‘স্বযত্নে তোমায় রাখবো আগলে’ প্রতিপাদ্যে আলীকদমে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ৮:১৯ পূর্বাহ্ন /
‘স্বযত্নে তোমায় রাখবো আগলে’ প্রতিপাদ্যে আলীকদমে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

‘একদিন তুমি পৃথিবী গড়েছ, আজ আমি স্বপ্ন গড়বো, স্বযত্নে তোমায় রাখবো আগলে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের আলীকদমে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনজুর আলম। গত ২৮ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কারিতাসের এসডিডিবি প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা অল্টার ডায়েসের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার রেহানা বেগম

চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তাবনা:

সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের জন্য স্থানীয় সরকার কর্তৃক যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেসব দেওয়ার জন্য পরিষদের কাছে কোনো লিখিত তালিকা নেই। তাই তিনি সব ওয়ার্ডের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ভোটার আইডির ফটোকপি এবং প্রতিবন্ধী কার্ডের ফটোকপিসহ তালিকা তৈরি করে পরিষদে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি ইউএনও’র প্রতি ইউনুস মেম্বার পাড়ার ক্লাব ঘরের যাওয়ার রাস্তাটি ইট সলিং করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এছাড়া, বর্তমানে ক্লাব ঘরটি দূরে হওয়ায় তিনি সদরে একটি ভাড়া অফিস বা ক্লাব ঘর রাখার প্রস্তাব দেন এবং যতদিন তিনি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সেই ভাড়া ঘরের অর্ধেক ভাড়া সহায়তা করার আশ্বাস দেন। চেয়ারম্যান সকল প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীকে একত্র হয়ে বিবাদ-দ্বন্দ্ব না রেখে একসাথে চলার অনুরোধ করেন এবং বিজিবি থেকে পাওয়া সেলাই মেশিন যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফিকেট ব্যবস্থার অনুরোধ রাখেন। তিনি কারিতাস বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

ইউএনও’র আশ্বাস:

প্রধান অতিথি ইউএনও মনজুর আলম বলেন, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য যা যা করণীয়, তা করা হবে। এছাড়া তাদের জন্য বিভিন্ন সেবার সুযোগ, ভিজিডি কার্ডে বিশেষ সুবিধা এবং আলীকদমের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ক্লাব রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সহায়তা প্রদানের আশ্বাস ব্যক্ত করেন। তিনি আলীকদমে ছোট ছোট প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থার কথাও বলেন, যেখানে তারা মনের মতো সময় কাটাতে পারবে, খেলতে পারবে এবং অক্ষর জ্ঞানের সাথে পরিচিত হবে। প্রবীণদের যেকোনো সমস্যার জন্য তার অফিস সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

দিবসের তাৎপর্য:

মাঠ কর্মকর্তা অল্টার ডায়েস এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রবীণরা আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ। আজকের এই সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন তারাই। তিনি সকলকে প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।