
কাজী নজরুল ইসলাম, আমাদের জাতীয় কবি, তাঁর অফুরন্ত সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তাঁর গান, কবিতা, প্রবন্ধ, এমনকি উপন্যাসেও প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ, বিশেষ করে বর্ষার অনুষঙ্গ এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বর্ষা শুধু ঋতু হিসেবে নয়, বরং প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে নজরুলের লেখায় বারবার এসেছে। তাঁর বর্ষা বিষয়ক সৃষ্টিগুলো মানব মনের গভীর অনুভূতি আর প্রকৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্কের এক অসাধারণ কাব্যিক দলিল।
বর্ষার সৃষ্টিতে নজরুল ছিলেন অসামান্য। তিনি শুধু গানেই নয়, কবিতাতেও বর্ষার নানা রূপ এঁকেছেন। যেমন, তাঁর ‘ইন্দ্র-পতন’ কবিতায় আষাঢ়ের প্রথম দিনের এক রুদ্র রূপ তুলে ধরেছেন:
তখনও অস্ত যায়নি সূর্য, সহসা হইল শুরু
অম্বরে ঘন ডম্বরু-ধ্বনি গুরুগুরুগুরু গুরু।
আকাশে আকাশে বাজিছে এ কোন্ ইন্দ্রের আগমনি?
শুনি, অম্বুদ-কম্বু-নিনাদে ঘন বৃংহিত-ধ্বনি।
বাজে চিক্কুর-হ্রেষা-র্ষণ মেঘ-মন্দুরা-মাঝে,
সাজিল প্রথম আষাঢ় আজিকে প্রলংকর সাজে!
কেবল এটিই নয়, নজরুলের গানে আমরা প্রবলভাবেই বর্ষা, বর্ষণ আর প্রকৃতির সঞ্জীবনী বারিধারার উপস্থিতি পাই। আর তাইতো ‘শাওন-রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে’, ‘এসো হে সজল শ্যামল ঘনদেয়া’, ‘এসো স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা-মালবিকা’, ‘কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের বাঁশি’, ‘ঘোর ঘনঘটা ছাইল গগন’, ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’, ‘বরষা ঋতু এলো এলো’, ‘মেঘলামতির ধারাজলে করো স্নান’, ‘মেঘের হিন্দোল দেয় পূর্ব হাওয়াতে দোলা’, ‘দুলবি কে আয় মেঘের দোলায়’, ‘বাজে মৃদঙ্গ বরষার’, ‘রুম ঝুম ঝুম বাদল নূপুর বাজে’, ‘রুমঝুম রুমুঝুমু কে এলে নূপুর পায়ে’-এর মতো অবিস্মরণীয় সব গানের জন্ম হয়েছিল নজরুলের গানের খাতায়। বর্ষাকে তিনি প্রিয় বিরহের সঙ্গেও তুলনা দিয়েছিলেন।
নজরুলের বর্ষা বিষয়ক গান, কবিতা ও অন্যান্য লেখায় বর্ষার যে বিচিত্র রূপের বন্দনা বা অনুষঙ্গ পাওয়া যায়, তাকে কয়েকটি মূল ভাগে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. বর্ষার রোমান্টিক ও বিরহী রূপ: স্মৃতির সজল আবেশ
নজরুলের গানে বর্ষা প্রায়শই রোমান্টিকতা ও বিরহের আবাহন নিয়ে আসে। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ বা মেঘে ঢাকা আকাশ তাঁর গানে প্রিয়জনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, অথবা দূর প্রবাসে থাকা মানুষের জন্য মনকে কাতর করে তোলে। বর্ষার এই বিষণ্ণ আবহ প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার কষ্টকে আরও গভীর করে তোলে।
শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে॥
এখানে শ্রাবণ মাসের গভীর রাত একাকীত্ব ও স্মৃতিচারণের জন্য উপযুক্ত এক পরিবেশ সৃষ্টি করে। বৃষ্টির ধারা যখন নিরন্তর ঝরে, তখন মন প্রিয়জনের স্মৃতিতে আরও ভারাক্রান্ত হয়। শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টি যেন বিরহী মনের অশ্রুধারাকেই প্রতীকায়িত করে।
গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়, কাঁদে কাজরীর জল।
‘গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়’ – এটি প্রিয়জনের জন্য তীব্র আকুলতা বা চাপা বেদনার ইঙ্গিত দেয়। ‘কাঁদে কাজরীর জল’ এই কাব্যিক চিত্রকল্পে বর্ষার অবিরাম বৃষ্টিকে মানবীয় আবেগ দান করা হয়েছে; বাইরের বৃষ্টি যেন ভেতরের অব্যক্ত দুঃখের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আজ বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে।
হায় কী মনে পড়ে মন এমন করে॥
বৃষ্টির দিনে নীড়হারা পাখির কান্না যেন কবির নিজেরই মনে প্রতিধ্বনিত হয়। এখানে বর্ষা নিছকই প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং একাকীত্বের সঙ্গী এবং সহানুভূতির উৎস হয়ে ধরা দেয়।
আজি এ বাদল দিনে কত কথা মনে পড়ে।
হারাইয়া গেছে পিয়া এমনি বাদল-ঝড়ে॥
বর্ষার এই দিনগুলিতে হারানো প্রিয়জনের স্মৃতি তীব্রভাবে মনে পড়ে, বিশেষত যখন প্রকৃতি তার বিষণ্ণ রূপ ধারণ করে। প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা ও একাকীত্ব এই গানে বর্ষার আবহের সাথে মিশে এক গভীর আর্তি তৈরি করে।
অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে।
নিদ্রা নাহি তোমায় চাহি’ আমার নয়ন-পাতে॥
গভীর বর্ষণ-মুখর রাত্রিতে প্রেমিকা তার প্রবাসী প্রেমিকের সঙ্গ কামনা করে। বর্ষণসিক্ত পৃথিবীর ভূমির গন্ধের সাথে তার স্মৃতিতে মিশে থাকে প্রেমিকের সঙ্গসৌরভ।
কার ঝর ঝর বর্ষণ বাণী
যায় দিক্ দিগন্তে বেদনা হানি’॥
এই বিরহীর অশ্রু যেন ঝর ঝর জলধারা হয়ে প্রকৃতিকেও ক্রন্দনসিক্ত করে তুলেছে। বর্ষা ধারার মতো সে বিরহবেদনা অশ্রুসজল বাণী দিক্-দিগন্তে আঘাত হেনে চলে।
রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে
আকুল শিখি নাচে ঘন দরশে॥
রুম ঝুম বর্ষার ছন্দে প্রেমানন্দে আকুলিত নৃত্যশীল ময়ূর থাকলেও, প্রেমিকার মনে পড়ে শ্যাম-রূপী দূরদেশের কথা।
বাদল সাঁঝের পাখি এসেছিস্ তুই কোন্ দূর প্রবাস হতে।
পাখিটি যেন প্রিয়জনের বার্তা বহন করে এনেছে, অথবা নিজেই সেই প্রিয়জনের রূপক হয়ে উঠেছে, যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আবহ তৈরি করে।
ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা।
ভবনে এলো মোর কে পথহারা॥
নিভেছে গৃহদীপ নয়নে বারি,
আঁধারে তব মুখ নাহি নেহারি।
এই গানটিতে একাকী নির্জন ঘরে প্রিয়জনের জন্য প্রতীক্ষা এবং ঝোড়ো হাওয়ার সাথে মিশে থাকা স্মৃতিচারণ প্রাধান্য পেয়েছে।
রিম্ ঝিম্ রিম্ ঝিম্ ঝরে শাওন ধারা।
গৃহকোণে একা আমি ঘুমহারা॥
এখানে একাকী ঘরে বৃষ্টির শব্দে ঘুম না আসা, অতীতের স্মৃতিতে ডুবে যাওয়া এবং হারানো প্রেমের জন্য মনকে পথহারা মনে করার এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না
বরষা ফুরায়ে গেল আশা তবু গেল না॥
কাজরির কাজল মেঘ পথ পেল খুঁজিয়া
সে কি ফেরার পথ পেল না মা, পেল না॥
এখানে শ্রাবণ মাস ফিরে এলেও প্রিয়জনের অনুপস্থিতি বিরহিণীকে আরও বেশি কাতর করে তোলে। বর্ষার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রিয়জনের ফেরার পথ খুঁজে না পাওয়ার বিপরীতে এক তীব্র অভিমান ও যাতনা সৃষ্টি করে।
ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা।
মুঞ্জরিল বনে বিরহিণী লতিকা –
আমারি আশালতা হ’লো না গো সরসা॥
এখানে প্রকৃতির একটি অনিবার্য পরিবর্তন—বর্ষার আগমন—এবং প্রিয়জনের অনুপস্থিতি, এই দুটি বিপরীত বিষয়কে এক করে দেখানো হয়েছে। বর্ষা যেমন প্রতি বছর ফিরে আসে, তেমনি বিরহী মন আশা করে প্রিয়জনের ফিরে আসা। কিন্তু বর্ষা এলেও প্রিয়জন আসেনি, যা এক গভীর বিষাদকে তুলে ধরে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরহ নয়, বরং প্রকৃতির বিশালতার মাঝে মানব মনের ক্ষুদ্র কিন্তু তীব্র বেদনার প্রকাশ। প্রকৃতিতে যখন বিরহিণী লতিকারা মুঞ্জরিত হচ্ছে, তখন প্রেমিকার আশালতা সরস হচ্ছে না, বরং শুষ্কই থেকে যাচ্ছে।
২. বর্ষার প্রকৃতি ও সৌন্দর্য বন্দনা: নৃত্যময়ী প্রকৃতির উৎসব
নজরুল শুধু বিদ্রোহী কবিত নন, প্রকৃতিরও কবি। বর্ষার রূপ, রং, গন্ধ এবং শব্দ তাঁর কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বর্ষার আগমন, মেঘের ঘনঘটা, বিদ্যুতের ঝলকানি, কদম ফুলের শোভা—এ সবই তাঁর লেখায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বন্দনায় ব্যবহৃত হয়েছে।
নামিল বাদল! রুমু রুমু ঝুমু নূপুর চরণে
চল লো বাদল-পরী, আকাশ-আঙিনা ভরি’
নৃত্য-উছল॥
বৃষ্টির ফোঁটা ঝরে পড়ার শব্দ যেন নূপুরের ছন্দের মতো ‘রুমু রুমু ঝুমু’ ধ্বনি তোলে। কবি এক আনন্দময় ‘বাদল-পরী’কে আহ্বান করছেন, যে আকাশ-আঙিনা ভরে নৃত্য-উছল উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে। এই গান বর্ষার সজীবতা, প্রাণবন্ততা এবং তার জীবনদায়ী ক্ষমতাকে তুলে ধরে।
ছড়ায়ে বৃষ্টির বেলফুল, দুলায়ে মেঘলা চাঁচর চুল
চপল চোখে কাজল মেঘে আসিল কে॥
বৃষ্টির ধারাকে ছড়িয়ে দেওয়া বেলফুল এবং আকাশজোড়া এলোমেলো মেঘরাশিকে চপল কাজল চোখের মেঘবালিকার কুঞ্চিত চুল হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। এই গান বর্ষার এক রহস্যময়ী, নৃত্যময়ী এবং স্মৃতিকাতর রূপকে তুলে ধরে, যেখানে প্রকৃতি ও মানবিক আবেগ একাকার হয়ে গেছে।
রিম ঝিম রিম ঝিম ঘন দেয়া বরষে
আকুল শিখি নাচে ঘন দরশে॥
“ঘন দেয়া বরষে” বাক্যটি ঘন মেঘে আচ্ছন্ন আকাশের নিচে প্রবল বৃষ্টিপাতের দৃশ্যকে চোখের সামনে নিয়ে আসে। এটি বর্ষার এক নিবিড় ও ঘন পরিবেশের দ্যোতক, যা প্রকৃতিকে সিক্ত করে তোলে এবং এক স্নিগ্ধ, শীতল ও শান্ত পরিবেশের জন্ম দেয়।
(শাওন ঘোর) রিমিঝিমি রিমিঝিমি বারিধারা বরষে।
নাচে শিখী শ্যাম ঘন দরশে॥
শ্রাবণের রিমিঝিমি বৃষ্টি, ময়ূরের নৃত্য, ঘন ঘন বিজলির চমক এবং পুবালি হাওয়ার আনন্দময় প্রবাহ এক কাঙ্ক্ষিত বর্ষার চিত্র তুলে ধরে। কবি এই বর্ষাকে তাঁর বিরহী ভবনে আহ্বান করছেন, যেন তার নূপুর ধ্বনি শ্রবণে এবং মধুর সজল পরশে কদম ফুলের মতো হৃদয় প্রস্ফুটিত হতে পারে।
ভিডিও শুনতে ক্লিক করুন: https://web.facebook.com/momtaj.u.ahamad/videos/732733543038836
৩. বর্ষার প্রতীকী ও দার্শনিক রূপ: সত্তার গভীর অনুসন্ধান:
নজরুলের লেখায় বর্ষা শুধু প্রেম বা প্রকৃতির বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এক গভীর প্রতীকী এবং দার্শনিক অর্থও বহন করেছে। বর্ষা কখনও বেদনা, কখনও কুহেলী, আবার কখনও অসীমের প্রতি আকুলতার প্রতীক হয়ে ধরা দিয়েছে।
তুমি বর্ষায় ঝরা চম্পা, তুমি যূথিকা-অশ্রুমতী।
তুমি কুহেলি-মলিন ঊষা, তুমি বেদনা-সরস্বতী॥
এখানে বর্ষা কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এক গভীর অনুভূতিময় সত্তা। বর্ষার ঝরা চম্পা বা অশ্রুমতী যূথিকার মতো সে করুণা, বেদনা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এটি কুহেলি-মলিন ঊষা এবং বেদনা-সরস্বতীও বটে। পাষাণ-দেবতা-চরণে মরেছে অমর মরণে, যা আধ্যাত্মিক আত্মনিবেদন ও ব্যর্থ আরতির গভীরতাকে ইঙ্গিত করে। এই গান বর্ষার এক গভীর প্রতীকী ও দার্শনিক রূপকে তুলে ধরে।
৪. বর্ষার আধ্যাত্মিক ও মরমী অনুষঙ্গ:
নজরুলের সাহিত্যে বর্ষার আধ্যাত্মিক বা মরমী ব্যবহারও দেখা যায়। বর্ষার ঘোর লাগা পরিবেশ, বৃষ্টি বা বজ্রপাত কখনো কখনো স্রষ্টা বা অসীমের প্রতি এক গভীর আকুলতা বা ভক্তিকে প্রকাশ করে। সুফীবাদের প্রভাবে তাঁর অনেক গানে এই আধ্যাত্মিকতা ফুটে উঠেছে। যদিও উপরের গানে সরাসরি এই ধারা প্রবলভাবে আসেনি, তবে “তুমি বর্ষায় ঝরা চম্পা” গানে যে আত্মনিবেদনের সুর, তা পরোক্ষভাবে আধ্যাত্মিকতাকেও ইঙ্গিত করতে পারে।
৫. বর্ষায় বিদ্রোহের অনুষঙ্গ (কদাচিৎ):
নজরুল ছিলেন বিদ্রোহী কবি। যদিও বর্ষা সরাসরি বিদ্রোহের প্রতীক নয়, তবে তাঁর লেখায় মেঘের গর্জন বা বজ্রপাতের উপমা অনেক সময় বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দ্রোহের প্রকাশ হিসেবে এসেছে। তাঁর কবিতা “কামাল পাশা”-তে বজ্রের মতো ধ্বনির কথা আছে, যা বিপ্লব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বর্ষার রুদ্র রূপ, তার তীব্রতা এবং ধ্বংস করার ক্ষমতা অনেক সময় বিদ্রোহের আবেগকে পরোক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারত, যদিও বর্ষার মূল সুর সাধারণত রোমান্টিক বা বিরহীই থাকে।
উপসংহার:
কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা এবং অন্যান্য লেখায় বর্ষা শুধু একটি ঋতু হিসেবে আবির্ভূত হয়নি, এটি এক বিস্তৃত আবেগ, অনুভূতি এবং দার্শনিকতার প্রতীক হয়ে এসেছে। তাঁর লেখনীতে বর্ষা কখনও প্রেমিকের বিরহী সুর, কখনও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের বর্ণনা, কখনও আধ্যাত্মিক আকুলতা, আবার কখনও বিদ্রোহের চাপা গর্জন। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা, মেঘের প্রতিটি গর্জন এবং বর্ষার প্রতিটি ক্ষণ নজরুলের সংবেদনশীল মনে নতুন কাব্য ও সুরের জন্ম দিয়েছে। এই বহুমুখী উপস্থাপনার মাধ্যমেই নজরুল বাংলা সাহিত্যে বর্ষার এক অনন্য এবং চিরস্মরণীয় স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর বর্ষা বিষয়ক সৃষ্টিগুলো আজও বাঙালি পাঠকের মনে একই রকম আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে।
লেখক: সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
তারিখ: 07/07/2025 খ্রি.
আপনার মতামত লিখুন :