
আলীকদম, ২৭ জুলাই ২০২৫: পাহাড়ি উপজেলা আলীকদমে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়। সেই সময়ে আলীকদম সেনা জোন, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় যুবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাত্র এক সপ্তাহের পরিকল্পনায় এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও ইউএনও অমল কৃষ্ণ মণ্ডলের বিশেষ প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ১৭ বছর পেরিয়ে এলেও এর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আজও অধরা। উপজেলার অন্য বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভরাডুবি সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে মাত্র ৪ জন পাশ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশের হার মাত্র ২৩.৫২%। এই হার স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিগত তিন বছরের পাশের হার বিশ্লেষণ করলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে এই বিদ্যালয়ে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন (৫২.৯৪%) পাশ করেছিল, যা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন (৬৩.৬৩%) পাশ করলেও, ২০২৫ সালে এসে পাশের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২৩.৫২% এ নেমে এসেছে। এই তিন বছরের গড় পাশের হার ৪৬.৬৯%। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ জনই ছিল ২০২৪ সালে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী।
স্থানীয় অভিভাবকরা এই খারাপ ফলাফলের জন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উদাসীনতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, কোচিং বাণিজ্য এবং নিয়মিত পাঠদানে অনীহাকে দায়ী করছেন। তারা আরও বলছেন, বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণে প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০১৪ সাল থেকে আলীকদম সেনা জোন বিদ্যালয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও, অবৈধ উপায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টি কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে পারছে না। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টি এখন কোচিংজীবীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাক্ষেত্রে অবদানকারীদের পরিকল্পিতভাবে কমিটি থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার দুপুরে এ বিষয়ে আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন একজন স্থানীয় সাংবাদিককে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি না থাকলেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষক না থাকার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে বেতন স্বল্পতার কারণে ভালো শিক্ষক রাখা যায় না।
তবে, শিক্ষক স্বল্পতার এই অজুহাত স্থানীয়দের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, কেননা প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা আলীকদমের পিছিয়ে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষার সামগ্রিক চিত্রকেই তুলে ধরছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আলীকদমের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :