আলীকদমের ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’ : যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে!


Momtaj Uddin Ahamad প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৮, ২০২৩, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন /
আলীকদমের ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’ : যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে!

।। মমতাজ উদ্দিন আহমদ ।।

ওয়াংপা ঝর্ণা’ আলীকদমের পাহাড় ও ঝর্ণা প্রকৃতিতে অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত  একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন। ‘দামতুয়া ঝর্ণা ও ব্যাঙ ঝিরি জলপ্রপাতে’ পৌঁছার আগে দেখা যায় ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’। এ ঝর্ণা দেখতে হলে খাড়া পাহাড় বেয়ে নীচে নামতে হয়। অন্যদিকে ঝিরি পথে গিয়েও ওয়াংপার শীতল জলে গা এলানো যায়!

ওয়াংপা ঝর্ণার পানি খাড়া পাহাড় থেকে কয়েকটি পাথুরে ধাপ পেরিয়ে সোজা নিচে পড়েছে। ঝর্ণার দেয়ালটি পাথুরে আস্তরণ। ওয়াংপা ঝর্ণার উপরিভাগে অসংখ্য ছোট বড় পাথরের ভাজ রয়েছে।

পাহাড়ি পাথুরের ঢাল বেয়ে নামছে ওয়াংপা ঝর্ণার শীতল জল।

পাথরের স্তুপের মাঝে স্বচ্ছ পানির ধারা খুবই সুন্দর। ওপর থেকে ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’র পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য আরো মনোহর। নিচ থেকে দেখতেও ওয়াংপা ঝর্ণার পানি পড়ার দৃশ্য অপরূপ। পাহাড়ের খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে ওয়াংপা ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখতে আরো মনোহর লাগে।

প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য ওয়াংপার পুরো অবয়নজুড়ে। গহীন পাহাড়ের বুকে এ ঝর্ণার রূপ দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। জ্যোৎস্না স্নাত রাতে ওয়াংপার রূপে ভিন্নতা আসে! চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলে। রাতে ঝর্ণার অবিরত কলতানে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ছারখার করে। সেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে।

২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে স্থানীয় উদ্যমী তরুন-যুবকরা পাহাড়ের কন্দরে লুকিয়ে থাকা এ ঝর্ণা রাণীকে খুঁজে বের করে। প্রকৃতির অপার রহস্যের এ পাহাড়ি  স্রোত ধারা ওয়াংপা ঝর্ণা দেখতে হলে যেতে হয় আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটারে আদু মুরুং পাড়া এলাকায়। এ পাড়া থেকে দামতুয়া ঝর্ণায় যাওয়ার পথেই ওয়াংপা ঝর্ণার ওপরের অংশ দেখা যায়।

দূর থেকে দেখতে ওয়াংপা ঝর্ণা।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল নেমে বাস অথবা চাঁদের গাড়ি করে আলীকদম বাস ষ্টেশন নামতে হবে। আলীকদম বাস ষ্টেশন থেকে টমটমযোগে পান বাজার চলে যাবেন। পানবাজার থেকে ভাড়া চালিত বাইক ও চাদের গাড়ি পাওয়া যায়। পান বাজার থেকে ১৭ কিলোমিটার এলাকা থেকে মুরুং গাইড নিয়ে দামতুয়া ঝর্ণায় যাওয়ার পথে ওয়াংপা ঝর্ণার দেখা মিলে।

দ্বিতীয় রুটঃ ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদম উপজেলায় বাস সার্ভিস চালু আছে। হানিফ অথবা এস.আলম পরিবহনের বাসে করে সরাসির ঢাকা টু আলীকদম বাস স্টেশন। বাস স্টেশন থেকে পূর্বের নিয়ম অনুসরণ করুন।

বিশেষ সতর্কতাঃ আলীকদম-থানচি সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকায় সেনা ক্যাম্প আছে। ওখানে নাম এন্ট্রি করে যেতে হয়। এ কারণে সকলের এনআইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

মনে রাখবেন: চিপস, বিস্কুট, চনাচুর প্রভৃতির প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা ঝর্ণায় যাওয়ার পথে কিংবা ঝর্ণার পাদদেশে ফেলবেন না। পাহাড়ের ঝর্ণা ও জলপ্রপাতসমুহ স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ। অপচনশীল এসব আবর্জনা ফেললে পরিবেশ নষ্ট হয়। ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা দুর্গম। যাঁরা পাহাড়ি পরিবেশে হাঁটতে পারেন না তারা সেখানে না গেলেই ভালো। শিশু, বয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সেখানে না নেওয়ায় সঙ্গত।  হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা দুরহ। কাজেই পাহাড়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা না থাকলে সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই ভালো।