
ওবায়দুল হাকিম স্যার ও আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা
আলীকদম উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ওবায়দুল হাকিমের ওপর সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আমাদের সমাজে আইনের শাসনের ভঙ্গুর বাস্তবতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং ভিক্টিম-ব্লেমিং সংস্কৃতির এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
ঘটনার বিবরণ উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী এক ব্যক্তি বারবার নিষেধ সত্ত্বেও তাঁর ঘাসের জমিতে গরু ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্ষতি রোধে গরুটি বেঁধে রাখা হয়। এখানেই বিরোধের সূচনা। কিন্তু সেই বিরোধের পরিণতি কোনোভাবেই আইনের পথে যায়নি। পরিকল্পিতভাবে দা দিয়ে কোপানো, লাঠি দিয়ে আঘাত, চোখে আঘাত—সব মিলিয়ে এটি স্পষ্টতই একটি সশস্ত্র হামলা।
এরপর যা ঘটেছে, তা আরও ভয়ংকর। অভিযুক্তরা কেবল হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি—হাসপাতালে গিয়ে মিথ্যা আহতের সার্টিফিকেট নেওয়ার চেষ্টা, থানায় মিথ্যা মামলা দায়েরের তৎপরতা এবং সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষককে ‘চোর’ বানানোর অপপ্রচার শুরু করেছে। অর্থাৎ, এখানে শুধু শারীরিক সহিংসতাই নয়, চলছে প্রাতিষ্ঠানিক মিথ্যার নির্মাণ।
এই ঘটনাটি আমাদের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—
নিজের জান ও মাল নিয়ে কি একজন নাগরিক নিজের ঘরেই নিরাপদ?
যদি একজন নিরিবিলি শিক্ষক নিজের জমি রক্ষা করতে গিয়ে এমন পরিণতির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যদি অপরাধীরা উল্টো মামলা দিয়ে, মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ভিক্টিমকেই অপরাধী বানাতে পারে, তবে আইন কার পক্ষে কাজ করছে?
এখানেই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব শুরু হয়। আইনের শাসন মানে কেবল আইন থাকা নয়; আইনের শাসন মানে দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ানো, ভদ্রতাকে রক্ষা করা, অপরাধীকে ভয় দেখানো—ভিক্টিমকে নয়।
আজ আলীকদম প্রেসক্লাবের সামনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কেবল একজন শিক্ষকের প্রতি সহমর্মিতা নয়। এটি একটি স্পষ্ট সামাজিক বার্তা—ন্যায়বিচার না হলে নাগরিক সমাজ চুপ থাকবে না।
আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই ঘটনায়
— দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন,
— অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার প্রয়োজন,
— মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের দায়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কারণ বিচারহীনতা কেবল একটি ঘটনার ইতি টানে না; এটি ভবিষ্যতের আরও সহিংসতার বীজ বপন করে।
আজ ওবায়দুল হাকিম আক্রান্ত।
আগামীকাল আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ।
আইনের শাসন যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তবে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতেই হবে। অন্যথায়, আমাদের সমাজে ভদ্রতা অপরাধে পরিণত হবে—আর সেটিই হবে সবচেয়ে ভয়ংকর পরাজয়।
আপনার মতামত লিখুন :