সাইংপ্রা ঝর্ণা : আলীকদম উপজেলার এক বুনো ঝর্ণা!


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ১:৪০ অপরাহ্ন /
সাইংপ্রা ঝর্ণা : আলীকদম উপজেলার এক বুনো ঝর্ণা!

এপিসি ডেস্ক:

আলীকদম উপজেলার পূর্ব দিগন্তের চিম্বুক রেঞ্জের কির্সতং পাহাড়ের কাছে অবস্থিত অপরূপ একটি ঝর্ণার নাম ‘সাইংপ্রা ঝর্ণা’। এটি একটি বুনো ঝর্ণা। অফ রুটের এই ঝর্ণার সর্বমোট ৪-৫ টি ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপ দেখতে খুবই মনোহর।

ক্রিসতং (কির্সতং) ও রংরাং পাহাড় সামিট করার ট্যুর প্ল্যানে সাইংপ্রা ঝর্ণা যুক্ত করে নেন অনেকে। বুনো ট্রেইলে পাহাড়কে অনুভব করতে তাই অনেক ট্রেকার সাইংপ্রা ঝর্ণা তাদের ট্যুরে যুক্ত করে নেন। মেনিয়াংক পাড়া থেকে রংরাং কির্সতং সামিটের পরে খেমচং পাড়া থেকে এই ঝর্ণাতে যাওয়ার পথটা যেমন ভয়ানক ঠিক ততটাই সুন্দর।

প্রথমেই খাড়া একটা পাহাড় ধরে শুধুই নেমে যাওয়া। এরপরেই শুরু হবে সাইংপ্রা ট্রেইল। ভয়কর সব বড় বড় বোল্ডারের পিচ্ছিল সাইংপ্রা ট্রেইল। পিচ্ছিল এই ট্রেইলে পাথরগুলোর উপর ভর করে দাঁড়ানো দায়।

একটা সময়ে শুধুই উঠে যাওয়। উঠতে উঠতে এক সময় সাইংপ্রা ঝর্ণার দেখা মিলবে!

সাইংপ্রা ঝর্ণা: ৩নং ধাপ

সাইংপ্রা ঝর্ণা যাওয়ার উপায়:

ঢাকা থেকে আলীকদম যেতে হবে প্রথমে। সরাসরি আলীকদমের বাস না পেলে কক্সবাজারের যেকোনো বাসে উঠে চকোরিয় নামতে হবে। সেখান থেকে আলীকদম এসে বাস স্টেশন থেকে গাইড ঠিক করতে হবে। গাইডের খরচ খুব বেশি না। দরদাম করে নিতে হবে যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট ফি নেই। সেখান থেকে বাইক বা চান্দের গাড়িতে করে ১৩ কিলো যেতে হবে। সেখান থেকে নেমে দুছরী বাজার যাবেন। অথবা আমতলী ঘাট থেকে তৈনখালের উজানে নৌকাযোগে দুছরী বাজারে যাবেন। দোছরী বাজার থেকে ট্রেকিং করে মেনকিউ পাড়া যাবেন। সেখান থেকে মেনিয়াক পাড়া। রাতে মেনিয়াক পাড়ায় থাকতে হবে।

পরেরদিন সকালে মেনিয়াক পাড়া থেকে দেড় ঘন্টা হাঁটলেই রুংরাং পাহাড়। আর তারপরেই খেমচং পাড়া। খেমচং পাড়া থেকে সাইংপ্রা ঝর্ণার ট্রেক শুরু। যেহেতু পথ দুর্গম এবং অনেক সময়ের ব্যাপার তাই খুব সকালেই ঝর্নার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে যাতে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা যায়। এরপর আবার আলীকদম যার যার গন্তব্যে…।

বর্তমানে আলীকদমের যেকোন পর্যটন স্পটে যেতে হলে গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা:

রাতে ম্রো পাড়াতেই থাকা যাবে। এর জন্য পাড়ার কারবারীর সাথে প্রথমেই কথা বলে নিতে হবে। পাড়া কার্বারী অতিথিদের রাখার ব্যবস্থা করে দেন।

সতর্কতা এবং প্রস্তুতি:

পাহাড়ি রাস্তায় হাটলে, শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। আর সবসময় কাছাকাছি পানির সোর্স নাও থাকরে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সাথে রাখতে হবে। সাথে স্যালাইন, গ্লুকোজ থাকলে ভাল। অতি দূর্গম এরিয়, তাই খাবার সোর্স কম। আপনি চাইলেই দোকান থেকে খাবার কিনে খেতে পারবেন না, সেই অপশন নেই এখানে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার সাথে করে নিয়ে যাওয়া ভালো। ম্যালেরিয় প্রবণ এরিয়া, তাই ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক ওষুধ নিন। অফ রোডে ট্রেকিং করতে হবে। সেক্ষেত্রে লোকাল গাইড নিতে হবে। পাহাড়ি ট্রেইল ধরে হাটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই একটি ট্রেকিং স্টিক বেশ কাজের জিনিস। রাতে ট্রেক এর জন্য একটি হ্যাডল্যাম্প আদর্শ।

সাইংপ্রা ঝর্না যেহেতু একটু দুর্গম জায়গায় অবস্থিত তাই এই ট্রেকটি সহজতর নয়। প্রতিদিন রোদ বৃষ্টি মাথায় করে ব্যাকপ্যাক কাঁধে ৮/১০ ঘণ্টা করে ট্রেক করতে হবে। ঝামেলা হলে রাতেও ট্রেক করতে হতে পারে। ট্রেকিং এর সময় ভারি খাবার পাওয়া যাবে না এটাও মাথায় রাখতে হবে।

একনজরে দেখে নিন ট্রেকিং এ যেসব জিনিস অবশ্যই সাথে নিতে হবে

* ব্যাকপ্যাক– অবশ্যই ভালো মানের ট্রেকিং ব্যাগ যা দীর্ঘক্ষণ ট্রেকিংয়েও পিঠ ঘামাবে না এবং কোমরের উপরে চাপ সৃষ্টি করবে না। বর্ষায় ট্রেকিং করতে হলে রেইন কভার কিংবা পলিথিন নিন।

* ট্রেকিং প্যান্ট এবং ট্রেকিং স্যান্ডেল বা সু।

* শুকনা খাবার।

* হেড ল্যাম্প।

* গামছা।

* পানির বোতল।

* মশার ওষুধ, স্যালাইন, গ্লুকোজ।

* এন আই ডি কিংবা স্টুডেন্ট আই ডি কার্ডের ফটোকপি ২ টা।