‘তিনাম ঝর্ণা’: আলীকদমের গহিন পাহাড়ে আরেক বিস্ময়!


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ১২:৪৬ অপরাহ্ন /
‘তিনাম ঝর্ণা’: আলীকদমের গহিন পাহাড়ে আরেক বিস্ময়!

মমতাজ উদ্দিন আহমদ: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গহিন পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া আরেক বিস্ময়ের নাম ‘তিনাম ঝর্ণা’। এত দিন পর্যটকদের অজানাই ছিল ঝর্ণাটির নাম। সম্প্রতি চার পর্যটক ঝর্ণাটির খোঁজ পেয়ে সেখানে যান। এ ঝর্ণাটি আলীকদম উপজেলা সদর থেকে মাতামুহুরী নদীপথে অন্তত ৫০ কিলোমিটার দূরে পোয়ামুহুরী এলাকায়।

গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে আসা চার পর্যটক আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী এলাকার ‘রূপমুহুরী ঝর্ণা’ দেখতে যান। আলীকদমে নবনির্মিত শৈলকুঠি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় তাদেরকে মাতামুহুরী নৌপথে রূপমুহুরী ঝর্ণায় পাঠানো হয়। সেখানে তারা স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে জানতে পারেন পোয়ামুহুরী থেকে নৌপথে ৩০ মিনিটের দূরত্বে আরেকটি ঝর্ণা আছে। নাম তার ‘তিনাম ঝর্ণা’। যেখানে এ পর্যন্ত কোনো পর্যটক যাননি! লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এ ঝর্ণা দেখতে উৎসুক হন চার পর্যটক।

এ পর্যটক দলের প্রধান ঢাকার শনিরআখড়া পলাশপুর-দনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহসিন হোসেন জানান, ‘তিনাম’ অনেক সুন্দর একটি ঝর্ণা। এ ঝর্ণার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাশাপাশি দু’টি স্রোত। অন্তত দেড় শ’ ফুট উঁচু পাহাড়ের খাদ বেয়ে দু’টি ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ছে নিচে। ঝর্ণা দু’টির পানি যেখানে পড়ছে সেখানে জলাশয় রয়েছে। জলাশয়ের পাশে রয়েছে পাশাপাশি দু’টি সুড়ঙ্গ! স্থানীয়দের কয়েকজন তাদের জানান, এটির নাম ‘তিনাম ঝর্ণা’।

শ্রাবণ শেষে ভাদ্রের মাঝামাঝিতেও প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ ঝর্ণার উপচে পড়া যৌবনে ভাটা পড়েনি। পর্যটক মোহসিনের মতো তার অন্য সতীর্থরা জানান, এ ঝর্ণার রূপ দেখার মোক্ষম সময় এখনই! সবুজ পাহাড়ের নিস্তব্ধতায় তিনাম ঝর্ণা যেন আঁচল বিছিয়ে রেখেছে পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাতে! পার্বত্যাঞ্চলের অন্যান্য নান্দনিক ঝর্ণা থেকে নিঃসন্দেহে তিনাম ঝর্ণার রূপ-বৈচিত্র্য মনোমুগ্ধকর।

তিনাম ঝর্ণা দেখতে গিয়ে একই সাথে পর্যটকেরা দেখতে পারবেন রূপমুহুরী ঝর্ণা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সন্ধান পাওয়া দামতুয়া ঝর্ণা ও জলপ্রপাত দেখতেও ইদানীং পর্যটকেরা আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার এলাকায় যাচ্ছেন। তবে রূপমুহুরী ও তিনাম ঝর্ণার প্রাকৃতিক রূপ ও গঠনশৈলীও পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো। তা ছাড়া, ঝর্ণা দেখতে গিয়ে অন্তত ৫০ কিলোমিটার নৌপথে মাতামুহুরী নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে আলীকদমে সরাসরি শ্যামলী ও হানিফ পরিবহনের বাসসার্ভিস চালু আছে। অথবা কক্সবাজারের চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকেও বাস কিংবা জিপযোগে আলীকদম আসা যায়। নদীপথে যেতে হলে বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা কিংবা অটোতে করে মাতামুহুরী ব্রিজে আসতে হবে। ব্রিজের নিচে পোয়ামুহুরীগামী ইঞ্জিন বোট পাওয়া যায়। মাতামুহুরী নদীপথে পোয়ামুহুরী বাজার ঘাটে নামতে হবে। বর্ষায় ইঞ্জিন বোট ভাড়া জনপ্রতি দু শ’ টাকা ও শুষ্ক মওসুমে স্পিড বোট ভাড়া ৪-৫ শ’ টাকা। রিজার্ভ ইঞ্জিন বোট কিংবা স্পিড বোটের রিজার্ভ ভাড়া ৫-৬ হাজার টাকা পড়বে। সড়কপথে যেতে হলে চাঁদের গাড়ি কিংবা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে যেতে হবে। জীপ ভাড়া রিজার্ভ ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা নিতে পারে।

থাকার জায়গা : আলীকদম বাজারে অর্কিড রেস্টুরেন্ট এন্ড রেসিডেন্সিয়াল এবং উপজেলা সদরে দ্যা দামতুয়া ইন রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিকে থাকার সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া আলীকদমে সরকারি রেস্ট হাউজেও থাকার ব্যবস্থা আছে। ।

মনে রাখবেন : চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা নদীতে কিংবা ঝর্ণা এলাকায় ফেলবেন না। ঝর্ণা ও জলপ্রপাতগুলো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। অপচনশীল এসব আবর্জনা ফেললে পরিবেশ নষ্ট হয়। পথে জোঁক থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন। লবণ সাথে রাখলে ভালো হয়। জোঁক কামড়ালে লবণ ছিটিয়ে দিলে কাজ হয়। সিগারেটের তামাকও ব্যবহার করা যায়। ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা অতি দুর্গম। যারা পাহাড়ি পরিবেশে হাঁটতে পারেন না তারা সেখানে না গেলেই ভালো। শিশু, বয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সেখানে না নেয়াই সঙ্গত। হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা দুরূহ। কাজেই পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা না থাকলে সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই ভালো।