
মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম: দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি জটিলতা এবং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থবিরতার পর অবশেষে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চলা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আলীকদম প্রেসক্লাবে এক সমঝোতা বৈঠকে মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠাতা ক্যাটাগরিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত এক মামলার জেরে বিগত ১৪ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত কমিটি গঠন স্থগিত ছিল। আদালতের রায়ে মঞ্জুরুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আদেশ থাকলেও, তৎকালীন এডহক কমিটি আপিল দায়ের করে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করে আসছিল।
এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আলীকদম প্রেসক্লাবে বাদী জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বিবাদীপক্ষে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জসিম উদ্দিনের সম্মতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে লামা ও আলীকদমের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক জনাব ফারুক আহমেদ, শিক্ষক মোহাম্মদ জাফর আলী, লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব এ.এম ইমতিয়াজ, মানবাধিকারকর্মী জনাব এম. রুহুল আমিন, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী ভূট্টো, আলীকদম উপজেলা জামায়াতের আমীর জনাব মো. মাশুক এলাহী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ছাদেক মিয়া, আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জয়দেব প্রমুখ।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তে একমত হন:
১. জনাব মঞ্জুরুল ইসলামকে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা ক্যাটাগরিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
২. বাদী ও বিবাদী পক্ষ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উভয় মনোনীত আইনজীবীর মাধ্যমে অপর মামলা নং- ২৩৪/২০১১ প্রত্যাহার করে নিবেন।
৩. আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষ উদ্যোগী হবেন এবং সমঝোতার পর বাদী জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় বা আদালতের মাধ্যমে কোনো ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন না।
এই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছরের মামলার অবসান হচ্ছে, যা ২১ বছর ধরে নিয়মিত কমিটিবিহীন অবস্থায় থাকা বিদ্যালয়টিকে নতুন জীবন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুত নিয়মিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিসঞ্চার হবে এবং চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
আপনার মতামত লিখুন :