
মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান):
একসময় প্রবল স্রোত ও ভয়াল রূপের জন্য পরিচিত মাতামুহুরী নদী বর্তমানে নাব্য সংকট ও পানিশূন্যতায় ভুগছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র এক–দেড় দশক আগেও বর্ষা মৌসুম শেষে এই নদীর স্রোত ছিল প্রবল; কিন্তু এখন বর্ষা পার হলেই নদীর অনেক অংশে পানি হাঁটু সমানও থাকে না। ফলে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে। সেখান থেকে এটি সমতলে নেমে কক্সবাজার হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর অবনতিশীল অবস্থার জন্য বহুলাংশে দায়ী অবৈধ বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিত জুমচাষ এবং পাহাড় ক্ষয়ের ফলে নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা।
নদীর উৎসমুখে অসংখ্য ঝিরি ও খাল থাকলেও নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে পাহাড় ক্ষয়ে নেমে আসা মাটি নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলায় পানি ধারণক্ষমতা কমেছে। এর ফলে বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতেই নদীর দুই তীর প্লাবিত হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে নদী দ্রুত শীর্ণ হয়ে পড়ছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় বন সংরক্ষণ, পাহাড় কাটার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নদী পুনঃখননের মতো কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। তাদের মতে, নদী কেবল পানির উৎস নয়; এটি স্থানীয় পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এদিকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উজানের পানিপ্রবাহ হ্রাস ও আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন ইস্যুও নদীগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিচ্ছেন অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ ধ্বংসের দায় স্বীকারের ওপর।
স্থানীয় শিক্ষক ও কবি জয়নব আরা বেগম বেগম বলেন, আমি মাতামুহুরী নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত গিয়ে যা দেখেছি তা ভয়াবহ। নদীর পাড়ের পাহাড়জুড়ে প্রতিবছর জুম চাষ ও বৃক্ষ নিধন হচ্ছে। ফলে পাহাড়র মাটি ক্ষয়ে নদীত পড়ছে। এই বিষয়ে অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ না মাতামুহুরী নদী মারাত্মক সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাতামুহুরী নদী কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :