আলীকদম ও লামায় ভয়াবহ লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৫, ৪:৪৫ পূর্বাহ্ন /
আলীকদম ও লামায় ভয়াবহ লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

আলীকদম, ২৬ জুলাই ২০২৫: বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় চলমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলাবাসী, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কার্যক্রম। এ সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ বিভাগ গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও কারিগরি ত্রুটিকে কারণ হিসেবে দেখালেও, স্থানীয়দের অভিযোগের তীর বিদ্যুৎ বিভাগের এক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার দিকে।

শোচনীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি:

আলীকদম ও লামা উপজেলার 10টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত শোচনীয়। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকছে এলাকাগুলো। কোথাও আধা ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এলেও, কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রিন্ট ও লেমিনেটিং মেশিনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং বাসাবাড়ির ফ্রিজ, এসি, টিভি ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্কের সূত্রপাত:

অনেক স্থানীয়ের দাবি, বর্তমান অভিযুক্ত কর্মকর্তা আলীকদম ও লামা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজস্ব আত্মসাৎ, গ্রাহক হয়রানি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। গত ৫ জানুয়ারি রামু উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা তার দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে লামা আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তরে বদলি করা হয়, তবে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কারিগরি কারণ:

তবে লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিউবো, লামা আবাসিক প্রকৌশলী লোডশেডিংয়ের জন্য কারিগরি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কক্সবাজারের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে কক্সবাজার টু চকরিয়া ৩৩ কেভি লাইনে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। একইসাথে, দোহাজারী টু চকরিয়া ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি লাইনটি লাইন ফল্টের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। চকরিয়াতে প্রাপ্ত ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় মাত্র ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের প্রয়োজন ৬ মেগাওয়াট। তাই, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল সরবরাহ থাকায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হচ্ছে।

আবাসিক প্রকৌশলী আরও জানান, এই মুহূর্তে লোডশেডিং ছাড়া দুইটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কোনো উপায় নেই। কক্সবাজার গ্রীড থেকে পূর্ণ লোড বিদ্যুৎ সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। দোহাজারী টু চকরিয়া লাইনে ফল্ট চেকিং চলছে এবং আশা করা হচ্ছে, দোহাজারী লাইনটি সচল হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তিনি জনসাধারণকে এই সাময়িক অসুবিধা সহ্য করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জনগণের দাবি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:

লামা এবং আলীকদমের সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিদ্যুৎ সংকটে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।