অপহরণের ৯ দিন পর মায়ানমার থেকে উদ্ধার দুলাল মিয়া: ইয়াবা ছিনতাইয়ের প্রতিশোধ দাবি অপহরণকারীদের


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৫, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন /
অপহরণের ৯ দিন পর মায়ানমার থেকে উদ্ধার দুলাল মিয়া: ইয়াবা ছিনতাইয়ের প্রতিশোধ দাবি অপহরণকারীদের

আলীকদম, ১১ জুন ২০২৫: বান্দরবানের আলীকদম থেকে অপহৃত যুবক দুলাল মিয়াকে (৩৬) অপহরণের ৯ দিন পর বুধবার (১১ জুন ২০২৫) দুপুরে মায়ানমারের অভ্যন্তর থেকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি)  একটি অপারেশন দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমানার আলীকদম অংশের ৭৮ নং পিলার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান ও হস্তান্তর:

আজ বুধবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে দুলাল মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এরপর বেলা আনুমানিক ২টার সময় ৩০ বিজিবির বড়বেতী ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো, ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন, বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভূট্টো, ফরিদুল আলম, ইয়াংরিং কারবারী সহ প্রায় শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে অপহৃত দুলাল মিয়াকে তার বড় ভাই হেলাল উদ্দিন ও নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কক্সবাজার রিজিয়নের রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এর সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনায় পোয়ামুহুরী বিওপি কমান্ডার নাঃ সুবেঃ হারুণ অর রশীদ এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। বিজিবি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোনো প্রকার মুক্তিপণ ছাড়াই দুলালকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অপহরণের বিস্তারিত ঘটনা:

গত ৩ জুন আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ছোটবের্তী এলাকায় পাহাড়ি গয়াল-গরু কেনার উদ্দেশ্যে গিয়ে দুলাল মিয়া নিখোঁজ হন। তার সাথে ছিলেন মনজুর আলম, যাকে দুলাল দৈনিক ১,০০০ টাকা বেতনে কাজে নিয়েছিলেন 1। মনজুর আলম বাড়িতে ফিরে এলেও দুলাল মিয়া আর ফেরেননি।

দুলাল মিয়ার বড় ভাই মো. হেলাল (৫৬) মনজুর আলমের কাছে তার ছোট ভাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মনজুর জানান, অজ্ঞাতনামা ৫ জন মুরুং সন্ত্রাসী ঘটনাস্থল থেকে দুলাল মিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। মনজুরের ভাষ্যমতে, অপহরণকারীরা গর্জনপাড়া এলাকা থেকে তাদের দুজনকে ধরে ফেলেছিল, কিন্তু তিনি কৌশলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

অপহরণের কারণ ও ইয়াবা যোগসূত্র:

উদ্ধারকালে অপহরণকারীরা দুলাল মিয়াকে অপহরণের কারণ হিসেবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, বিগত কিছুদিন আগে স্থানীয় জনৈক আবুল কাশেম, রুহুল আমিন, জিয়াউল ও প্রদীপ নামক ব্যক্তিরা তাদেরকে চেতনানাশক পানীয় দিয়ে বেহুশ করে তাদের কাছে থাকা ২৫ লক্ষ টাকার ইয়াবা ছিনতাই করে নিয়ে আসে। এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই দুলালকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অপহরণকারীরা দাবি করেছে।

ঘটনার নতুন মোড়:

এর আগে গত রবিবার (৯ জুন) আরকান এলাকার তনডং মুরুং নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহের বশে আটক করে স্থানীয় জনতা। এসময় তনডং মুরুং অপহরণকারীদের পরিচিত হওয়ার সুবাদে তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন, যা দুলালকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সফল উদ্ধার অভিযান সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। একই সাথে, অপহরণের পেছনে ইয়াবা ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে তদন্তের দাবি রাখে।