নতুন রূপে জেগে উঠেছে আলীকদমের রহস্যময় ঝর্ণাগুলো


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ৯, ২০২৬, ৩:৩৫ পূর্বাহ্ন /
নতুন রূপে জেগে উঠেছে আলীকদমের রহস্যময় ঝর্ণাগুলো

নুরুল ইসলাম রাজু, আলীকদম (বান্দরবান):

পুরোদমে বর্ষাস্নাত বর্ষণ শুরু না হলেও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম গিরিপথের পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো। সারাবছর নিভৃতে থাকা এসব জলধারা আগাম বৃষ্টিতে সজীব ও প্রমত্তা রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রহস্যঘেরা পালংক্ষিয়াং, থাংকোয়াইন, লাদ মেরাগ, ক্রাতং (ধাপ ১, ২, ৩), জামরুং (ধাপ ১, ২, ৩), সাইম্প্রা, দামতুয়া, তুইঅং, রূপমুহুরী এবং শিলবুনিয়া ঝর্ণা এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে যেন এক মর্ত্যের স্বর্গ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হতেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে মাতামুহুরী নদী ও জনপ্রিয় তৈন খাল। খরস্রোতা এই জলধারা বেয়ে পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা সাদা ফেনার জলরাশি, চারপাশের সবুজ অরণ্য আর মেঘের লুকোচুরি পুরো এলাকাকে এক স্বপ্নিল রূপ দিয়েছে।

পালংক্ষিয়াং ঝর্ণার পাশের স্থানীয় বাসিন্দা মিলন তংচংগ্যা বলেন, “বর্ষাকালই আলীকদমের ঝর্ণাগুলো দেখার উপযুক্ত সময়। এ সময় ঝর্ণাগুলোর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তবে একই সঙ্গে পিচ্ছিল পথ, পাহাড় ধস এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্গমতা ও ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।”

ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে স্থানীয় গাইড সংগঠন ‘আলীকদম ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন’। কেউ নদী পথে নৌকায়, কেউ ঝিরিপথ ধরে হেঁটে পৌঁছে যাচ্ছেন দুর্গম ঝর্ণার পাদদেশে।

ভ্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষিত গাইড মো. নুরুল ইসলাম (রাজু) বলেন, “বর্ষায় পাহাড় ধস বা নদী ভাঙনের ফলে পাহাড়ি রাস্তা প্রায়ই বাঁক পরিবর্তন করে। তাই গাইড ছাড়া এসব এলাকায় যাওয়া অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা পর্যটকদের অনুরোধ করি তারা যেন পাহাড়ে প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করেন।”

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে ‘পর্যটক সেবা কেন্দ্র’ এবং মোবাইল সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি স্থানীয় গাইডদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করা গেলে আলীকদমের এই রহস্যময় ঝর্ণাগুলো দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এর ফলে অচিরেই আলীকদমকে পর্যটনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।