
বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আলীকদম মুরুং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেনা জোন সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা সেনা সহায়তায় শিক্ষার্জন করে যাতে ভালো মানুষ হয় এবং তারা সমাজ ও দেশের মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সে জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আলীকদম মুরুং কমপ্লেক্সে আয়োজিত শীতবস্ত্র ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আলীকদম সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের ১৩০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের শীতের সুয়েটার, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালী দুঃস্থ জনসাধারণের মাঝে সেনা জোনের উদ্যোগে ৩৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
শীতবস্ত্র ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শওকাতুল মোনায়েম পিএসসি, সহকারি কমিশনার (ভূমি) জিল্লুর রহমান, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তবিদুর রহমান, আলীকদম প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ। এছাড়াও বিভিন্ন পদবীর সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও মুরুং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আলীকদম উপজেলার অবহেলিত ও বঞ্চিত মুরুং জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তোলার প্রয়াসে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে ‘আলীকদম মুরুং কল্যাণ ছাত্রাবাস’ প্রতিষ্ঠা করেছিল আলীকদম জোন। তৎসময়ে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজুর রহমান ও আলীকদম জোনের সাবেক জোন কমাণ্ডার লেঃ কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, পিএসসি, এলএসসির আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ ছাত্রাবাসটির গোড়াপত্তন হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরেই আলীকদম জোনের সাবেক এবং বর্তমান অধিনায়কগণ পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া মুরুং জনগোষ্ঠীর ছেলে মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি আলীকদম সেনা জোন এ ছাত্রাবাসটির ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ও ছাত্রাবাসের যাবতীয় খোরপোশ অব্যাহত রেখেছে। ছাত্রাবাসটি বর্তমানে পুরো বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অন্যতম একটি ম্রো ছাত্রাবাস হিসেবে রূপ নিয়েছে।

এ ধারাবাহিকতায় চলতি শীত মৌসুমে ছাত্রাবাসটির ১৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শীতের সুয়েটার, স্কুল ব্যাগ, শিক্ষা সহায়ক ও খেলাধুলা সামগ্রী এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি বলেন, ‘আলীকদম মুরুং কমপ্লেক্স ও ছাত্রাবাসের মান আরো উন্নত করা যায়, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি, থাকবো। আমরা প্রার্থনা করি, আজকের এই শিশুরা যেন ভবিষ্যতে দেশপ্রেমে উদ্বুব্ধ হয়ে ভালো মানুষ হয়। ম্রো শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে চমৎকার সব পেশায় যাবে এবং নিজ সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের জন্য তারা অবদান রাখবে’ বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির পুরো বক্তব্য:
https://web.facebook.com/momtaj.u.ahamad/videos/389263173717954
আপনার মতামত লিখুন :