দামতুয়া ঝর্ণা : নামের মাঝেই রয়েছে মুগ্ধতা!


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২৩, ৭:০২ পূর্বাহ্ন /
দামতুয়া ঝর্ণা : নামের মাঝেই রয়েছে মুগ্ধতা!

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।

আলীকদমে প্রকৃতির কোলে দামতুয়া ঝর্ণা যেন শুধুই মুগ্ধতা। এ মুগ্ধতার বর্ণনা দেওয়া যায় না। দু’পাশের খাড়া পাথুরে দেয়াল বেয়ে কলকল্, ঝমঝম রবে উন্মাতাল স্রোতে গড়িয়ে পড়ছে দামতুয়া ঝর্ণার পানি। পাহাড়ের নিস্তব্ধতার মাঝে শোনা যায় একটি বিমুগ্ধ সুরের অনুরনণ।

দামতুয়া ঝর্ণা প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। এ ঝর্ণার আকৃতি ও গঠনশৈলী মনোমুগ্ধকর। এটি দেশের অন্যতম বড় ঝর্ণাও বটে। এ ঝর্ণার পানি পাহাড়ের ওপর থেকে তীব্র স্রোত ছিটকে পড়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ দেখে মনে হয় যেন পাহাড়ের গভীরে পুঞ্জিভূত মেঘরাশি!

প্রকৃতির এই আকর্ষণীয় সুন্দর রূপ পরিশ্রম ছাড়া দেখা সম্ভব নয়। দামতুয়া ঝর্ণার রাস্তাটি বেশ দুর্গম এবং দুঃসাহসিক। এ ঝর্ণার শীতল জলে ভিজতে চাইলে প্রায় ১২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়।

ভরা বর্ষায় উন্মাতাল দামতুয়া ঝর্ণার জলরাশি।

আলীকদম উপজেলার ঝর্ণা ও জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে দামতুয়া ঝর্ণা। ঘনঘোর বর্ষায় পানির তীব্র স্রোত দেখা যায় দামতুয়ায়। শুষ্ক মৌসুমে পানি সামান্য কম হলেও এ ঝর্ণার স্রোত থাকে সবসময় বহমান। তবে বর্ষাকালে প্রকৃতির এই অপূর্ব নিদর্শনে আসে তারুণ্য। বর্ষায় পানিতে এই সৌন্দর্যের রাণী পর্যটকদের বরণ করতে নিজের আছল বিছিয়ে দেয়! সবুজ পাহাড়ের অন্তহীন নিস্তব্ধতায় এ ঝরনার অবিরত গুঞ্জন ভ্রমণ পিপাসুদের শিহরিত করে।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে এ ঝর্ণাটি ভ্রমণ পিপাষুদের নজরে আসে অনিন্দ্য সুন্দর এ ঝর্ণাটি।

পাহাড়ি রাস্তা ও ঝিরি পথ দিয়ে কমপক্ষে ৩ ঘন্টা হেঁটে দামতুয়া ঝর্ণায় পৌঁছুতে হয়। এ রাস্তা কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ ঝর্ণার উপচেপড়া ভরাযৌবন দেখার মোক্ষম সময় শুরু হয় বর্ষায়।

দামতুয়া যেতে পথের মধ্যভাগে পড়ে পামিয়া মুরুং পাড়া। সবুজাভ প্রকৃতির মাঝে যেন শান্তি নীড়

সবুজ পাহাড়ের মাঝে অন্তর্বিহীন মৌন নিস্তব্ধতার মাঝে এ ঝর্ণারাণী আছল বিছিয়ে রেখেছে সর্বক্ষণ পর্যটকদের অভ্যার্থনা জানাতে! তাই সবুজের টানে প্রাণের উচ্ছ্বাসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সারাবছর এ ঝর্ণার আছলে নিজেকে সপে দিতে ছুটে আসেন।

  • কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদম উপজেলায় হানিফ এবং এস.আলম পরিবহনের বাস চলাচল করে। আলীকদম বাস স্টেশন থেকে প্রথমে পান বাজার যাবেন। পান বাজার থেকে মোটরবাইক-চান্দের গাড়িতে সরাসরি সতেরো কিলো এলাকায় আদু পাড়া দিয়ে দামতুয়া ঝর্ণায় যেতে হয়।
  • গাইড পাবেন কোথায়ঃ সতেরো কিলো এলাকার চায়ের দোকানিদের সাহায্য নেবেন। অথব আলীকদম বাস স্টেশন নেমে গাইড এসোশিয়েশন অফিসেও যোগাযোগ করতে পারেন।।
  • নির্দেশনাঃ ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি রাখবেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, খেজুর, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন।
  • বিশেষ অনুরোধঃ অনুগ্রহ করে খাবারের অপচনশীল মোড়কগুলো সঙ্গে নেওয়া ব্যাগে করে নিয়ে আসুন। সম্ভব হলে অন্যদের ফেলে দেওয়া মোড়কগুলোও কুড়িয়ে পরিচ্ছন্ন করুন। মনে রাখবেন এই দেশ আমাদের, সুতরাং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করাও আমাদের
  • সতর্কতা: দামতুয়া ঝর্ণায় যাওয়ার সময় পানীয় জল, হালকা শুকনো খাবার সাথে নেয়া প্রয়োজন। অপচনশীল দ্রব্য যেমন চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা ঝর্ণা এলাকায় ফেলবেন না। বর্ষা মৌসুমে ঝর্ণার পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন। ঝর্ণায় যাওয়ার পথ দুর্গম। শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের না নেওয়ায় সঙ্গত।

======================================
লেখক:
মমতাজ উদ্দিন আহমদ,
সভাপতি,
আলীকদম প্রেসক্লাব
বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
মোবাইল: 0155656126 / 01645950296
email: momtaj.news@gmail.com

======================================