
মমতাজ উদ্দিন আহমদ:
বান্দরবানের পাহাড় মানেই রূপকথার মতো সৌন্দর্যের আস্তানা। তবে এই পাহাড়ের বুকেই লুকিয়ে আছে এক অপার বিস্ময়—ক্রিসতং। চিম্বুক রেঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এটি। মারমা ভাষার ‘কিরসা’ (এক প্রজাতির ছোট পাখি) এবং ‘তং’ (পাহাড়) শব্দ থেকে এসেছে নাম ক্রিসতং। ২,৯৮২ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়ে সেই ছোট ছোট পাখিগুলোই যেন এর নামের গল্পকে জীবন্ত করে তোলে।
বনের আঁধারে মায়াবী পথচলা:
ক্রিসতং ঘেরা ঘন অরণ্যে দিনের আলোও অনেক সময় পৌঁছাতে পারে না। বিশাল পুরোনো গাছের ছায়ায় যখন হাঁটা শুরু হয়, তখন মনে হয় যেন হাজার বছরের পুরোনো এক রহস্যময় বনে প্রবেশ করেছি। চারপাশে ভেসে আসে বিলুপ্তপ্রায় নানা প্রজাতির পাখির ডাক। ঝোপঝাড়ের ভেতর হঠাৎ করেই লেগে বসে জোঁক, আর পাহাড়ি বৃষ্টিতে পুরো জঙ্গল মুহূর্তেই হয়ে ওঠে জাদুকরি, অচেনা এক টুকরো স্বর্গ।
তবে পথ মোটেও সহজ নয়। কোথাও পিচ্ছিল মাটি, কোথাও খাড়া ঢাল—একটু অসতর্ক হলেই সোজা নেমে যেতে হয় পাহাড়ের গহীনে। এই দুঃসাহসিক পথই ক্রিসতংয়ের মায়াকে আরও গাঢ় করে তোলে।
শিখরে দাঁড়িয়ে যে দৃশ্য:
ক্রিসতংয়ের শীর্ষ থেকে চোখে ভেসে আসে তিন্দুর অপার সৌন্দর্য। চারপাশে ঘন সবুজ থাকায় পুরোপুরি ওয়াইড ভিউ না মিললেও, আংশিক দৃশ্যই আপনাকে স্তব্ধ করে দেবে। পাহাড়ের বুক চিরে যখন মেঘ ভেসে আসে, তখন মনে হবে আপনি যেন পৃথিবীর ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন।
কীভাবে যাবেন?
ক্রিসতং যাওয়ার সবচেয়ে ভালো রুট আলীকদম হয়ে।
অন্য পথেও যাওয়া যায়—আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিমি থেকে তিন্দু রুট ধরে, কিংবা আলীকদমের আমতলী ঘাট থেকে নৌকায় দুছরী পর্যন্ত গিয়েও ট্রেক করা সম্ভব।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা:
পুরো ট্র্যাকজুড়ে ম্রো বা মুরুং পাড়াগুলোতে অতিথিশালা না থাকলেও স্থানীয় কারবারিদের বাড়িতে রাত কাটানো যায়। পাহাড়িদের আতিথেয়তা এখনো অনন্য। চাইলে তাদের কাছ থেকে চাল-তরকারি কিনে নিজে রান্না করে খাওয়া যায়। তবে সব তেল-মসলা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই আলীকদম বাজার থেকে নিয়ে যেতে হবে, কারণ পাহাড়ে কোনো দোকান নেই।
কিছু চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি:
উপসংহার:
ক্রিসতং কেবল একটি পাহাড় নয়, এটি প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। গাছের ছায়ায়, জোঁকের কামড়ে, মেঘের ভেলায় আর পাহাড়ি গানের সুরে এখানে আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে এক চিরস্মরণীয় অভিযান।
🌿 যদি আপনি প্রকৃত ভ্রমণপিপাসু হন, তবে ক্রিসতং আপনার তালিকার শীর্ষে রাখুন।
আপনার মতামত লিখুন :