‘লাদমেরাগ’: বনের ঘনছায়ায় নিভৃত লতাবিতানে রুনুঝুনু শব্দতরঙ্গের ঝর্ণা


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ২:৪৪ অপরাহ্ন /
‘লাদমেরাগ’: বনের ঘনছায়ায় নিভৃত লতাবিতানে রুনুঝুনু শব্দতরঙ্গের ঝর্ণা

মমতাজ উদ্দিন আহমদ:

বনের ঘনছায়ায় নিভৃত লতাবিতানে রুনুঝুনু শব্দতরঙ্গে বয়ে চলা আরেক সুন্দরি ঝর্ণার নাম লাদমেরাগ। এর অবিশ্রান্ত ঝর্ণাধারা ঘন অরণ্যানী ভেদ করে তার সবটুকু পানি ঢেলে দিচ্ছে তৈনখালের বুকে। এ দৃশ্য বড়ই মনোহর। যেন নিজেকে বিকিয়ে রিক্ত হচ্ছে এ ঝর্ণারাণী। তবে এটি রিক্ততা নয়, বৃহত্তের সঙ্গে ক্ষুদ্রের মিশে যাওয়া!

লাদমেরাগ ঝর্ণার অবস্থান বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার তৈনখালের উজানে। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে পানি। এ ঝর্ণার চারিধারে যে-সৌন্দর্য তা খুব বেশী মানুষ দেখেনি। তার যে গহণ নিস্তব্ধতা এর আগে খুব বেশী পর্যটক অনুভব করেনি।

জনমানবহীন নিবিড় পাহাড়ের বুকে লাদমেরাগ ঝর্ণার বয়ে চলা অনেককাল আগের। তবে এটি পর্যটকদের নজরে এসেছে খুব বেশিদিন হয়নি। যোগাযোগ দুর্গমতা আর দুরত্ব লাদমেরাগে পৌঁছানোর পথে বাঁধা। তবে এ বাঁধাকে জয় করে চলেছে দেশের উদ্যোমী তরুণ পর্যটকরা।

#যাতায়াতঃ রুট-১ঃ দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে আলীকদম। এরপর পানবাজার>আমতলী ঘাটে গিয়ে তৈনখালে নৌকায় চড়ে দোছরি বাজার। এরপর তৈনখাল পথে দোছরি বাজার>থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা>হাজরাম পাড়া>পালংখিয়াং ঝর্ণা>লাদমেরাগ ঝর্ণা।

#রুট– ২ঃ এরপর আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিঃ মিঃ। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে দোছরি বাজার>থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা>হাজরাম পাড়া>পালংখিয়াং ঝর্ণা>লাদমেরাগ ঝর্ণা। দোছরী বাজার থেকে তৈনখাল দিয়ে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ঘন্টা লাগবে লাদমেরাগ ঝর্ণায় পৌঁছতে।

#অন্যান্য_তথ্যঃ আমতলি ঘাট থেকে দোছরি বাজার পর্যন্ত ইঞ্জিন বোটে সময় লাগবে কমপক্ষে দুইঘন্টা। বাজার ঘাটে নেমে তৈন খালের উজানে ট্রেক করতে হবে। হাঁটার প্রথম ১.৩০ মিনিটের মধ্যে দেখা যাবে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা, যেটা হাজরাম পাড়ার নিচে। ঝর্ণা দেখা শেষ হলে হাজরাম পাড়া যাওয়ার জন্য পাহাড় ডিঙ্গাতে হবে। এর নিচে খুম থাকায় সহজে পার হওয়া যায় না। অনেকে সুবিধার জন্য হাজরাম পাড়ায় রাত্রিযাপন করেন। পরদিন সকালে আরো উজানে যেতে থাকবেন। তিন ঘন্টা হাঁটার পর পাওয়া যাবে আরেক রূপসী ঝর্ণা পালংখিয়াং। এখান থেকে আরো এক ঘন্টা হাঁটার পর দেখা মিলবে কাঙ্খিত লাদমেরাগ ঝর্ণা। তৈনখালের উজানে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা>পালং খিয়াং ঝর্ণা>লাদ মেরাগ ঝর্ণা একই সফরে দেখা যায়। তবে সেক্ষেত্রে ৪/৫দিন সময় নিয়ে ট্যুর প্লান করতে হবে।

***#নিবেদনঃ এসব ঝর্ণা-জলপ্রপাত আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলোর পরিবেশ অক্ষত রাখার দায়িত্ব সকলের। আমরা ঝর্ণা-জলপ্রপাতে গিয়ে সেখানে কখনো অপচনশীল দ্রব্যাদি ফেলে আসবো না। পরিবেশের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

#প্রতিবেদন: মমতাজ উদ্দিন আহমদ, সভাপতি, আলীকদম প্রেসক্লাব, বান্দরবান। 01556560126