মারাইংতং : আলীকদমের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা পাহাড় চূড়া


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৩, ৮:০৭ পূর্বাহ্ন /
মারাইংতং : আলীকদমের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা পাহাড় চূড়া

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পশ্চিমে মিরিঞ্জা পর্বত রেঞ্জের একটি পাহাড় চূড়ার নাম ‘মারাইংতং’। এ উচ্চতা প্রায় ১৬৮০ ফিট। অনেকে এই পাহাড়কে মারায়ন তং জাদি/মারায়ন ডং/মারাইথং নামে চিনেন। প্রকৃতপক্ষে এটি মারাইংতং পাহাড় নামেই সমধিক পরিচিত। পাহাড়ের চূড়ায় ১৯৯১ সাল থেকে বৌদ্ধ উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় মার্মা জনগোষ্ঠী। বর্তমানে সেখানে মহামতি গৌতম বুদ্ধের এক বিশাল মূর্তি রয়েছে।

মারাইংতং চূড়ায় বৌদ্ধ জাদী

মারাইংতং পাহাড়ের চুড়া থেকে যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সেসবের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে জনবসতি। আকাশ পরিস্কার থাকলে পশ্চিম দিগন্তে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি আর পূর্ব দিগন্তের দিকে থাকালে দেখা যায় এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে মাতামুহুরী নদী। তার দুই কোলে দেখা যায় ফসলের ক্ষেত।

এই পাহাড়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠতে হাঁটতে হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা। ট্রেইলের শুরু থেকে একদম চূড়া পর্যন্ত পুরোটাই খাড়া রাস্তা। বর্তমানে জাদিটি পূর্ণসংস্কারের কাজ চলছে। মারাইং তং পাহাড়ে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। এদের মধ্যে মুরুং সম্প্রদায় অন্যতম।

মারাইংতং থেকে পূর্ব দিকের সৌন্দর্য

এই পাহাড়ের নিচে থাকে মার্মারা আর পাহাড়ের ভাজে ভাজে রয়েছে মুরুংদের পাড়া। পাহাড়ের ঢালে ঢালে তাদের বাড়ি। মাটি থেকে সামান্য ওপরে এদের টংঘর। এসব ঘরের নিচে থাকে বিভিন্ন গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি। কখনো কখনো প্রয়োজনীয় জ্বালানী কাঠও স্তুপ করে রাখা হয়।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক নোমান বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পরে যখন চূড়ায় উঠি সব কষ্ট নিমিষেই ভুলে যাই। প্রকৃতির রূপ যে এতো সুন্দর এইখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না।

মারাইংতং থেকে সূর্যাস্ত

মারাইংতং চুড়া থেকে দেখা যায়, বিকেলে সূর্য যখন পাহাড়ের কোলে ঢলে পড়ে তখন পশ্চিমাকাশে রক্তিমাভা রূপ দেখা যায়। মনে হয় পাহাড় নিজের ছায়াতলে খুব সযত্নে আলতো করে সূর্যটাকে লুকিয়ে রেখে দিচ্ছে। বিকেলের স্নিগ্ধ আলো আর সন্ধ্যার রক্তিম আকাশের মিষ্টি আবহ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানরত সবাইকে গভীরভাবে আলিঙ্গন করে দেয়।

মারাংইংতং এর অপার সৌন্দর্য

চারদিকে স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার সময়টাতে চূড়ায় থাকা সবাই খুব গভীরভাবে অনুভব করেন। যারা খুব কাছ থেকে প্রকৃতির হিংস্রা রূপ দেখেছেন তারাই আবার প্রকৃতির করুনা উপভোগ করেন। ।

মারাইতং আলীকদমের পর্যটন সম্ভাবনাকে দিন দিন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এসে ক্যাম্পিং করে এই সৌন্দর্য উপভোগ করছে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আলীকদম বাসস্ট্যান্ড সরাসরি বাস আছে। আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের আবাসিক রাস্তার মুখে নেমে মারাইংতং যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে বাইক নিয়েও পাহাড় চুড়ায় উঠা যায়। কক্সবাজারের চকরিয়া বাস স্টেশন থেকেও আলীকদমগামী বাস অথবা জীপে করে আবাসিক রাস্তায় মাথায় নেমে মাইরাংতং চূড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া যায়। আবাসিক রাস্তা ধরে দুই ঘণ্টা হাঁটলেই মারাইং তং চূড়ায় পৌঁছে যায়। ।

সাবধানতাঃ মারাইং তং ট্রেকিং এ পানি, গ্লুকোজ, স্যালাইন, শুকনো খাবার, ফাস্ট এইড বক্স, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে নেবেন। বর্তমানে চুড়ায় একটি দুইটি দোকান রয়েছে, প্রায় সব কিছু পাওয়া যায় তবে দাম তুলনামুলক বেশি। রান্না করতে চাইলে প্রয়োজনীয় উপকরণ ম্যাচকাঠি ও জ্বালানি নিয়ে যাবেন। রাতে ক্যাম্পিং করতে চাইলে তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, হালকা চাদর নিযে যাবেন। তাছাড়া ওখানে থাকা দোকান থেকে এসব জিনিস ভাড়াও পাওয়া যায়। বিষেশজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী হার্ট ও শ্বাসকষ্ট আক্রান্তদের এ ট্রেকিং না করাই ভালো।

নির্দেশনাঃ ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখবেন।

বিশেষ অনুরোধঃ অনুগ্রহ করে অপচনশীল দ্রব্য যেমন চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা ঝর্ণা এলাকায় ফেলবেন না। খাবারের অপচনশীল মোড়কগুলো সঙ্গে নেওয়া ব্যাগে করে নিয়ে আসুন। সম্ভব হলে অন্যদের ফেলে দেওয়া মোড়কগুলোও কুড়িয়ে পরিচ্ছন্ন করুন। মনে রাখবেন পাহাড়-প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব সকলের।

======================================
লেখক:
মমতাজ উদ্দিন আহমদ,
সভাপতি,
আলীকদম প্রেসক্লাব
বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
মোবাইল: 0155656126 / 01645950296
email: momtaj.news@gmail.com

======================================