
।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।
আলীকদমে প্রকৃতির কোলে দামতুয়া ঝর্ণা যেন শুধুই মুগ্ধতা। এ মুগ্ধতার বর্ণনা দেওয়া যায় না। দু’পাশের খাড়া পাথুরে দেয়াল বেয়ে কলকল্, ঝমঝম রবে উন্মাতাল স্রোতে গড়িয়ে পড়ছে দামতুয়া ঝর্ণার পানি। পাহাড়ের নিস্তব্ধতার মাঝে শোনা যায় একটি বিমুগ্ধ সুরের অনুরনণ।
দামতুয়া ঝর্ণা প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। এ ঝর্ণার আকৃতি ও গঠনশৈলী মনোমুগ্ধকর। এটি দেশের অন্যতম বড় ঝর্ণাও বটে। এ ঝর্ণার পানি পাহাড়ের ওপর থেকে তীব্র স্রোত ছিটকে পড়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ দেখে মনে হয় যেন পাহাড়ের গভীরে পুঞ্জিভূত মেঘরাশি!
প্রকৃতির এই আকর্ষণীয় সুন্দর রূপ পরিশ্রম ছাড়া দেখা সম্ভব নয়। দামতুয়া ঝর্ণার রাস্তাটি বেশ দুর্গম এবং দুঃসাহসিক। এ ঝর্ণার শীতল জলে ভিজতে চাইলে প্রায় ১২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়।

আলীকদম উপজেলার ঝর্ণা ও জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দামতুয়া ঝর্ণা। ঘনঘোর বর্ষায় পানির তীব্র স্রোত দেখা যায় দামতুয়ায়। শুষ্ক মৌসুমে পানি সামান্য কম হলেও এ ঝর্ণার স্রোত থাকে সবসময় বহমান। তবে বর্ষাকালে প্রকৃতির এই অপূর্ব নিদর্শনে আসে তারুণ্য। বর্ষায় পানিতে এই সৌন্দর্যের রাণী পর্যটকদের বরণ করতে নিজের আছল বিছিয়ে দেয়! সবুজ পাহাড়ের অন্তহীন নিস্তব্ধতায় এ ঝরনার অবিরত গুঞ্জন ভ্রমণ পিপাসুদের শিহরিত করে।
২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে এ ঝর্ণাটি ভ্রমণ পিপাষুদের নজরে আসে অনিন্দ্য সুন্দর এ ঝর্ণাটি।
পাহাড়ি রাস্তা ও ঝিরি পথ দিয়ে কমপক্ষে ৩ ঘন্টা হেঁটে দামতুয়া ঝর্ণায় পৌঁছুতে হয়। এ রাস্তা কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ ঝর্ণার উপচেপড়া ভরাযৌবন দেখার মোক্ষম সময় শুরু হয় বর্ষায়।

সবুজ পাহাড়ের মাঝে অন্তর্বিহীন মৌন নিস্তব্ধতার মাঝে এ ঝর্ণারাণী আছল বিছিয়ে রেখেছে সর্বক্ষণ পর্যটকদের অভ্যার্থনা জানাতে! তাই সবুজের টানে প্রাণের উচ্ছ্বাসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সারাবছর এ ঝর্ণার আছলে নিজেকে সপে দিতে ছুটে আসেন।
======================================
লেখক:
মমতাজ উদ্দিন আহমদ,
সভাপতি,
আলীকদম প্রেসক্লাব
বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
মোবাইল: 0155656126 / 01645950296
email: momtaj.news@gmail.com
======================================
আপনার মতামত লিখুন :