুখের দিকে যাব।

সকাল সাতটায় পোয়ামুহুরী বাজার ঘাট থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। ইঞ্জিনচালিত নৌকা স্রোতের বিপরীতে চলতে শুরু করলো। ইঞ্জিনের শব্দ চারপাশের নীরবতাকে ভেঙে দিচ্ছিল। নদীর ধারে গাছের ডালে বসা একটি বানরের বিরক্তি দেখে মনে হলো শব্দে বুঝি তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে! কাছে যেতেই ভেংচি কেটে সে দ্রুত জঙ্গলে মিলিয়ে গেল।

উৎসমুখের দিকে যেতে যেতে মাতামুহুরী নদী সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যাক। ১৮৮০ সালের ১৭ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার এই নদীর উপত্যকার প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার একর পাহাড়কে ‘মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্ট’ ঘোষণা করে। এমনকি ১৮৭৮ সালের ব্রিটিশ গেজেটেও ‘মাতামুহুরী রিভার’ নামটি পাওয়া যায়। মারমা ভাষায় এই নদীর নাম ‘মোরেই খ্যোং’ বা ‘মেরিখ্যাইং’। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম জেলা প্রশাসক ক্যাপটেন টি. এইচ. লুইন তার ‘THE HILL TRACTS OF CHITTAGONG AND THE DWELLERS THEREIN’ (১৮৬৯) গ্রন্থে এই নামকরণের তথ্য উল্লেখ করেছেন।

টি.এইচ. লুইন তার লেখায় মাতামুহুরীর প্রকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এটি অগভীর এবং বেশিরভাগ অংশে সমান্তরালভাবে প্রবাহিত। যদিও মোহনায় এটি কয়েকটি ভাগে সমুদ্রে মেশে। নদীর বেশিরভাগ দৃশ্য একরকম হলেও উজানের কিছু উপনদী, বিশেষত তাদের উৎসের কাছাকাছি পাহাড়ি অঞ্চলে অসাধারণ সৌন্দর্য দেখা যায়। এমন একটি উপনদী ‘টুইন খ্যাং’-এর উজানে ভ্রমণের সময় একটি বিশেষ দৃশ্যের কথা তার মনে পড়ে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সমতলে প্রবেশের আগে মাতামুহুরী পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে সমান্তরালভাবে বয়ে উপত্যকা তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল নদীর দু’পাশের পাহাড়ে বনায়ন করা, যাতে সারা বছর নদীর নাব্যতা বজায় থাকে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক পর্যন্ত এই রিজার্ভ ফরেস্ট ছিল নদীর জলের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে, ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্যাপক বৃক্ষ নিধনের ফলে এই সবুজ অরণ্য বিরানভূমিতে পরিণত হয়।

অন্যদিকে, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মুরুং, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য উপজাতিরা পাহাড়ে জুম চাষ করে, যার ফলে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এক সময়ের সবুজ পাহাড় জুম চাষের মৌসুমে ছাইয়ের মতো ধূসর হয়ে যায়।

মাত্র দুই দশক আগেও এই মাতামুহুরী ছিল স্রোতস্বিনী এবং প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। নদীতে ছিল প্রচুর জলজ জীববৈচিত্র্য এবং কিছুদূর পরপর তীব্র স্রোত, যা স্থানীয়ভাবে ‘দরদরি’ নামে পরিচিত ছিল।

আজ সেই ভরা যৌবন আর নেই। বন উজাড়ের কারণে নদীর প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ বিপর্যস্ত। বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়ে নদীতে খুব কম জল থাকে। আমাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা বারবার চড়ায় আটকে যাচ্ছিল, বাধ্য হয়ে আমাদের নেমে নৌকা ঠেলতে হচ্ছিল।

অনেক বাধার পরেও নৌকা উজানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তবে জলের প্রবাহ ক্রমশ কমছিল। যদিও আমাদের যাত্রা ছিল বর্ষাকালে, যখন মাতামুহুরীর পূর্ণ যৌবনা থাকার কথা, তবুও উজানের দিকে গ্রীষ্মকালের মতো নাব্যতা সংকট দেখা গেল।

তবে, নদীর এই স্বল্প জলপ্রবাহ দেখে মনে হলো, আমরা তো যাচ্ছি নদীর উৎসের দিকে, সাগরের দিকে নয়। তাই যেকোনো নদী বা উপনদীর উৎসের দিকে জলের প্রবাহ কম থাকাটাই স্বাভাবিক।

আমাদের নৌকা অবিরাম উজানে চলতে থাকল। পথে আমরা দেখলাম ইন্দুখাল, সিন্দুখাল, মরণী খাল, তরণী খালের মতো অনেক উপনদী। এই খালগুলো মাতামুহুরী রিজার্ভ ফরেস্টের পূর্ব ও পশ্চিমের উঁচু পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। শোনা যায়, এদের উৎস পূর্বে সাঙ্গু পর্বতশ্রেণী এবং পশ্চিমে মিরিঞ্জা পর্বতশ্রেণীর বুক থেকে। প্রতিটি ছোট খাল যেন রাজার মতো খরস্রোতা মাতামুহুরীর সাথে মিলিত হয়ে একে আরও গতিময় করে তুলেছে।

যত গভীরে যাচ্ছিলাম, পাহাড় ততই উঁচু হচ্ছিল, আর গাছপালাও ছিল আরও ঘন। নদীর দু’পাশের সবুজ আর ঝোপঝাড় দেখতে দেখতে সময় বেশ ভালোই কাটছিল। মেঘ আর সূর্যের লুকোচুরি খেলা প্রকৃতিকে আরও মনোরম করে তুলেছিল।

সময়ের সাথে সাথে মাতামুহুরীর সুন্দর রূপের পাশাপাশি ভিন্ন রূপও চোখে পড়ল। কোথাও নদীর স্রোত তীব্র, আবার কোথাও একেবারে শান্ত ও ক্ষীণ। কোথাও কোমর জল, আবার কোথাও শুধু পায়ের পাতা ভেজানোর মতো। আবার পাশেই গভীর খাদ, যেখানে জলের ঘূর্ণি তৈরি হয়েছে, অথবা বড় পাথরের ধাক্কায় স্রোত ফেনিয়ে উঠছে।

আমাদের দলের ফারুক তার স্যামসাং এস২৩ আল্ট্রা দিয়ে চমৎকার সব ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। নৌকায় থাকা এই আন্তরিক মানুষটির অমায়িক ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছিল। অন্যদিকে, রাশিক ভাই, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের, নৌকা আটকে গেলেই কোনো কথা না বলে নেমে আমাদের নৌকা ঠেলতে সাহায্য করছিলেন।

এত সুন্দর মানুষের সঙ্গ পেয়েও এবারের যাত্রায় একটি বিষয় আমাকে বেশ কষ্ট দিয়েছে। ২০১২ সালে যখন আমরা এখানে এসেছিলাম, তখন নদীর পাড়ে বিভিন্ন পাখির উড়াউড়ি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেবার যাত্রার শুরুতেই একজোড়া নদী টিটি দেখেছিলাম, যা আইইউসিএন-এর লাল তালিকায় বিপদাপন্ন প্রজাতি হিসেবে নথিভুক্ত। একসময় মাতামুহুরীর উজানে এদের দেখা মিলত। বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি মেঘ হও, যা ইংরেজিতে স্টর্ক বিলড কিংফিশার নামে পরিচিত, আমাদের নৌকার পাশ দিয়ে উড়ে গিয়েছিল। সেবার আমরা সেই সুন্দর পাখির ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলাম।

কিন্তু এবারের যাত্রায় যাওয়া-আসার পথে কোনো পাখির দেখা পেলাম না! এটা আমাকে অবাক করেছে। সিন্দুমুখের একটু উপরে একটি গাছে একটি বানরই ছিল এবারের যাত্রায় দেখা একমাত্র বন্যপ্রাণী।

আমরা সিন্দুমুখ পার হলাম। ইন্ধুমুখ ও সিন্দুমুখে ৩০-৪০ ঘর মুরুংদের বসতি। নদীর দুই তীরেই তারা জুম ধান ও কলা চাষ করে। এখানে এলে যে কেউ মুরুংদের জীবনধারা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে। পুরো আলীকদম এলাকায় বাঙালিদের পরেই মুরুং বা ম্রোদের সংখ্যা বেশি। তারা অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবে পরিচিত। আমরা যাচ্ছিলাম উৎসমুখের কাছাকাছি শেষ মুরুং পাড়া ‘পাহাড় ভাঙ্গা পাড়া’র দিকে।

দেখতে দেখতে আমরা ঐতিহাসিক মাছখুমে এসে পৌঁছালাম! স্থানীয় ভাষায় ‘খুম’ মানে গভীর জল। পুরো মাতামুহুরী নদীতে এখনও গভীর জলের যে কয়েকটি স্থান টিকে আছে, মাছখুম তাদের মধ্যে অন্যতম। কথিত আছে, এই খুমে জাল ফেললে এক মণ ওজনের মাছও পাওয়া যায়!

মাছখুমের জল সবুজ-নীল। দু’পাশে উঁচু পাহাড়ের ঢাল। এখানে মাতামুহুরী মাত্র ১০-১২ ফুট চওড়া। মনে হয় যেন দু’পাশের পাহাড় নদীটাকে চেপে ধরতে চাইছে। এই মাছখুমের সৌন্দর্য অল্প কথায় বর্ণনা করা কঠিন। আমরা সকলেই সেই গভীর জলে ঝাঁপ দিলাম। আমার প্যান্টের পকেটে থাকা দুটি স্মার্টফোন যদিও রক্ষা পেল, তবে তারা প্রচুর জল পান করে সাময়িকভাবে অচল হয়ে গিয়েছিল!

মাছখুমের পর এবার হাঁটার পালা। নৌকার মাঝি বদি আলম জানালেন, এর পর আর নৌকা যাবে না। এক ঘণ্টা হাঁটলেই পাহাড় ভাঙ্গা পৌঁছানো যাবে, আর সেখান থেকে নদীর উৎস খুব বেশি দূরে নয়।

নতুন উদ্যমে শুরু হলো আমাদের পথ চলা। নদীর ধারের ঝোপঝাড় আর জল পেরিয়ে স্রোতের সাথে চলতে শুরু করলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আমরা পৌঁছালাম পাহাড় ভাঙ্গা মুরুং পাড়ায়। ছোট ছোট মাচাং ঘরে মুরুংদের জীবনযাপন আধুনিক পৃথিবীর বিলাসব্যসনকে যেন উপেক্ষা করে। তারা প্রকৃতির মাঝেই সুখী, আধুনিক জগত থেকে অনেক দূরে। ছোট শিশুরা উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নদীর বুকে খেলছে ও সাঁতার কাটছে।

পাহাড় ভাঙ্গা মুরুং পাড়ায় আমাদের দলের কয়েকজন হালকা চা-বিস্কুট খেলেন। দলের সাথে থাকা ডাক্তার বাবর ভাই রোগীদের দেখছিলেন। এভারেস্টজয়ী এই মেধাবী ডাক্তার একই সাথে লেখকও। সেখানে নিজেদের প্রয়োজনের ওষুধ অসুস্থ গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করা হলো।

পাড়ার ঘাটে দুটি সুন্দর মুরুং কিশোরীর সাথে ছবি তোলার পর আমরা রওনা হলাম দোছড়ি-ফাত্তারার দিকে, যেখান থেকে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি। অবশেষে আমরা পৌঁছালাম মাতামুহুরীর উৎসে!

আমরা দেখলাম একটি পাহাড় মাতামুহুরীর জলধারাকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। বামদিকের ছড়াটির নাম দোছড়ি, আর ডানদিকেরটি ফাত্তারা ছড়া বা খাল নামে পরিচিত। দোছড়ি ও ফাত্তারা দুটি আলাদা খাল বা উপনদী, যাদের সংযোগস্থল থেকেই মাতামুহুরী নদীর শুরু! এই স্থানটি ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দুটি ছড়া বা খাল মিলেই মাতামুহুরীর সৃষ্টি। যদিও গুগল ম্যাপে ফাত্তারা খালের উজানের অংশকেও মাতামুহুরী দেখানো হয়, তবে স্থানীয়দের মতে দোছারী ও ফাত্তারা খালের সংযোগস্থলের উজানে আর মাতামুহুরী নেই। নদীবিজ্ঞানীদের মতে অবশ্য মাতামুহুরীর উৎস আরও উজানে।

এখানে একটি মজার জিনিস লক্ষ্য করলাম, দোছড়ির জল কিছুটা গরম আর ফাত্তারা খালের জল কনকনে ঠান্ডা। তাই আমরা দোছড়িতে না নেমে ফাত্তারার শীতল জলে গা এলিয়ে দিলাম। নদীর উৎসমুখে ফারুক ভাই বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও করলেন, তার ছবি তোলার দক্ষতা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো!

মনের সব দ্বিধা, সংকোচ আর না পাওয়ার বেদনা পেছনে ফেলে প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিতে নিজেকে সঁপে দিলাম—মাতামুহুরীর উৎস, ফাত্তারার শীতল জলে!

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদমে শ্যামলী বা হানিফ পরিবহনের বাস সার্ভিস আছে। আলীকদম সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা অথবা আলীকদম-পোয়ামুহুরী সড়কপথে পোয়ামুহুরী বাজার পর্যন্ত যেতে হবে। এরপর নৌকাযোগে পোয়ামুহুরী বাজার ঘাট থেকে মাতামুহুরীর উৎসমুখ।

ভাড়া: আলীকদম থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত নৌকাতে জন প্রতি প্রায় ৪০০ টাকা। সড়ক পথে জিপ বা সিএনজিতেও একই ভাড়া, তবে মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকা। পোয়ামুহুরী বাজার ঘাট থেকে উৎসমুখ পর্যন্ত নৌকা রিজার্ভ ভাড়া ৫-৬ হাজার টাকা।

মনে রাখবেন: নদী ও প্রকৃতি আমাদের সম্পদ। ভ্রমণের সময় কোনো প্রকার অপচনশীল আবর্জনা নদীতে ফেলবেন না।

সতর্কতা: মাতামুহুরীর উৎসমুখ ভ্রমণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। বিনা অনুমতিতে এই এলাকায় ভ্রমণ না করাই শ্রেয়।

লেখক: মমতাজ উদ্দিন আহমদ, সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান।