দুর্গম পথে রূপের হাতছানি আলীকদমের ‘পালং খিয়ায় ঝর্ণা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন /
দুর্গম পথে রূপের হাতছানি আলীকদমের ‘পালং খিয়ায় ঝর্ণা

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান):

বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক নিভৃত লীলাভূমি। পাহাড়ের গহীনে লুকিয়ে থাকা একের পর এক মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা আর ঝিরি যেন পর্যটকদের হৃদয়ে দোলা দেয়। তেমনই এক রোমাঞ্চকর ও দুর্লভ ঝর্ণার নাম ‘পালং খিয়াং’। দুর্গম পথ আর পাথুরে তৈনখালের বুক চিরে যাওয়া এই ঝর্ণাটি এখনও বহু প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে রহস্যময় ও অধরা রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পালং খিয়াং ঝর্ণায় পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ নয়। তৈনখালের খরস্রোতা জলধারা আর পিচ্ছিল পাথুরে রাস্তা ধরে কখনওবা উঁচু পাহাড় ডিঙ্গিয়ে চলতে হয়। তবে এই কঠিন পথযাত্রাই যেন পালং খিয়াংয়ের সৌন্দর্যকে আরও কাঙ্ক্ষিত করে তোলে।

শুধু পালং খিয়াং নয়, ঝর্ণা অভিমুখে তৈনখালের প্রতিটি বাঁক পর্যটকদের জন্য বিস্ময় নিয়ে অপেক্ষা করে। দুই পাশে নাতিদীর্ঘ পাহাড়ের চূড়ায় মুরুং, ত্রিপুরা ও মার্মা সম্প্রদায়ের খড়ের ছাউনির ঘর, ছায়াঘেরা শান্ত গ্রাম্য পথ আর পাখির মিষ্টি কলরব যেন শহুরে কোলাহল থেকে দূরে মর্ত্যের এক স্বপ্নরাজ্য। তৈনখালের দুই পাশ জুড়ে থাকা ঘন অরণ্যের লতাবিতানে সারা বছরই ফোটে নানান রঙের বন্য ফুল। প্রকৃতির এই সব সুরকে ছাপিয়ে যখন তিনটি জলস্রোতের সম্মিলিত গর্জন শোনা যায়, তখনই পর্যটকরা দেখা পান কাঙ্ক্ষিত পালং খিয়াংয়ের।

যাতায়াত ব্যবস্থা: পর্যটকদের জন্য পালং খিয়াং ঝর্ণায় যাওয়ার দুটি প্রধান রুট রয়েছে। প্রথমত, আলীকদম পানবাজার থেকে নৌকাযোগে আমতলী হয়ে তৈনখাল দিয়ে দোছরি বাজার। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা ও হাজরাম পাড়া হয়ে পৌঁছানো যায় পালং খিয়াংয়ে। দ্বিতীয়ত, আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিলোমিটার পয়েন্ট পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে পায়ে হেঁটে দোছরি বাজার হয়ে একই পথে যাওয়া সম্ভব।

পর্যটন সম্ভাবনা ও সতর্কতা: এই রুটে মূলত তিনটি চোখধাঁধানো ঝর্ণা উপভোগ করা যায়— থাঙ্কুয়াইন, পালং খিয়াং এবং লাদ মেরাগ। আমতলী ঘাট থেকে নৌকাযোগে দুছড়ি পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। সেখান থেকে উজানে হেঁটে হাজরাম পাড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পর্যটকদের তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকরা চাইলে উপজাতীয় পাড়ায় রাত্রিযাপন করে প্রকৃতির স্বাদ নিতে পারেন।

তবে এই অপূর্ব নিসর্গ ভ্রমণের পাশাপাশি সচেতনতা জরুরি। ট্যুর গাইড শেখ সেলিম বলেন, “এই ঝর্ণাগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ। এদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। পর্যটকদের উচিত ভ্রমণের সময় পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে প্রকৃতিকে কলুষিত না করা।”

প্রকৃতির এই রূপোলি জলধারা সযত্নে রক্ষা করলে আলীকদম হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য।