আলীকদমে কোটি টাকার এলজিইডি সড়ক প্রকল্প ঝুলে আছে; ভোগান্তিতে স্থানীয়রা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন /
আলীকদমে কোটি টাকার এলজিইডি সড়ক প্রকল্প ঝুলে আছে; ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

মেয়াদ শেষ, কাজ ৪০ শতাংশ

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান)

বান্দরবান–এর আলীকদম উপজেলায় কোটি টাকার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারের ঋণখেলাপি ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর–এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে থানচি সড়ক থেকে উত্তর পালংপাড়া পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ২৭৫ মিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ‘আপ্পান ঘূর্ণিঝড় ও পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের কাজ পায় মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার শুরুতে আংশিক কাজ করে রানিং বিল উত্তোলনের পর প্রকল্পটি উপ–ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে মূল ঠিকাদারের ব্যাংক ঋণখেলাপি অবস্থার কারণে দ্বিতীয় বিল উত্তোলন সম্ভব হয়নি। ফলে উপ–ঠিকাদাররাও কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ। কোথাও ভাঙন, কোথাও বড় বড় খানাখন্দ; ধুলাবালিতে সড়কের পাশের বসতঘরগুলো অতিষ্ঠ। এই সড়ক ব্যবহার করে চারটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল ও সালাহ উদ্দিন বলেন, “শুরুতে কাজ হয়েছিল, পরে বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর কিছুদিন আবার শুরু হলেও এক বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ। রাস্তার অবস্থা এখন ভয়াবহ।”

উপ–ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। মূল ঠিকাদারের ঋণখেলাপির কারণে লেনদেনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন নিজেদের টাকায় কাজ শুরুর জন্য কিছু সামগ্রী মজুত করছি।”

মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাজু বড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, “ঠিকাদারের ব্যক্তিগত সমস্যায় আমাদের করার কিছু থাকে না। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, তবে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ঠিকাদার কোনো আবেদন করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কাজ পুনরায় শুরু না হলে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।