শান্তি চুক্তির ২৬তম বর্ষপূর্তিতে আলীকদমে র‌্যালী ও আলোচনা সভা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২৩, ৩:৫৩ অপরাহ্ন /
শান্তি চুক্তির ২৬তম বর্ষপূর্তিতে আলীকদমে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২৬তম বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলীকদম সেনাজোন (৩১বীর) এর উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালীতে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মিলনমেলা ঘটে। এটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান রাজপথগুলি প্রদক্ষিণ করে।

এতে নেতৃত্ব দেন আলীকদম সেনা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শওকাতুল মোনায়েম, পিএসসি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জোনের উপ-অধিনায়ক, লামা ও আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়, ইউএনও, মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শান্তির পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী বের হয়। র‌্যালী শেষে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত প্যান্ডেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালিতে আলীকদম উপজেলায় বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় ও বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্যগত বর্ণিল পোশাক, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিরপেশার লোকজন এই র‍্যালিতে স্বতস্ফুর্ত যোগ দেন।

দিবসটি উপলক্ষে সেনাজোনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার পাশাপাশি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শওকাতুল মোনায়েম, পিএসসি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাবের মো. সোয়াইব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দীন, লামা পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অংশেথোয়াই মার্মা, উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল মান্নান, ভাইস চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন,  ও কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো।

জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শওকাতুল মোনায়েম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পরবর্তী সময়ে জেলায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে পর্যটন স্পট রয়েছে। সেগুলো সঠিকভাবে বিকাশ করতে পারলে এ খাতে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এতে করে রাষ্ট্র যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি পর্যটন বিকাশের ফলে স্থানীয় পাহাড়ি জনসাধারণের একটি বিরাট অংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেকাংশে কমে যাবে।

জোন কমাণ্ডার বলেন, সেনাবাহিনী জনগণের বন্ধু। সেনাবাহিনীকে কারো প্রতিপক্ষ না। সকলে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা হবে না। আলীকদম এবং লামা এলাকাবাসী কোন সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।